ঢাকা সত্যিই জাদুর শহর! একই জিনিস এক এলাকায় হাজার টাকায় কিনতে হলেও, অন্য কোথাও পেতে পারেন তার অর্ধেক দামে। রাজধানীর কোন এলাকার কী ধরণের পণ্যের দাম কম, তা জানা থাকলে আপনি সবসময়ই জিতবেন!
চলুন জেনে নিই, ঢাকার কোন এলাকায় কম দামে কী কিনবেন-
নিউমার্কেট: মার্কেটটির পাশেই খুচরা দোকানের একটি কেন্দ্র আছে। সেখানে কাপড়, ওষুধ, টয়লেট সামগ্রী ও গৃহস্থালি ব্যবহারের টুকিটাকি দ্রব্যাদি বিক্রয় হয়। এছাড়া বেশ কয়েকটি দোকানে বিক্রি হয় প্রসাধনী, স্যুভেনির, শোপিস, তৈজসপত্র, হালকা বৈদ্যুতিক দ্রব্য ও আসবাবপত্র। উত্তর দিকে মুদি দোকান, মাছ, মাংস, ফল ও সবজির বাজার রয়েছে। এছাড়া বইপত্র ও লেখালেখির সামগ্রী, ঘড়ি, চশমা, চামড়ার সামগ্রী ও ভ্রমণের উপকরণাদি, মুদি দ্রব্যাদি, কাপড়, অলঙ্কার ও বৈদ্যুতিক দ্রব্যাদি এবং দর্জি, ফাস্টফুড, ছবি তোলা এবং প্রসেসিংয়ের দোকান।
এলিফ্যান্ট রোড: জুতা, ব্যাগ, সিরামিকস, চীনামাটির বাসনপত্র, কাপড়, পর্দা, বেডিং সামগ্রী, নতুন-পুরাতন কম্পিউটার, ক্রয় বিক্রয় ও মেরামত করা হয়। এলিফ্যান্ট রোডে অবস্থিত কম্পিউটার, ইলেক্ট্রনিক্স, ক্যামেরা সামগ্রীর বৃহৎ মার্কেট।
শ্যামবাজার: সাধারণত প্রায় দৈনন্দিন খাদ্য তালিকার সব কাঁচা বাজার ও ফল-মূল পাওয়া যায়। এছাড়া তেল, লবণ, মসলাও পাওয়া যায়।
বাংলাবাজার: বাংলাদেশের মধ্যে বইয়ের বৃহত্তম মার্কেট। পাঠ্যবইসহ অন্যান্য অনেক ধরনের বই পাওয়া যায় সেখানে। এছাড়াও পোশাক সামগ্রীর জন্য এটি বিখ্যাত।
ধোলাইখাল: এখানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় হাজার পাঁচেক খুচরা যন্ত্রাংশের দোকান রয়েছে। মোটর পার্টসের দোকান ছাড়াও এখানে রয়েছে ড্রাম শিট, লেদ মেশিন, পুরনো লোহা লক্কড়ের দোকান।
জিঞ্জিরা: নতুন-পুরাতন ইলেক্ট্রনিক্স ও ধাতব যন্ত্রপাতি। এখানে মূলত তৈরি হয় গ্রিল কারখানা, তালা, ছাতার জালা, কব্জা, পাওয়ার প্রেস, প্লেঞ্জার, কেলাম, শিট, কয়েল, ওয়াশার, নাট-বোল্ট, স্ক্রু, তারকাঁটা, তোপকাটা, বালতি, অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি-পাতিল, কড়াই, টিন, শিট, কয়েল বিক্রি করে।
নীলক্ষেত: ঢাকা শহরের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী এবং তাদের অভিভাবকদের কাছে নীলক্ষেত অনেক পরিচিত। কেননা এখানে দেশি-বিদেশি বই পাওয়া যায়। পাশাপাশি ফটোকপির দোকান, বাইন্ডিং, কম্পিউটারে কাজ করার দোকান, ছাপাখানা, সাইবার ক্যাফে, অটো ক্যাড প্রিন্টিংয়ের দোকান, টেইলার্সের দোকান ও খাবার দোকান অবস্থিত।
ইসলামিয়া বহুমুখী সমবায় সমিতি: স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং, আইন, ইংরেজি মাধ্যম স্কুল, বিসিএস এবং অন্যান্য প্রতিযোগতামূলক পরীক্ষার নতুন-পুরাতন বই পাওয়া যায়।
বিসিএস কম্পিউটার সিটি: মার্কেটটিতে মোট দোকানের সংখ্যা ৩৫০টি। মার্কেট মালিক কর্তৃপক্ষ শপিং মলটি পরিচালিত হয়। এটি দেশের বৃহত্তম কম্পিউটার মার্কেট।
মোতালেব প্লাজা: মোবাইল ফোন সামগ্রী বিক্রয়, মেরামত ও পাইকারি বিক্রয় করা হয়। এখানে মোট দোকান সংখ্যা ১২০০টি।
হাতিরপুল: সিরামিক টাইলস, বাথরুম ফিটিংস সামগ্রী, কাঁচাবাজার ইত্যাদি।
আজিজ সুপার মার্কেট: পোশাক সামগ্রী, কারুপণ্য, হস্তশিল্প ও বই পাওয়া যায়।
গাউসুল আজম মার্কেট: এখানে রয়েছে ২০০শ’র বেশি দোকান। এখানে ফটোকপি, সাইবার ক্যাফে, মুদ্রণ ও প্রিন্টিং, টেইলার্স, ছবি বাঁধাইয়ের দোকান, কম্পিউটারের বিভিন্ন কাজ করা যায়।
বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স: ভবনের বিপণী বিতান অংশে প্রায় ২,৫০০টি দোকানের জায়গা রয়েছে। এছাড়া খাবারের দোকানের জন্য একটি নির্দিষ্ট তলা, মাটির নিচে বা বেসমেন্ট লেভেলে অবস্থিত একটি বড় শরীরচর্চা কেন্দ্র, একটি মাল্টিপ্লেক্স সিনেমা হল এবং উপরের তলায় শিশুদের বিনোদন কেন্দ্রসহ একটি খাবারের রেস্তোরাঁ রয়েছে।
বাংলামটর: মোটরগাড়ির যন্ত্রপাতি সামগ্রী পাওয়া যায়।
বেনারশী পল্লী: বেনারশী পল্লী একসময় শুধুমাত্র বেনারশী শাড়ির জন্যই বিখ্যাত ছিল। গত বছর কয়েক ধরে মিরপুর বেনারশী পল্লিতে বেনারশী শাড়ি ছাড়াও অন্যান্য সব ধরনের শাড়ি পাওয়া যায়। এছাড়া আরও নতুন নতুন কালেকশন পল্লীতে তৈরি হচ্ছে।
গুলিস্তান: কাপড়, জুতা, খেলনা, ক্রোকারিজ, ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রীসহ সব ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া যায়।
আরামবাগ: বিভিন্ন ক্রীড়া সংঘ, কম্পিউটার্স, কম্পোজ, ডিজাইন, প্রিন্টিং প্রেস ইত্যাদির জন্য বিখ্যাত।
যমুনা ফিউচার পার্ক: এশিয়ার সর্ববৃহৎ শপিং মল হিসেবে পরিচিত যমুনা ফিউচার পার্ক। এখানে সব ধরনের কেনাকাটা ও বিনোদন সুবিধা রয়েছে।
হজরত শাহজালাল মার্কেট: এখানে মেডিক্যাল, ও লেভেল, এ-লেভেল, বিবিএ, এমবিএ, জিম্যাট, স্যাট, টোফেল, জিআরই, আইইলটিসের প্রয়োজনীয় বই পাওয়া যায়।