ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ১১ বৈশাখ ১৪৩৩
এলিটা কিংসলির বাংলাদেশি মেয়েকে বিয়ে করার গল্প
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Wednesday, 25 June, 2025, 8:14 PM

এলিটা কিংসলির বাংলাদেশি মেয়েকে বিয়ে করার গল্প

এলিটা কিংসলির বাংলাদেশি মেয়েকে বিয়ে করার গল্প

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় এলিটা কিংসলি। নাইজেরিয়ার জন্ম হলেও এখন তিনি বাংলাদশের পাসপোর্টধারী। বাংলাদেশি নারীকে বিয়ে করে এখন এ দেশেই থিতু হয়েছেন। তবে মাঝমধ্যেই স্ত্রীকে নিয়ে নাইজেরা যান, কখনো কখনো স্ত্রী একাও নাইজেরিয়া চলে যান।

নিজের পরিবারের সঙ্গে এলিটার রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। এলিটা এই দেশে বিয়ে করেছেন। কিভাবে এই দেশের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ালেন? এ কথা বলতে গিয়ে তাঁর স্ত্রী লিজা নিজের ফেসবুকে একটি লম্বা লেখা প্রকাশ করেছেন। সেখানেই তিনি এলিটার সঙ্গে বিয়ের মুহূর্তটা তুলে ধরেছেন।
 
এলিটার সঙ্গে পরিচয়ের পূর্বে লিজা নিজের সম্পর্কে বলেছেন, ‘কোনো এক অজানা কারণে আগের সংসারটা করা হয়নি হয়তো বা বয়স কম ছিল তাই মানিয়ে চলতে পারিনি। আমি কারো দোষ দেব না, আমিও মানিয়ে নিতে পারিনি, তারাও পারেনি। চলে এসেছি বাবা-মায়ের কাছে গ্রামে। আমার ৬ মাসের বাচ্চাকে নিয়ে প্রায় এক বছর থাকলাম বাবার বাড়িতে।

গ্রামের বাড়িতেও থাকতে কষ্ট হচ্ছিল আমার। বাচ্চাকে নিয়ে আশপাশের মানুষ অনেক কথা বলত আমাকে নিয়ে। বড়লোক স্বামীর বাড়ি ছেড়ে চলে আসছি এমন অনেক কথা। তখন আমার বড় ভাই মাত্র চাকরিতে জয়েন করেছে, বেতন ছিল ২৫০০ টাকা।’ 

নিজের সংগ্রামী জীবনের কথা তুলে ধরে লিজা লিখেছেন, ‘ভাই যখন দেখল বোন এখানে ভালো নেই। মাকে বলল, ছোট একটা বাসা ভাড়া নিই। আমার বাবার কিন্তু গ্রামে মোটামুটি জমি ভালোই ছিল কিন্তু বাবার কাঁচা টাকা ছিল না।  যাহোক ভাইয়া, মা, আমরা সবাই সিদ্ধান্ত নিলাম ভাইয়া যেখানে চাকরি করে ওখানে ছোট্ট একটা বাসা নেব। তারপর ভাইয়া একটা বাসা নিল। একটা বড় রুম সাথে ছোট্ট একটা রুম। একটা বাথরুম একজন দাঁড়ানোর মতো ছোট্ট রান্নাঘর। বাসা ঠিক করায় পরে চলে আসলাম আমরা ৩ ভাই বোন ও মা।’

লিজা বলেন, ‘বাবার অনুমোদন ছাড়া মা আমাদের নিয়ে চলে আসছে। কারণ বাবা বাড়ি ছাড়তে চায়নি কখনো। যাহোক চলে আসছি ভাইয়ার ওই বেতন আর বাবার কিছু টাকা দিয়ে আমাদের সংসার চলত কোনো রকমে। আমার ভাই আর আমার মা আমার জন্য আর আমার বাচ্চার জন্য এত বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এভাবেই চলে গেল ৪-৫ বছর। বাচ্চা তো বড় হচ্ছে তাকে তো স্কুলে দিতে হবে তার মধ্যে আমার ভাইয়া ঢাকায় বদলি হয়ে এলো। বাবাও এখন আমাদের সাথে থাকে পরিবার ছাড়া। একা কত দিন থাকবে যাহোক সবাই মিলে ঢাকায় ২ বেড রুমের একটা বাসা নিলাম। সাথে আমিও একটা চাকরি পেয়েছি এবং বাচ্চাকে স্কুলে ভর্তি করিয়েছি।’

ভাইয়ের সংসার থেকেও সরে যেতে হলো জানিয়ে লিখে বলেন, ‘২২-২৩ বছরের একটা মেয়ে বাবা বাড়িতে থাকে একটা বাচ্চা নিয়ে, এটা অনেকেই পছন্দ করে না, কিন্তু মা, বাবার ভাইয়ের বোনের কোনো সমস্যা নাই উল্টা তাদের চোখের মণি আমার বাচ্চা। বোনেরও বিয়ে হলো ঢাকাতে ভালো পরিবারে। এখন তো ভাইয়ের ও বয়স বাড়ছে বিয়ে করার বয়স হয়েছে সেও বিয়ে করবে পরের বাড়ির মেয়েটি আমাকে আর আমার বাচ্চাকে আপন করে নিবে? যাই হোক বাবা তার পরিচিত মানুষকে বলে আমার জন্য বিয়ে দেখতে অন্য আত্নীয় স্বজনরাও দেখে সাথে আশে পাশের কিছু ভাবীরাও দেখে।’

লিজা বলেন,  ‘অনেকেই আসছে কিন্তু আমার বাচ্চাসহ কেউ নিবে না বাচ্চা তার নানির বাড়িতে থাকতে হবে কিন্তু আমি তো বাচ্চা কে ছাড়া কোথাও যাব না। কারণ এটা তো আমার বাচ্চা। চাকরি করি তখন ও একটু দেরি করে অফিস থেকে আসলে মানুষ খারাপ ভাবে তাকাতো অনেক খারাপ খারাপ কথা শুনতে হতো আসে পাশে থেকে আপনারা সবাই জানেন আমাদের সমাজটা কেমন এখন তো অনেক আধুনিক হয়েছে এগুলো আরো ১৪/১৫ বছর আগের কথা। 

যাই হোক ভাইয়া বিয়ে করলো সংসার বড় হলো এখন এই সংসারে আর মানিয়ে নিতে পারিনা ভাইয়ের সংসার তো সাথে আশে পাশের মানুষ সব কিছু কেমন যেন ভারী ভারী লাগছিল এখন মনে হয় যদি নিজের একটা সংসার থাকতো কিন্তু সংসার করার মতো কাউকে তো খুঁজে পাইনা যে কিনা শুধু আমার না আমার সন্তানের দায়িত্ব ও নিবে।’

এলিটার আবির্ভাব নিয়ে লিজা নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, ‘হঠাৎ এক ভিনদেশি লোকের সাথে দেখা আর এই মানুষ টা আমার আর আমার বাচ্চার দুজনের দায়িত্ব নিতে রাজি হলো আমি রং দেখিনি তার আমি তার মনুষ্যত্ব দেখেছি। দেখেছি তার বিশাল সুন্দর একটা মন। তিনি আমাকে সামাজিক মর্যাদা দিয়েছেন, দিয়েছেন ভালোবাসা আর নিয়েছেন বাবার দায়িত্ব তিনি হলেন আমার শ্রদ্ধেয় স্বামী এলিটা কিংসলি।’

শেষে লিজা বলেন,  ‘সংক্ষেপে বললাম অনেক অনেক কথা আছে বললে শেষ হবে না। আজকে আমরা আমাদের জায়গায় সবাই ভালো আছি আমার একটা সংসার হয়েছে আমার একটা গার্ডিয়ান হয়েছে ছাতা হয়ে মাথার উপরে ছায়া দিয়ে যাচ্ছে। আপানারা আমাকে অনেক খারাপ কথা বলেন, কেন বিদেশি বিয়ে করেছি? কোথায় ছিলেন তখন যখন আশেপাশের পশুরা খারাপ নজর দিতো ভালো কাজ করলেও খারাপ বলতো মা বাবার সাথে থেকে ও সমাজের কিছু কুৎসিত মানুষের খারাপ কথা শুনতে হতো! কেউ আসেনি আমাদের দায়িত্ব নিতে।  এলিটা কিংসলি রাজা তিনি মহা রাজা আমার জন্য আমার পরিবারের জন্য। পৃথিবীতে সবচেয়ে ভাল মানুষ তিনি আমাদের জন্য।’

নাইজেরিয়ার বংশোদ্ভূত বাংলাদেশি ফুটবলার এলিটা কিংসলে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার দুই বছর পর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের জার্সি গায়ে মাঠে নামতে পেরেছেন। সেইশেলসের বিপক্ষে ২০২৩ সালে সিলেটে ফিফা অনুমোদিত প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম মাঠে নামেন এলিটা কিংসলে।’

বাংলাদেশে নাইজেরিয়ান ফুটবলারদের ইতিহাস প্রায় চল্লিশ বছরের পুরনো। আশির দশক থেকেই নাইজেরিয়ান ফুটবলাররা বাংলাদেশের লিগে খেলছেন। এলিটা কিংসলে তাদের মধ্যে একমাত্র যিনি বাংলাদেশি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত সাত বছরের সংগ্রাম শেষে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র পেয়েছেন।

এলিটা কিংসলে বাংলাদেশকে ভালোবাসেন, কারণ তিনি এই দেশে ‘স্ত্রী, সন্তান, পরিবার ও ক্যারিয়ার’ পেয়েছেন। বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পেতে এলিটা তার নাইজেরিয়ান পাসপোর্ট বিসর্জন দিয়েছেন।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status