আইভীকে হত্যাচেষ্টার মামলায় আওয়ামী লীগ নেতাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে পিবিআইয়ের চার্জশিট
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Wednesday, 11 January, 2023, 9:35 AM
আইভীকে হত্যাচেষ্টার মামলায় আওয়ামী লীগ নেতাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে পিবিআইয়ের চার্জশিট
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও তার অনুসারীদের সঙ্গে হকারদের সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তবে এই চার্জশিটে খুশি নন ডা. আইভী। তিনি এর বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন বলে জানিয়েছেন। মামলার ৩ বছর পর অত্যন্ত গোপনীয়তার মধ্যদিয়ে গত বছরের ২৩শে নভেম্বর চার্জশিটটি দাখিল করেছে পিবিআই। এতদিন চার্জশিটের বিষয়টি গোপন থাকলেও গত রোববার রাতে মেয়র আইভী একটি অনুষ্ঠানে নিজেই বিষয়টি প্রকাশ করেন। আগামী ২৯শে জানুয়ারি চার্জশিটের ওপর শুনানি হবে। চার্জশিটের ১২ জনের বিরুদ্ধে হুমকি, হত্যাচেষ্টা, জখম, নাশকতা, ভাঙচুরসহ অরাজকতার প্রমাণ পেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। তবে অস্ত্র আইনের ধারা থেকে আসামিদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে। চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলো- জেলা যুবলীগের সাবেক নেতা নিয়াজুল ইসলাম খান, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, নারায়ণগঞ্জ হকার্স লীগের সভাপতি রহিম মুন্সি, হকার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি আসাদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. পলাশ মিয়া, হকার সায়মন, ইকবাল হোসেন, মাসুদ পাটোয়ারী শুক্কুর, মো. তোফাজ্জল, মহসীন বেপারি, সালাউদ্দিন গাজী ও মো. সাদেকুল ইসলাম। মামলার মূল এজাহার থেকে মাত্র দু’জনকে আসামি করা হয়েছে।
তবে নতুন করে আরও ১০ জনের নাম যুক্ত করা হয়েছে। অব্যাহতি দেয়া হয়েছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জানে আলম বিপ্লব, জেলা ছাত্রলীগের প্রয়াত ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সুজন, যুবলীগ কর্মী নাসির উদ্দিন ওরফে টুণ্ডা নাসির ও চঞ্চল মাহমুদকে। ২০১৮ সালের ১৬ই জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাথ থেকে হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে মেয়র আইভী ও তার অনুসারীদের সঙ্গে হকারদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দু’পক্ষের সংঘর্ষে আইভীসহ অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন যে তদন্ত কমিটি করেছিল, সেটি আলোর মুখই দেখেনি। ঘটনার পরদিন মেয়র আইভীর ভাইসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় অস্ত্র ছিনতাই ও হত্যাচেষ্টার লিখিত অভিযোগ দেন যুবলীগ নেতা নিয়াজুল ইসলাম।
অন্যদিকে, আইভীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে ২২শে জানুয়ারি নিয়াজুলসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও এক হাজার জনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ দেন সিটি করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা জিএম সাত্তার। তবে পুলিশ অভিযোগ দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে রেকর্ড করে। ২২ মাস ১৮ দিন পর ২০১৯ সালের ৪ঠা ডিসেম্বর উচ্চ আদালতের নির্দেশে সদর মডেল থানায় দেয়া অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। আদালতে পুলিশ পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, গত বছরের ২৩শে নভেম্বর আদালতে চার্জশিট জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। অভিযোগপত্রে যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের মধ্যে নিয়াজুল ইসলাম ও শাহ নিজাম উচ্চ আদালত থেকে জামিনে আছেন। আগামী ২৯শে জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।