|
পাঠাগার আন্দোলনের পুনর্জাগরণে আগামীর বাংলাদেশ
গফুর হোসেন
|
![]() পাঠাগার আন্দোলনের পুনর্জাগরণে আগামীর বাংলাদেশ রাষ্ট্র যদি আন্তরিকভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করে, তবে বই আবার মানুষের জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরে আসতে পারে। এই সফর সেই সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার জন্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সচেতনতা ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার যে প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরে অনুভূত হচ্ছিল, এই উদ্যোগ তা নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশে বইপড়ার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অতীতে বিএনপি সরকার কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত আগ্রহে শুরু হওয়া পক্ষকালব্যাপী "ঢাকা বইমেলা" তার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। এ ধরনের আয়োজন শুধু বই বিক্রির ক্ষেত্র তৈরি করেনি, বরং মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাস তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে আমরা এক ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মুঠোফোন ও ডিজিটাল মাধ্যম মানুষের জীবনের একটি বড় অংশ দখল করে নিয়েছে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে বইপড়ার আগ্রহ ক্রমশ কমে যাচ্ছে। তাদের সময়, মনোযোগ এবং কল্পনাশক্তি এখন অনেকাংশেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে স্ক্রিননির্ভর জীবনে। এই প্রবণতা যদি দীর্ঘমেয়াদে চলতে থাকে, তবে তা একটি চিন্তাশীল সমাজ গঠনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে পাঠাগারভিত্তিক আন্দোলনের পুনর্জাগরণ অত্যন্ত জরুরি। পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে গ্রাম ও প্রান্তিক অঞ্চল পর্যন্ত পাঠাগারের বিস্তার ঘটাতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠাভ্যাস বৃদ্ধির জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে পরিবার ও সমাজের প্রতিটি স্তরে বই পড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। বই কেবল জ্ঞানের উৎস নয়, এটি মানুষের চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি এবং মূল্যবোধ গঠনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। একটি জাতির মেধাভিত্তিক, মানসিক বিকাশ অনেকাংশেই নির্ভর করে তার নাগরিকদের পাঠাভ্যাসের ওপর। তাই বইয়ের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা মানে একটি উন্নত, সচেতন ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলার ভিত্তি স্থাপন করা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ সেই পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এখন প্রয়োজন এই উদ্যোগকে ধারাবাহিক ও কার্যকর কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা। তবেই আমরা সত্যিকার অর্থে একটি পাঠমুখী, জ্ঞাননির্ভর এবং আলোকিত সমাজ গড়ে তুলতে পারব।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
