|
এলজিইডির রাজস্ব খাত
চাকরি নিয়মিত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন, তবু পদোন্নতি পাচ্ছেন প্রকৌশলীরা
বিপ্লব বিশ্বাস
|
![]() চাকরি নিয়মিত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন, তবু পদোন্নতি পাচ্ছেন প্রকৌশলীরা সরকারের বিভিন্ন সংস্থা বা মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে কর্মরত ব্যক্তিদের নানা সময়ে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করা হয়ে থাকে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) উন্নয়ন প্রকল্প থেকে আসা সহকারী প্রকৌশলী যেমন রয়েছেন, তেমনি সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে সরাসরি ও বিসিএস নন-ক্যাডার থেকে নিয়োগ পাওয়া প্রকৌশলীরাও আছেন। মূলত এসব পক্ষের মধ্যে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ নিয়েই জটিলতার সূত্রপাত। উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত ব্যক্তিদের নিয়মিত করা ও জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে ২০০৫ সালে বিধিমালা করে সরকার। এলজিইডির নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রকৌশলী প্রথম আলোকে বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প থেকে আসা সহকারী প্রকৌশলীদের সংস্থায় নিয়মিত করার বিষয়টি নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। এটি এলজিইডির নিজেদের নথিতেই উল্লেখ করেছে। এরপরও যথাযথভাবে বিধি না মেনে উন্নয়ন প্রকল্প থেকে আসা প্রকৌশলীদের জ্যেষ্ঠতা দেওয়া হয়েছে। এতে অন্যরা বঞ্চিত হচ্ছেন। এবার জ্যেষ্ঠতার তালিকা না করে আবারও এসব প্রকৌশলীর পদোন্নতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাকে অন্যায় বলে মনে করেন তাঁরা। এসব সহকারী প্রকৌশলীর চাকরি নিয়মিতকরণের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে বোঝা যাচ্ছে। পিএসসির সুপারিশ ছাড়া কোনোভাবেই চাকরি নিয়মিতকরণ করা যায় না। পদোন্নতির ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতার তালিকাও থাকতে হবে। এই জটিলতা নিরসনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া, সাবেক অতিরিক্ত সচিব এলজিইডির একাধিক প্রকৌশলী অভিযোগ করেন, উন্নয়ন প্রকল্প থেকে আসা সহকারী প্রকৌশলীদের নিয়মিত করার বিষয়টি স্পষ্ট নয়। এরপরও তাঁদের মধ্যে ২০১৮ সালে ষষ্ঠ গ্রেডে পদোন্নতি পাওয়া ৯৮ জনকে নির্বাহী প্রকৌশলীর পঞ্চম গ্রেডে চলতি দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিধি মেনে সঠিকভাবে জ্যেষ্ঠতার তালিকা করা হলে এটি করা সম্ভব হতো না। জানতে চাইলে এলজিইডির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শফিকুর রহমান বলেন, বিভিন্ন সময়ে উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে লোকবল আসায় কিছু সমস্যা তো রয়েছে। এই সহকারী প্রকৌশলীদের সবাই আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে যোগ দিয়েছেন। পদোন্নতির বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। চাকরি নিয়মিতকরণ নিয়ে প্রশ্ন এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, আদালতের নির্দেশে ২০১০ সালে ১৩১ জন, ২০১১ সালে ১০৯ এবং ২০১৩ সালে ১৭ জনকে সহকারী প্রকৌশলী (পুর) পদে উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে আত্তীকরণ করা হয়। আত্তীকরণ করা এসব প্রকৌশলীকে সংস্থায় নিয়মিতকরণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এই ক্ষেত্রে বিধি অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত পদধারীদের নিয়মিতকরণ ও জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ বিষয়ে একটি বিধিমালা রয়েছে। ২০০৫ সালের এই বিধি অনুযায়ী, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) আওতাভুক্ত কোনো পদে আত্তীকৃত কর্মকর্তাদের নিয়মিত করতে হলে পিএসসির সুপারিশ লাগবে। কিন্তু এই ২৫৭ জন প্রকৌশলীর ক্ষেত্রে পিএসসির সুপারিশ নেওয়া হয়নি। তথ্য অধিকার আইনে করা একটি আবেদনের ভিত্তিতে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী সেখ মোহাম্মদ মহসিন গত ২৯ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগে একটি চিঠি দেন। ওই চিঠিতে বলা হয়, এসব সহকারী প্রকৌশলীকে রাজস্ব খাতে নিয়মিতকরণের বিষয়ে পিএসসির মতামত নেওয়া হয়নি।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
