ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ৫ জুলাই ২০২৬ ২১ আষাঢ় ১৪৩৩
ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে ক্লিনিক, ভুল রিপোর্টে বিপাকে রোগীরা
তামান্না জেনিফার , বরগুনা
প্রকাশ: Wednesday, 18 June, 2025, 7:39 PM

ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে ক্লিনিক, ভুল রিপোর্টে বিপাকে রোগীরা

ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে ক্লিনিক, ভুল রিপোর্টে বিপাকে রোগীরা

স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বরগুনাকে ডেঙ্গুর হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রাক-বর্ষা মৌসুম থেকে শুরু হওয়ায় ডেঙ্গু এখন মহামারি আকার ধারণ করেছে।বরগুনায় বেড়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুরোগী ভর্তি এখন ধারণ ক্ষমতার বাইরে।

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গুর প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন রোগীরা। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করা মানহীন পরীক্ষা ও ভুল রিপোর্টে।

ডেঙ্গু পরীক্ষার নামে প্রতারণা ও ভুল রিপোর্ট সরবরাহ করে সাধারণ রোগীদের বিপদে ফেলছে বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। বরগুনাসহ  বিভিন্ন এলাকায় রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে গাফিলতি ও অবহেলার চিত্র ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। এতে চিকিৎসা সঠিকভাবে না হওয়ায় ঝুঁকির মুখে পড়ছেন অসংখ্য রোগী। 

এমনই একজন রোগী মরিয়ম। তিনি বরগুনার খেজুরতলা এলাকার বাসিন্দা। ১৩ জুন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে। ভর্তি হওয়ার সময় তার প্লাটিলেট ছিল ৬৭ হাজার। পরদিন স্থানীয় অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে টেস্ট করিয়ে রিপোর্টে দেখা যায় প্লাটিলেট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৯৬ হাজারে।

একদিনের ব্যবধানে এমন রিপোর্ট দেখে চক্ষু চড়কগাছ বরগুনা জেনারেলে হাসপাতালের চিকিৎসকের। পরে আরেকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে টেস্ট করালে রিপোর্টে প্লাটিলেট দেখা যায় ৫৪ হাজার। চিকিৎসকের সচেতনতায় ভুল রিপোর্টের কারণে অপচিকিৎসা থেকে রক্ষা পেলেও বিপাকে পড়তে হয় এই দরিদ্র নারীকে।

এর আগে ১১ জুন ১০ বছর বয়সী তানিয়া নামের এক শিশুকে একই ডায়াগনস্টিক থেকে ১৮ লাখ ৯৫ হাজার প্লাটিলেটের একটি রিপোর্ট দেওয়া হয়। এটিও ধরা পড়ে চিকিৎসকের চোখে, না হলে হয়তো অপচিকিৎসার শিকার হতে হতো ওই শিশুকেও। রোগীদের অভিযোগ, বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গুর প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালু না থাকায় বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক গুলোতে  যেতে হচ্ছে তাদের। 

কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, ডেঙ্গু পরীক্ষায় নির্ধারিত কিট ব্যবহার ও প্রশিক্ষিত টেকনোলজিস্টের তত্ত্বাবধান বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাস্তবে অনেক সেন্টারে অনভিজ্ঞ কর্মচারীদের দিয়ে টেস্ট করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। 

এ বিষয়ে কথা হয় ভুক্তভোগী মরিয়মের সঙ্গে। তিনি বলেন, হাসপাতালে সিবিসি টেস্ট হয় না, তাই বাইরে থেকে টেস্ট করতে হয়। আমি ‘অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সিবিসি টেস্ট করিয়েছি। সেখান থেকে রিপোর্ট এনে হাসপাতালে দেখানোর পর ডাক্তার বলছে- এই রিপোর্ট ভুল, আপনি অন্য জায়গায় টেস্ট করান। পরে অন্য ডায়াগনস্টিক থেকে রিপোর্ট আসার পর আমাকে ডাক্তার চিকিৎসা দিয়েছেন।

টেস্টে ভুল রিপোর্ট নিয়ে জাকির হোসেন নামের এক রোগীর স্বজন বলেন, বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে টেস্ট করার ব্যবস্থা না থাকায় বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিকে গিয়ে আমরা এখন হয়রানি এবং প্রতারণার শিকার হচ্ছি । যখন টেস্ট করি তাদের রিপোর্টে এক জায়গায় এক এক রকম আসে। পরে ডাক্তার আবার টেস্ট দেয়। এতে একদিকে যেমন আমাদের অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তেমনি ভুল চিকিৎসার আতঙ্কে দিন কাটছে।

মেশিনের ভুল দাবি করে অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক সজীব  বলেন, আমাদের টেস্ট ঠিকই আছে। হয়তো মেশিনে কোনো ত্রুটির জন্য প্রিন্টিং মিসটেক হয়েছে। এছাড়া আমাদের টেস্টে ভুল নেই।

ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বৈধতা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের লাইসেন্স নবায়নের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগে আবেদন করা আছে। একই ভাবে অভিযোগ রয়েছে মেডিনেট ক্লিনিক এর বিরুদ্ধে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় তাদের  ল্যাব ও যন্ত্রপাতির রুম খুবই নোংরা। মেডিনেট ক্লিনিক এর মালিকের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের  কোন তথ্য দিবেন না বলে জানান। 

খোজ নিয়ে জানা যায় তাদের ভুল রিপোর্টের বিষয় কোন রোগীরা অভিযোগ তুল্লে সেই  রোগীর স্বজনের  সাথে লেনদেন করে বিষয়টি ধামাচাপা দেন সাথে সাংবাদিকদের দিয়ে বিষয়টি আপোষ করান। এভাবেই চলে তাদের ব্যবসা। 

বরগুনার সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি মনির হোসেন কামাল  বলেন, জনস্বাস্থ্য নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলা মেনে নেওয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে। আমরা এরই মধ্যে এ বিষয়ে সিভিল সার্জনকে জানিয়েছি। সিভিল সার্জন জানিয়েছেন এখন থেকে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের টেস্ট হাসপাতালেই করা হবে।

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজোয়ানুর আলম  বলেন, আমাদের সিবিসির কিট ছিল না। তাই রোগীদের বাইরে থেকে টেস্ট করাতে হয়েছে। অনেক ভুল রিপোর্ট আমরা পেয়েছি। যা রোগীর জন্য বিপদজনক। আমরা দ্রুত হাসপাতালেই ডেঙ্গুর সব ধরনের টেস্ট চালুর ব্যবস্থা নিচ্ছি, যাতে রোগীদের বাইরের মানহীন সেন্টারে না যেতে হয়। 

এদিকে,  এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২ হাজার ৪৮ জন, মোট মারা গেছেন ১৭ জন। এরমধ্যে বরগুনা সদরে ৫ জন।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status