|
অস্ত্রবোঝাই বিধ্বস্ত বিমানটি সোমবার বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিলো
নতুন সময় ডেস্ক
|
|
অস্ত্রবোঝাই বিধ্বস্ত বিমানটি সোমবার বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিলো এদিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সার্বিয়া থেকে যাত্রা করার পর গ্রিসে বিধ্বস্ত কার্গো বিমানটির বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল সোমবার। ১৮ জুলাই দুপুর ১২টায় শাহজালালে অবতরণের কথা ছিল বিমানটির। তিনি বলেন, ওই ফ্লাইটটির ঢাকায় অবতরণের অনুমোদন ছিল। এটির ১৮ জুলাই দুপুর ১২টায় শাহজালালে অবতরণের কথা ছিল। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গনমাধ্যমের খবরে প্রকাশ, বিমানটি সাড়ে ১১ টন অস্ত্র নিয়ে বাংলাদেশে আসছিল। শনিবার সার্বিয়া থেকে জর্ডান যাওয়ার পথে কার্গো বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিশাল কার্গো প্লেনে ক্রুসহ আটজন আরোহী ছিলেন। সার্বিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী নেবোজা স্টেফানোভিচ বলেছেন, কার্গো বিমানটি সাড়ে ১১ টন সার্বিয়ার তৈরি অস্ত্র বাংলাদেশে নিয়ে যাচ্ছিল। ঢাকার চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছানোর আগে এটি জর্ডান, সৌদি আরব ও ভারতে যাত্রাবিরতি করার কথা ছিল। গ্রিসের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম টিভি ইআরটি জানিয়েছে, ইউক্রেনভিত্তিক এয়ারলাইন দ্বারা পরিচালিত আন্তোনভ অ্যান-১২ কার্গো বিমানটি সার্বিয়া থেকে জর্ডান যাচ্ছিল। ইঞ্জিনে সমস্যার কারণে পাইলট জরুরি অবতরণের অনুরোধ করছিলেন; কিন্তু বিমানের সিগন্যাল হারিয়ে ফেলে। ইঞ্জিনের ত্রুটি দেখা দেওয়ায় পাইলট কাভালা বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু রানওয়েতে আর পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, প্লেনটিতে আট আরোহী ছিলেন। দেশটির সেনাবাহিনী, বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ এবং গ্রিক পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মীরা ঘটনাস্থল নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে না যাওয়ার অনুরোধ করেছেন। গ্রিসের উত্তরাঞ্চলীয় শহর কাভালার কাছে ইউক্রেনভিত্তিক কোম্পানি পরিচালিত ওই কার্গো বিমানটিতে আছড়ে পড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। ![]() অস্ত্রবোঝাই বিধ্বস্ত বিমানটি সোমবার বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিলো বিমানটির আছড়ে পড়া সরাসরি দেখেছেন সেখানকার বাসিন্দা আমিলিয়া সাপতানোভা। তিনি বলেন, তখন রাত ১১ টা বাজে প্রায়। তিনি বলেন, বিস্ফোরণের পর ওই এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। প্রথমে আমি ভেবেছিলাম আমাদের বাড়ির উপরে এটি আছড়ে পড়তে যাচ্ছে। বিস্ফোরণের পর বিকট শব্দে চারদিক কেঁপে ওঠে। এটি পাহাড়ের উপর দিয়ে উড়ে এসে মাঠের মধ্যে বিধ্বস্ত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই অনেকগুলো গাড়ি এসে পৌছায় ঘটনাস্থলে। তবে সেখানে অব্যাহতভাবে বিস্ফোরণ চলতে থাকায় কেউ কাছাকাছি যেতে পারেনি। বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্ট নিয়ে রোববার ভোরে দুই ফায়ার সার্ভিসকর্মীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাতটি ফায়ার ইঞ্জিন দুর্ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে। কিন্তু ক্রমাগত বিস্ফোরণের কারণে তারা কাছে যেতে পারছে না। এদিকে বিমানটি জর্ডানের দিকে যাচ্ছিল বলে জানা গেলেও জর্ডান কর্তৃপক্ষ সে কথা সরাসরি স্বীকার করছে না। তারা বলছে, এটি শুধু জ্বালানি ভরার জন্য জর্ডান নামবে এমন কথা ছিল। জর্ডানের কুইন আলিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জ্বালানি ভরার জন্য বিরতি দেয়ার কথা ছিল বলে দাবি করেছেন দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। সেখানকার মেয়র ফিলিপ্পোস আনাস্তাসিয়াদিস বলেন, আমি এখন ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরে অবস্থান করছি। কয়েক মিনিট আগে পর্যন্ত থেমে থেমে বিস্ফোরণ শোনা যাচ্ছিল। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, বিধ্বস্ত হওয়ার পূর্বেই আগুন ধরেছিল বিমানটিতে। মেয়রের এক ডেপুটি গণমাধ্যমকে জানান, বিমান আছড়ে পড়ার দুই ঘণ্টা পরও থেমে থেমে বিস্ফোরণ শোনা যাচ্ছিল। পুলিশ সাংবাদিকদের মাস্ক পরে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এছাড়া স্থানীয়দের বাড়ির দরজা, জানালা বন্ধ করে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরবর্তী ঘোষণার পূর্বে বাড়ির বাইরে না বেরুতে বলেছে পুলিশ। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা এখনও জানে না বিমানে করে কোনো বিপজ্জনক রাসায়নিক বহন করা হচ্ছিল কিনা। এ জন্য যত সতর্ক হওয়া সম্ভব তারা সেটি নিশ্চিত করছেন। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
