ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ৫ মে ২০২৬ ২২ বৈশাখ ১৪৩৩
৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘুসের টাকা ফেরত দেন ওসি বশির
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Thursday, 31 March, 2022, 12:16 PM

৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘুসের টাকা ফেরত দেন ওসি বশির

৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘুসের টাকা ফেরত দেন ওসি বশির

বরগুনার বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বশিরুল আলমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, তিনি মিথ্যা অভিযোগ এনে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ঘুস নিয়ে পরে ৯৯৯-এ কল করায় ঘুসের টাকা ফেরত দিয়েছেন। তিনি ভুয়া অভিযোগ এনে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে পুনরায় ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। মঙ্গলবার সকালে বরগুনা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর মল্লিকের মাধ্যমে বরিশাল বিভাগীয় পুলিশ কমিশনার বরাবর বামনার ওসি বশিরুল আলমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির একটি লিখিত অভিযোগ করেন এক ভুক্তভোগীর বোন শাহানা বেগম।

অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে, বরগুনার বামনা উপজেলার খোলপটুয়া বাজারে ইলেকট্রিক ব্যবসায়ী রাসেল মল্লিকের কাছ থেকে কিছুদিন আগে বামনা থানার ওসি বশিরুল আলম কিছু ইলেকট্রিক পণ্য ক্রয় করেন। ওইদিন সন্ধ্যায় ওসি বশিরুল আলম নিুমানের তার বিক্রির অভিযোগ এনে ব্যবসায়ী রাসেলকে থানায় ডাকেন। পরে স্বজনরা থানায় গেলে ওসি বলেন, রাসেল নিুমানের তার বিক্রি করে। ওকে এখন কোর্টে চালান দেওয়া হবে। এসব ভয়ভীতি দেখিয়ে ৪০ হাজার টাকা ব্যবসায়ী রাসেলের স্বজনের কাছে ঘুস দাবি করেন। পরে স্বজনরা কোনো উপায় না পেয়ে ২০ হাজার টাকা দিয়ে ব্যবসায়ী রাসেলকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন।

এরপর ব্যাবসায়ী রাসেল মল্লিক জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে ২০ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়টি জানান। পরে ওসি বশিরুল আলম ঘুস নেওয়া ২০ হাজার টাকা আবার রাসেলকে ফেরত দিয়ে পরিবারের সবাইকে শাসিয়ে যান এবং বলেন-তোদের কপাল পুড়ছে। দেখে নেব। তিন দিন আগে ভুক্তভোগী রাসেল ও তার পরিবারসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে স্থানীয় একটি অসাধু চক্রকে দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ এনে হয়রানি করছেন এবং মামলার ভয় দেখিয়ে আবারও ১ লাখ টাকা দাবি করেন তিনি। মঙ্গলবার এসব মিথ্যা অভিযোগ ও হয়রানি থেকে পরিত্রাণ পেতে বিভাগীয় পুলিশ কমিশনার ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন রাসেলের বোন।

ব্যবসায়ী রাসেলের বোন সাহানা বেগম বলেন, তিন দিন আগে আমার স্বামী, ভাই ও স্বজনসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ওসি বশিরুল আলম একটি কুচক্রী মহল দ্বারা একটি মিথ্যা/ভিওিহীন অভিযোগ নিয়েছেন। সে অভিযোগ থেকে রেহাই পেতে আমাদের কাছে ওসি আবার ১ লাখ টাকা ঘুস দাবি করছেন। আমরা এসব থেকে মুক্তি চাই।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রাসেল মল্লিক বলেন, কিছুদিন আগে বামনার ওসি বশিরুল আলম স্যার আমার দোকান থেকে কিছু বৈদ্যুতিক তার কিনে নেন। বিকালে তিনি আমাকে থানায় ডেকে নিয়ে বলেন-তুই দুই নম্বর তার বিক্রি কর। তোকে এখন কোর্টে চালান দেব। এসব বলে আমাকে থাপ্পড় মারে। পরে আমার স্বজনরা থানায় এলে তাদের কাছে ৪০ হাজার টাকা ঘুস দাবি করেন। টাকা না দিলে আমাকে কোর্টে চালান দেবেন। একপর্যায়ে ২০ হাজার টাকা ওসিকে দিয়ে আমাকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন। পরে আমি ৯৯৯-এ ফোন দিলে ওসি আমাকে টাকা ফেরত দিয়ে অনেক ভয়ভীতি দেখিয়ে চলে যান এবং বলেন-এ মজা বুজামু আনে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বশিরুল আলম বলেন, বিষয়টি মিথ্যা, এ রকম কিছুই হয়নি। ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য কেউ আমার বিরুদ্ধে এসব করাচ্ছে।

বরগুনার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর মল্লিক বলেন, এ ব্যাপারে আমি একটি অভিযোগ পেয়েছি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) বিষয়টি তদন্ত করছেন। তদন্তের পর অভিযোগের সত্যতা পেলে ওসি বশিরুল আলমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status