|
ছেলের বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় পাগল প্রায় মা দেলোয়ারা বেগম
রাসেল মিয়া,পলাশ
|
![]() ছেলের বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় পাগল প্রায় মা দেলোয়ারা বেগম বাড়িতে কাউকে দেখতে পেলেই সন্তান কখন আসবে তা জানতে চেয়ে পাগলের মতো বিলাপ শুরু করে।নিহত আমজাদ হোসেনের মা দেলোয়ারা বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে জানায়, গত ১৯ জুলাই দুপুরে মায়ের কাছে নুডুলস খাওয়ার বায়না করে আমজাদ। গোসল শেষে ঘরে ঢুকে সন্তান নুডুলস খাবে, তাই তিনি গিয়েছেন রান্না ঘরে। তবে রান্না ঘর থেকে ফিরে এসে আদরের সন্তানটিকে আর দেখতে পায়নি মা দেলোয়ারা বেগম। বন্ধুর ফোন পেয়ে খেলার কথা বলে দ্রুত বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় শিবপুর শহীদ আসাদ কলেজের প্রাণি বিদ্যা বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী আমজাদ হোসেন। এরপর রাত ৯ টার দিকে খবর আসে আমজাদ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে। ওই দিন রাতে নরসিংদী ইটাখোলা হাইওয়ে পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সাথে সংঘর্ষ ঘটে। এসময় আমজাদ বাড়ি ফিরার পথে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শিবপুর উপজেলা ¯স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে জেলা হাসপাতালে পাঠানোর পথে তার মৃত্যু হয়।এদিকে ছেলের মৃত্যুর ২৬ দিন পার হয়ে গেলেও আজও নুডুলস খাবে বলে সন্তানের অপেক্ষায় রয়েছে মা দেলোয়ারা বেগম। আদরের সন্তানটিকে যে আর ফিরবেনা তা কোনো মতেই মানতে পারছে না তিনি। বাড়িতে কাউকে দেখতে পেলেই আমজাদ কখন আসবে তা জানাতে চেয়ে বিলাপ করতে থাকে দেলোয়ারা বেগম।নরসিংদীর পলাশ উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের কৃষক আরমান মিয়ার তিন ছেলে দুই মেয়ের মধ্যে আমজাদ হোসেন ২য়। অভাবের সংসারে সন্তানকে লেখাপড়া করাতে অনেক সময় মা বাবাকে অন্যের নিকট হাত পেতে সহযোগীতা নিতে হয়েছে। স্বপ্ন ছিল ছেলে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে বড় হয়ে মা বাবার শেষ সময়ে হাল ধরবে। তবে সেই ¯স্বপ্ন সত্যি হওয়ার আগেই পুলিশের গুলিতে জীবন দিতে হলো তাকে।কোটা আন্দোলনে প্রাণ হারানো আমজাদ হোসেনের মতো প্রতিটি হত্যার সুষ্ঠু বিচার হবে এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জানান,পরিবারটি অত্যান্ত গরীব এবং নিহত শিক্ষার্থী আমজাদ হোসেন একজন মেধাবী ছাত্র ছিল। আমরা পরিবারটির পাশে আছি। সরকারী যে কোনো সহযোগিতার জন্য আমি মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করেছি।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
