|
তানিয়ার বাসায় খুনি এসেছিল বাইরে থেকে: পুলিশ
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() তানিয়ার বাসায় খুনি এসেছিল বাইরে থেকে: পুলিশ ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মো. ইহসানুল ফিরদাউস বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার রহস্য ‘মোটামুটি’ বের করা হয়েছে। "শিগগিরই জানতে পারবেন।” খুনি তানিয়ার পূর্ব পরিচিত কি না, এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি তিনি। বলেছেন, “খুনি বাইর থেকে এসেছে। এর বেশি কিছু বলা যাবে না।” ৩৫ বছর বয়সী তানিয়া যে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের ব্যবসা করতেন, সেখানে কোনো দ্বন্দ্ব ছিল কি না, তারও সরাসরি জবাব মেলেনি। গত ২১ জানুয়ারি হাজারীবাগের একটি সাততলা বাড়ির সাততলার এক বাথরুম থেকে তানিয়ার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, ১৯ জানুয়ারি থেকে ২১ জানুয়ারির মধ্যে তানিয়াকে হত্যা করে বাথরুমে মরদেহ রেখে পালিয়ে যায় খুনি। তানিয়ার স্বামীর বাড়ি কুমিল্লার কোতয়ালীর পশ্চিম বাগিচাগাঁও, আর বাবারবাড়ি ঢাকার জিগাতলায়। লালমাটিয়া মহিলা কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর করে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যবসায় মন দেন তিনি। বাবা তোফাজ্জল হোসেনের রেন্ট এ কারের ব্যবসা আর স্বামী আজিজুর রহিমের পারিবারিক ব্যবসা থাকলেও তানিয়া চাইছিলেন স্বনির্ভর হতে। হাজারীবাগে বাথরুম থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার ছয় বছর আগে বিয়ের পিঁড়িতে বসা তানিয়া মাঝে মাঝে স্বামীর বাড়ি গেলেও বেশিরভাগ সময় তিনি জিগাতলায় বাবার বাসায় থাকতেন। আর নিজের নামে কার্ড ছাপিয়ে বিয়ে বাড়িসহ নানা অনুষ্ঠানে সাজসজ্জার কাজ করতেন। হাজারীবাগের মিতালী রোডের যে বাসা থেকে তানিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়, সেই দুই কক্ষের বাসাটি তিনি ভাড়া নিয়েছিলেন গত ৫ জানুয়ারি। এক কক্ষে থাকছিলেন তানিয়া, অন্য কক্ষে ইতি নামের এক নারী সাবলেট ছিলেন। সাততলা ওই ভবনে কোনো সিসি ক্যামেরা না থাকলেও পাশের ভবন ও আশপাশের সিসি ক্যামেরা থেকে তদন্তের অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপ পুলিশ কমিশনার ইহসানুল ফিরদাউস। তানিয়ার লাশ উদ্ধারের পর তার ছোট ভাই তন্ময় হাসান নীদ একটি হত্যা মামলা করেন, যাতে কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি। যেভাবে খুনের খবর পায় পরিবার নীদ বলেন, “আমার বোন ১৯ জানুয়ারি আমাদের জিগাতলার বাসায় আসে, তারপর সন্ধ্যা অনুমানিক ৭টার দিকে বাসা থেকে টিফিন বাটি করে রাতের খাবার ও তার সাবলেট ইতির জন্য খাবার নিয়ে হাজারীবাগের সেই বাসায় চলে যান। “পরদিন আপুর মোবাইল ফোনে বাবা ও আমি একাধিক বার ফোন করি, কিন্তু তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। আমার বোনের সাথে যোগযোগ করতে ব্যর্থ হয়ে ২০ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় ওই ভবনের মালিক শাহিনের কাছে ফোন করে তানিয়া তার রুমে আছে কি না জানতে চাওয়া হয়।” ঘটনার বর্ণনায় নিহতের ভাই বলেন, “পরে বাড়ির মালিক ইতিকে নিয়ে আমার বোনকে অনেক ডাকাডাকি করে কিন্তু রুমের ভেতর থেকে তারা দরজা বন্ধ পান। রুমে ফ্যানের শব্দও শুনতে পান। বোনের কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে ভবন মালিক আমাদের জানায়।” নীদ বলেন, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওই বাসায় গিয়ে তারাও দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান। ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। “পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বাইর থেকে মিস্ত্রি এনে দরজার তালা খুলে ভিতরে প্রবেশ করে বাথরুমের ভিতরে গলাকাট লাশ দেখতে পায়।” কী কারণে হত্যাকাণ্ড? তানিয়া হত্যা মামলার বাদী নীদ বলেন, “অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।” তানিয়ার সঙ্গে কারো কোনো বিরোধ ছিল কি না, এ প্রশ্নের উত্তরে তার ভাই বলেন, “আপু ব্যক্তিগত বিষয় কারো সঙ্গে শেয়ার করত না।” একই ধরনের কথা বলেছেন তানিয়ার স্বামী আজিজুর রহিম। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফের ডটকমের প্রশ্নে তিনি বলেন, “সে যে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজ করত, সে বিষয়ে কিছুই আমার সঙ্গে শেয়ার করত না। কারও সঙ্গে কোনো ঝামেলা হয়েছে কি না বা কোনো সমস্যা আছে কি না, সেটা তানিয়া নিজের মধ্যেই রাখত।” রহিম বলেন, তানিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয় ২০১৭ সালে। “ও কুমিল্লায় খুব কম থাকত। দেড় মাস আগে এসে (কুমিল্লায়) থেকেছিল এক মাসের মত।” তানিয়ার স্বামী বলেন, “ব্যবসার কাজের জন্য আমাকে কুমিল্লায় থাকতে হয়, কিন্তু তানিয়া কুমিল্লায় খুব একটা থাকত না। সে বিয়ে বাড়িসহ নানা অনুষ্ঠানে ইভেন্ট ম্যানেজ করত।” তানিয়ার ভাই নীদ বলেন, “আপু জিগাতলায় বাবার বাসাই থাকত, আর মাঝে-মধ্যে কুমিল্লায় যেত। কোথাও স্বায়ীভাবে থাকত না। কুমিল্লায় বেশি না থাকার কারণে বাবা আপুকে মাঝে মধ্যে বকাঝকা করতেন। তাই এ মাসের ৫ জানুয়ারি হাজারীবাগে বাসা ভাড়া নেন আপু।” তানিয়ার বাবার বাড়ি বাগেরহাটে আর মার বাড়ি বরিশালে। ছোটবেলা থেকেই জীবন কেটেছে ধানমন্ডির জিগাতলায়। বাবার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে নীদ বলেন, “আমরা দুই বোন এক ভাই। আপু বড় ছিল। বাবা ও মা মানসিকভাবে অনেক ভেঙে পড়েছে। যা বলার আমার সঙ্গে বলুন। বাবা ও মা কথা বলার মত অবস্থায় নেই।” জানতে চাইলে পুলিশের রমনা বিভাগের উপ কমিশনার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, “তার কাছে কিছু বন্ধু আসত-এমন তথ্য আমাদের কাছে এসেছে। তারা এই হত্যার সাথে জড়িত কি না সে বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হতে কাজ করা হচ্ছে। নিশ্চিত হওয়ার পরপরই আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।”
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
