|
অপরাধের নতুন হটস্পট মিরপুর, কিশোর গ্যাং-সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্যে বাড়ছে খুন-ছিনতাই-চাঁদাবাজি
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() অপরাধের নতুন হটস্পট মিরপুর, কিশোর গ্যাং-সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্যে বাড়ছে খুন-ছিনতাই-চাঁদাবাজি ডিএমপির তথ্য বলছে, অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত তেজগাঁও বিভাগের তুলনায় গত ছয় মাসে মিরপুর বিভাগে খুন ও ডাকাতির ঘটনা বেশি ঘটেছে। গত ৭ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুরের চৌরাঙ্গী মার্কেটের সামনে আসেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সাইফুল সিজু। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তির সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পর তিনি মার্কেটে প্রবেশ করতে গেলে পেছন থেকে এক মুখোশধারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলির পর হামলাকারী পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে শান্ত ভূঁইয়া নামে এক যুবককে আটক করেন। জানা যায়, তিনি মিরপুরের চিহ্নিত চাঁদাবাজ জাকিরের সহযোগী। ফুটপাতের চাঁদা নিয়ে বিরোধের জেরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হলেও তা অস্বীকার করেছেন চিকিৎসাধীন সাইফুল সিজু। এ ঘটনার পর এলাকায় এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, এমন ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারী প্রথমে হাত মিলিয়ে হঠাৎ গুলি চালায়। পরে গলির ভেতর দিয়ে পালিয়ে একটি মসজিদের তিনতলায় আশ্রয় নেয়। শুধু এই গুলির ঘটনাই নয়, মিরপুরে একের পর এক অপরাধ ঘটছে। কোথাও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য, কোথাও আবার কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডব। ফলে প্রশ্ন উঠছে, মিরপুরও কি ধীরে ধীরে মোহাম্মদপুরের মতো অপরাধপ্রবণ এলাকায় পরিণত হচ্ছে? গত ২৮ জুন পল্লবীর পলাশনগর এলাকায় ১ থেকে দেড়শ কিশোর গ্যাং সদস্য একটি বেকারি ও এমব্রয়ডারি কারখানায় হামলা চালায়। এক সপ্তাহ না পেরোতেই তারা আবার রাতে হামলা করে। সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুরের পাশাপাশি লুটপাট চালানো হয়। স্থানীয়রা জানান, হামলাকারীদের হাতে চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র ছিল। তারা বাইরে যাদের পেয়েছে তাদের মারধর করেছে, দোকান ও কারখানায় ভাঙচুর চালিয়ে মালামাল নিয়ে গেছে। কারখানা লুটের পাশাপাশি পথচারীদের মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেয়া হয়। এসব ঘটনার পর আতঙ্কে সাতটি কারখানা বন্ধ রেখেছেন মালিকরা। অভিযোগ রয়েছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী ফোর স্টার গ্রুপ কিশোর গ্যাং সদস্যদের দিয়ে আগেও মিরপুরে এমন হামলা চালিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, প্রথমে বেকারি থেকে মালামাল লুট করা হয়। পরে পাশের এমব্রয়ডারি কারখানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। পথচারীদের মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। এর আগে গত ২৬ জুন রাতে মিরপুরের প্রান্তিক হাউজিং এলাকায় ৫০ থেকে ৬০ জন সদস্য নিয়ে হামলা চালায় কিশোর গ্যাং 'ভইরা দে' গ্রুপ। গ্যাং লিডার আশিকের নেতৃত্বে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে তাণ্ডব। অন্যদিকে মিরপুর-১০ নম্বরের সিটি করপোরেশনের পরিত্যক্ত ভবনকে ঘাঁটি বানিয়েছে বাহুবালি নামে আরেক কিশোর গ্যাং। গত এপ্রিলে ছিনতাই করতে গিয়ে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পরও এখনো অধরা রয়েছে বাহুবালি গ্রুপের নেতা। কিশোর গ্যাংয়ের পাশাপাশি পেশাদার ছিনতাইকারী চক্রও সক্রিয় মিরপুরে। গত ২৯ জুন পল্লবীর বেনারশী পল্লিতে কুম কুম এন্টারপ্রাইজের এক কর্মী ব্যাংক থেকে ১৫ লাখ টাকা তুলে ফেরার পথে মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। ভুক্তভোগী বলেন, ব্যাগটা পায়ের কাছে ছিল। এক ঝটকায় টেনে নিয়ে গেল। এখন ব্যাংকের নাম শুনলেই সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। একের পর এক ঘটনায় রাজধানীর অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদপুর ও আদাবরের পাশাপাশি মিরপুর ও পল্লবীতেও অপরাধ বেড়েছে। ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে মিরপুর বিভাগে খুন হয়েছে ২২টি, যেখানে তেজগাঁও বিভাগে হয়েছে ১৫টি। ডাকাতির ঘটনাও বেশি ঘটেছে মিরপুরে। তবে ছিনতাই ও চাঁদাবাজির মামলা তেজগাঁও বিভাগে বেশি। পুলিশের দাবি, ভাসমান অপরাধীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে। ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার বলেন, ‘ভাসমান লোকজন আছে। শুধু পল্লবীতেই ৩৯টি ক্যাম্প রয়েছে। সেখানে থাকা সবাই অপরাধী নয়, তবে অনেকেই অভ্যাসগত অপরাধে জড়িত। এসব কারণেই অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলছে। স্থানীয়দের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে পুলিশের টহল ও নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
চরভদ্রাসনে সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নে ভ্রাম্যমাণ আদালত: ৮ মামলায় ৩ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা
ফুলবাড়ীতে সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদের বক্তব্যের প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল
আলফাডাঙ্গায় পানাইল স. প্রা. বিদ্যালয়ে আওয়ামী দোসরদের সদস্যপদের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে ইউএনও'র নিকট লিখিত অভিযোগ
বন্যার্ত মানুষের পাশে দীঘিনালা জোন, ১৬ আশ্রয়কেন্দ্রে ৭৫১ জনের মাঝে দুপুরের খাবার বিতরণ
