|
ইসলামি শরীয়া মেনে বিয়ে করলেন দাড়ি রাখার দায়ে আড়ংয়ে চাকরি না পাওয়া সেই যুবক লিমন
ফাহিম ফরহাদ, গাজীপুর
|
![]() ইসলামি শরীয়া মেনে বিয়ে করলেন দাড়ি রাখার দায়ে আড়ংয়ে চাকরি না পাওয়া সেই যুবক লিমন মসজিদে বিয়ে শেষে মাগরিব নামাজ আদায় করে উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে খেজুর ছিটিয়ে দেয়া হয়। ছেটানো খেজুর উপস্থিত সকলে নিজ হাতে কুরিয়ে তা বিয়ের তোহফা হিসেবে খাবার গ্রহণ করেন। পরে তাদের সুখময় দাম্পত্যজীবন কামনায় দোয়া করা হয়। এরপর কনের বাড়িতে গিয়ে এক পোষাকে বোরকা পরিধান করিয়ে কণেকে নিয়ে যাওয়া হয় বরের পিত্রালয়ে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে লিমন বলেন, জেনারেল শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও ইসলাম ধর্মানুরাগ তার মধ্যে সদা জাগ্রত ছিলো। এর ধারাবাহিকতায় ইসলাম ধর্মানুসারে সম্পূর্ণ ইসলামি শরিয়াহ মেনে চলা জীবন সঙ্গিনী নির্বাচনেও ছিলো লিমনের দীর্ঘদিনের মনোবাসনা। বিধায় এমন বিয়ে ইসলামী চেতনার বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। লিমনের পিতা মো: নজরুল ইসলাম গাজীপুরের একজন পোষাক শিল্পের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, তিনি জানান, চাকরির সুবাদে গাজীপুরের শরীফপুরে বসবাস করেন কয়েকযুগ হলো। প্রথমে তার এমন বিয়ের চেতনায় পরিবার একটু সমাজের কথা ভেবে মনক্ষুন্ন ছিলো। ছেলের এমন সিদ্ধান্তে প্রথমে বেশ বিচলিত হলেও পরবর্তীতে তার ইসলাম ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সন্মানার্থে তাকে ইসলামি শরীয়া মোতাবেক বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হতে পরিবারের সকলেই সহযোগীতা করেন। কথা বলে জানা যায়, কণের পরিবারের সদস্যরাও ইসলাম ধর্মীয়নুরাগী, কনের পিতা রেজাউল করিম-সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও চেয়েছেন ইসলাম ধর্মীয় রীতিনীতি ও আদর্শে আদর্শিক একজন পাত্রের হাতে তাদের কণ্যাদান হউক। ঠিক যেন বেটে বলে মিলে যাওয়ায় শ্রষ্টার নিকট শুকরিয়া জ্ঞাপন করে সু-পাত্রেই কন্যাদান হয়েছে বলে জানান কণের পিতা ও স্বজনরা। উভয় পরিবার তাদের দাম্পত্য জীবণ সুখময় হবার জন্যে দেশবাসির নিকট দোয়া প্রত্যাশা করেন। এদিকে আড়ং কাণ্ডে লিমন জানান, ইসলাম ধর্মানুসারে দাড়ি রাখা রাসুলুল্লাহ (সা:) এর সুন্নাহ্। সেই সুন্নাহ্ পালনের কারনে চাকরি হয়নি আড়ংয়ের বিপণন বিভাগে। কয়েকবছর পূর্বে চাকরির ভায়বাতে চাকরি পেতে দাড়ি ফেলে দেয়ার কথা বলেছিলো আড়ং কর্তৃপক্ষ। তবে তা ঘৃণাভর প্রত্যাখ্যান করেছিল লিমন। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সেসময় বেশ আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছিলো দেশজুড়ে। পরে কয়েকজন বন্ধু মিলে উদ্যোক্তা হয়ে গাজীপুরের শিমূলতলীতে তিনি রেস্টুরেন্ট ব্যাবসা শুরু করেন। সেখানেও তিনি শরিয়া মোতাবেক ব্যাবসা বাণিজ্য পরিচালনা করেন বলে জানিয়েছেন। তিনি জানান আরংয়ে চাকরি না পেয়ে হতাশ হলেও শ্রষ্টার উপর ভরসা করে রেস্টুরেন্ট ব্যাবসায় সফলতার মুখ দেখতে শুরু করেন তিনি। শ্রষ্টার প্রতি তার এমন অসীম বিশ্বাসের কারনেই এর পর তাকে আর চাকরির ভাবনা ভাবতে হয়নি। ব্যাক্তি জীবণে স্বচ্ছলতার দার উন্মোচিত হওয়ায় খোঁজে নিয়েছেন সমমনা জীবণ সঙ্গিনী। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের মার্চ মাসে আড়ংয়ের বিপণন বিভাগে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে জব ইন্টারভিউয়ের ভায়বাতে লিমনকে দাড়ি রাখার দায়ে চাকরি দেয়া সম্ভব না বলে জানায় ভায়বাবোর্ড কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুক লাইভে অভিযোগ জানান লিমন। এরপর ওই বছরের ১৫মার্চ আড়ংয়ের বিভিন্ন বিপণন কেন্দ্রের সামনে দেশব্যাপী নানা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ ভূল শিকার করে তাকে চাকরি দেয়ার প্রস্তাব দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন লিমন।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
