|
রাঙ্গুনিয়ার শতাধিক মাদ্রাসায় নামকাওয়াস্তে ভাষা দিবস পালন
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() রাঙ্গুনিয়ার শতাধিক মাদ্রাসায় নামকাওয়াস্তে ভাষা দিবস পালন তবে, মুষ্টিমেয় কয়েকটি মাদ্রাসায় নামমাত্র দোয়ার মধ্যদিয়ে মাতৃভাষা দিবস পালন করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন মাদ্রাসা পরিদর্শন করে দেখা যায়, উপজেলার সবক'টি মাদ্রাসার ক্যাম্পাসে কোথাও শহীদ মিনারের চিহ্ন নেই। তবে ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে কয়েকটি মাদ্রাসায় নামকাওয়াস্তে দোয়ার অনুষ্ঠান পালন করা হলেও অধিকাংশ মাদ্রাসা ওই দিন বন্ধ থাকতে দেখা যায়। উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় মোট ১৫ (এমপিওভুক্ত) মাদ্রাসা আছে। এছাড়া ২০ টি ইবতেদায়ীসহ কওমী এবং ননএমপিও ভুক্ত শতাধিক মাদ্রাসা রয়েছে। এসব মাদ্রাসার একটিতেও কোনো শহীদ মিনার নেই। উপজেলার মাদ্রাসার মধ্যে সবচেয়ে পুরনো ও সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাঙ্গুনিয়া আলমশাহ পাড়া কামিল বিশ্ববিদ্যালয় মাদ্রাসা। এটি ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই মাদ্রাসাটি উপজেলার একমাত্র (মাস্টার্স সমমান) কামিল মাদ্রাসা। এছাড়া ১৯৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া রাঙ্গুনিয়া নুরুল উলুম মাদ্রাসা। যা উপজেলার দ্বিতীয় কামিল মাদ্রাসা। এবং পোমরা জামেউল উলুম ফাযিল মাদ্রাসা (১৯৩০), জামেয়া নঈমিয়া তৈয়্যবিয়া ফাযিল মাদ্রাসা (১৯৭৪), মাদ্রাসা-এ তৈয়্যবিয়া অদুদিয়া সুন্নিয়া ফাযিল মাদ্রাসা (১৯৭৭), রানীরহাট আল আমিন হামেদিয়া ফাযিল মাদ্রাসা বর্তমানে ফাযিল (স্নাতক সমমান) মাদ্রাসা রয়েছে। এর বাইরে ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত মরিয়মনগর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, বেতাগীর রহমানিয়া মাদ্রাসা, উত্তর পদুয়া মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসা, দঃ শিলক তৈয়বিয়া নুরিয়া সাত্তারিয়া মাদ্রাসা, সোনারগাঁও দাখিল মাদ্রাসা, সরফভাটার হযরত আবদুল কাদের জিলানি মাদ্রাসা, হযরত খাদিজা (রাঃ) মাদ্রাসা, আহমদিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও শিলক মিনাগাজির টিলা মতিউল উলুম মাদ্রাসা (এমপিওভুক্ত) রয়েছে। এসব মাদ্রাসার একটিতেও কোনো শহীদ মিনার নেই। অথচ, যে ভাষার জন্য বুকের তাজা রক্ত দিয়ে শহীদ হয়েছেন বাংলার দামাল ছেলেরা, সেই মাতৃভাষা বাংলা এখনও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে উপেক্ষিত রাঙ্গুনিয়ার মাদ্রাসাগুলোয়। যে জাতি ভাষার জন্য রক্ত দেয়, সেই জাতির দেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই?! অবশ্য এ জন্য প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের উদাসীনতাকে দায়ী করেন স্থানীয় শিক্ষাবিদরা। আলমশাহ পাড়া কামিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্র তৌহিদুল ইসলাম জানান, শহীদ মিনার না থাকায় ফুল দিয়ে সম্মান জানাতে পারেনা এই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। তবে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়। শহীদ মিনার থাকলে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি সম্মান জানানো যেত। এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবু স্বজন কুমার তালুকদার বলেন, ‘বাঙালি চেতনা ও আমাদের জাতিসত্তার প্রথম উন্মেষ ঘটে ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে। ভাষা আন্দোলনের ৭০ বছর ও স্বাধীনতার ৫০ বছরেও উপজেলার মাদ্রাসাগুলোতে শহীদ মিনার নেই, এটি আমাদের জন্য লজ্জাজনক। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদনের শর্তের মধ্যে শহীদ মিনার নির্মাণ বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।' এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম কিরণ জানান, সরকারি উদ্যোগে সব মাদ্রাসায় শহীদ মিনার স্থাপন করা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবসে অন্তত ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো উচিত। আমরা বিষয়টি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাব। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান মাহবুব বলেন, ভাষা শহীদদের পরিচয় জানতে ও তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা আবশ্যক। যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই, সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার স্থাপনের ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অতি শিগগির তা বাস্তবায়ন হবে।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
