ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ৬ মে ২০২৬ ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩
গ্রামীণ সড়কের আশে পাশে দেখা গেলেও এখন বিলুপ্তির মুখে ঔষধি গাছ আকন্দ
সাব্বির মির্জা, তাড়াশ
প্রকাশ: Monday, 30 June, 2025, 12:53 PM

গ্রামীণ সড়কের আশে পাশে দেখা গেলেও এখন বিলুপ্তির মুখে ঔষধি গাছ আকন্দ

গ্রামীণ সড়কের আশে পাশে দেখা গেলেও এখন বিলুপ্তির মুখে ঔষধি গাছ আকন্দ

আদিকাল থেকেই মানবদেহের নানা রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার হয়ে আসা ভেষজ উদ্ভিদ আকন্দ। একসময় গ্রামীণ সড়কের পাশে ও বাড়ির আঙিনায় এ উদ্ভিদটি সচরাচর দেখা গেলেও এখন আর তেমন একটা দেখা যায় না।

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সংরক্ষণের অভাবে বিলুপ্তির মুখে ঔষধিগুণ সম্পন্ন আকন্দ। আধুনিক চিকিৎসার উৎকর্ষ এবং রোগীরা দ্রুত সুস্থতা পেতে এলোপ্যাথি চিকিৎসার প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার কারণে ঔষধি উদ্ভিদ প্রকৃতি থেকে হারাতে বসেছে।

আকন্দ এক প্রকারের ঔষধি গাছ। এটি একটি বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম কেলোট্রপিস গাইগেনটিয়া। তবে এ গাছটির রয়েছে নানা ঔষধি গুণ। এটি অঞ্চলভেদে নানা নামে পরিচিত। অনেকে আক্কন গাছ নামেও চেনে।

আয়ুর্বেদ শাস্ত্র ও ইউনানি চিকিৎসকদের তথ্যমতে, ঔষধি আকন্দ ব্যথনাশক ও বিষনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। উদ্দীপক, পাকস্থলীর ব্যথা, বায়ুনাশক, হজমকারক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়াও প্লীহা, দাদ, অর্শ, কৃমির সমস্যায় ও শ্বাস কষ্টের জন্য খুবই উপকারী ভেষজ ঔষধ। এ উদ্ভিদটির ফুল ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে বলে মনে করা হয়।

আকন্দ পাতা মুখের ব্রণ সমস্যায় ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়। পোকামাকড়ের কামড়ে সৃষ্ট জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করে। শরীরের ক্ষতস্থানে এর পাতা পানিতে সেদ্ধ করে ওই পানি নিয়মানুযায়ী ব্যবহার করলে ক্ষতস্থান ভালো হয়ে যায়। 

সর্দি বসে গেলে পুরনো ঘি ভালো করে বুকে মেখে তার ওপর এর পাতা দিয়ে সেক দিলে উপশম মেলে। খোসপাঁচড়া বা একজিমার ক্ষেত্রে আকন্দের কষের চার গুণ সমপরিমাণ সরিষার তেল মিশিয়ে কুসুম গরম করে খোসপাঁচড়া বা একজিমায় লাগালে উপকার পাওয়া যায়। এ ছাড়াও বাত ব্যথায় ও পা মচকে গেলে এ গাছের পাতা গরম করে সেক দিলে উপশম মেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা লুৎফর রহমান জানান, একসময় এ এলাকার সড়কের পাশে প্রচুর পরিমাণে আক্কন (আকন্দ) গাছ দেখতে পাওয়া যেত। এখন অবশ্য গাছ খুব বেশি একটা দেখা যায় না। আমাদের মায়েরা দেখতাম বাতের ব্যথায় আকন্দ গাছের পাতার সেক নিতো, এতে ব্যথা কমে যেত।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা হাদিউল হৃদয় জানান, আমরা ছেলেবেলায় দেখেছি আক্কন (আকন্দ) গাছের পাতা দিয়ে মুরব্বিরা নানা রোগে চিকিৎসা নিতো। সে সময় এ গাছগুলো সচরাচর দেখা যেত। তবে এখন আকন্দ গাছ খুব একটা দেখা যায় না। দিন দিন মানুষ আধুনিক চিকিৎসার প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার কারণে এ ধরনের ঔষধি গাছগুলো দিন দিন প্রকৃতি থেকে হারাতে বসেছে।

তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউনানি চিকিৎসক ডা. মো. রতন জানান, আকন্দ একটি উপকারী ঔষধি গাছ। এটি ভেষজ গুণ সমৃদ্ধ উদ্ভিদ। আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেষজ বাগানে এ গাছটি সংরক্ষিত আছে। তবে আগের মতো ঔষধি গাছটি এখন আর তেমন একটা দেখা যায় না।

তিনি বলেন, মানুষ হিসেবে আমাদের সকলের দায়িত্ব প্রকৃতির এ অমূল্য সম্পদগুলোকে পরিবেশে টিকিয়ে রাখা। এতে পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা পাবে এবং মানবদেহের নানা রোগ নিরাময়ে কাজে আসবে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status