যশোর তিন উপজেলা নির্বাচন, চোখে পড়ার মত নেই ভোটার উপস্থিতি
জুবায়ের হোসেন, যশোর
প্রকাশ: Tuesday, 21 May, 2024, 3:29 PM
যশোর তিন উপজেলা নির্বাচন, চোখে পড়ার মত নেই ভোটার উপস্থিতি
মঙ্গলবার (২১মে) ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে দেশের ১৫৩ টি উপজেলার মত যশোরের চৌগাছা, ঝিকরগাছা ও শার্শা উপজেলায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে।
তিন উপজেলায় আটটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছেন ২৯ জন।
বাকি একটি পদ চৌগাছায় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে শামীম রেজা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন।
চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের মৎস্যরাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার টিপু সুলতান জানান, বুড়িন্দীয়া ও মৎস্যরাঙা দুটি ওয়ার্ড মিলে ১টি কেন্দ্র। এ কেন্দ্রে মোট ভোটারের সংখ্যা ২ হাজার ৬৫১ জন। সকাল ১০টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে মাত্র ১১০টি।
ইউনিয়নের সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে পলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে।এ কেন্দ্রে দায়িত্বরত প্রিজাইিডিং অফিসার জানান, কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৬৭৫টি সকাল সকাল ১০ টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে মাত্র ৩৫টি।
এছাড়া পাশাপোল কেন্দ্রে সকাল ১০টা পর্যন্ত ২ হাজার ৬৩ ভোটের মধ্যে ৬৮টি, দশাখিয়া কেন্দ্রে ৩ হাজার ১শত ভোটের মধ্যে ৮৯ টি, রাণীয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেলা ১২টা পর্যন্ত ৩ হাজার ৪৬০ ভোটের মধ্যে ৩৪৫টি, বাড়ীয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা ১২টা পর্যন্ত ২ হাজার ৪১৬ ভোটের মধ্যে ১৩৯ টি ভোট পড়েছে।
এছাড়া সিংহঝুলি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মোছা কবিতা খাতুন নতুন সময়কে জানান, বেলা ১২ টা পর্যন্ত ৩ হাজার ৩৫১ ভোটের মধ্যে ভোট পড়েছে ৩০৪ টি। চৌগাছার ফুলসারা ইউনিয়নের সলুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, ৩০২ নম্বর রুমে ইভিএমএ ত্রুটি দেখা দিয়েছে। পরবর্তীতে সেটা আবার চালু করা হয়।
তবে ইভিএমএ প্রথম ভোট হওয়ায় অনেক ভোটার বুঝতে পারছেন না। যার কারনে অনেক সময় বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন নির্বাচন কর্তৃপক্ষ।
উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে ভোটার উপস্হিতি কম থাকার কারণে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীরা খোশ গল্পে মেতে উঠেছে আবার কেউ বা হাত মাথা রেখে টেবিলের ঘুমাচ্ছেন।
উপজেলা তিনটিতে মোট ভোটার সাত লাখ ৬১ হাজার ৭১১ জন। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ২৯৩টি কেন্দ্রের ২১৭৩টি কক্ষে ভোট দেবেন ভোটাররা।
প্রশাসন এই তিন উপজেলায় সুষ্ঠু নির্বাচনের সব প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছেন।
নির্বাচন অফিস সূত্র জানিয়েছে, তিন উপজেলার মধ্যে শার্শায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন চারজন— অহিদুজ্জামান (আনারস), আব্দুল মান্নান মিন্নু (মোটরসাইকেল), ইব্রাহিম খলিল (ঘোড়া) ও সোহরাব হোসেন (দোয়াত কলম)।
এ উপজেলায় আব্দুর রহিম সরদার (তালা), তরিকুল ইসলাম (টিয়া পাখি), শফিকুল ইসলাম মন্টু (চশমা) ও শাহরীন আলম (টিউবওয়েল) লড়ছেন ভাইস চেয়ারম্যান পদে। আর নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী তিনজন— আলেয়া ফেরদৌস (হাঁস), নাজমুন নাহার (ফুটবল) ও শামীমা খাতুন (কলস)।
এ উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নে ১০২ কেন্দ্রে ৮১৪ কক্ষে ভোট নেওয়া হবে। ভোটার দুই লাখ ৯৯ হাজার ১১১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৫০ হাজার ১৯৯ জন, নারী ভোটার এক লাখ ৪৮ হাজার ৯১০ জন। ১০২ প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ৮১৪ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও এক হাজার ২৬৮ জন পোলিং কর্মকর্তা এই উপজেলা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন।
ঝিকরগাছা উপজেলাতেও তিন পদে প্রার্থী ১১ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী চারজন— মনিরুল ইসলাম (আনারস), রেজাউল হোসেন (মোটরসাইকেল), সেলিম রেজা (ঘোড়া) ও লুবনা তাক্ষী (দোয়াতকলম)। ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ইদ্রিস আলী বিশ্বাস (টিউবওয়েল), কামরুজ্জামানর মন্টু (তালা) ও সৈয়দ ইমরানুর রশীদ (চশমা)। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে চার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হলেন— আছিয়া বেগম (পদ্মফুল), আমেনা খাতুন (হাঁস), জেসমিন সুলতানা (কলস) ও সাহানা আক্তার (ফুটবল)।
এ উপজেলাতেও একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন। ১১০টি কেন্দ্রের ৭৮১ কক্ষে ভোটগ্রহণ হবে। মোট ভোটার দুই লাখ ৬৩ হাজার ১৬৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৩১ হাজার ৯৯৮ জন, নারী এক লাখ ৩১ হাজার ১৭০ জন। চৌগাছা উপজেলায় একক প্রার্থী হওয়ায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে শামীম রেজা বিনা ভোটেই বিজয়ী হয়েছেন। বাকি দুই পদে এ উপজেলায় প্রার্থী সাতজন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন মাত্র দুজন— এস এম হাবিবুর রহমান (আনারস) ও মোস্তানিছুর রহমান (মোটরসাইকেল)। আর নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদের পাঁচ প্রার্থী হলেন— আকলিমা খাতুন লাকী (কলস), নাছিমা খাতুন (হাঁস), নাজনীন নাহার (বৈদ্যুতিক পাখা), কামরুন নাহার শাহীন (ফুটবল) ও রীপা ইসলাম (প্রজাপতি)।
এ উপজেলাতে একটি পৌরসভার পাশাপাশি রয়েছে ১১টি ইউনিয়ন। ৮১টি কেন্দ্রের ৫৭৮ কক্ষে ভোটগ্রহণ হবে। ৮১ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ৫৭৮ সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও এক হাজার ১৫৬ জন পোলিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটার এক লাখ ৯৯ হাজার ৪৩২ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ ১০ হাজার ৬৫ জন, নারী ৯৮ হাজার ৩৬৭ জন।