কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে রাতের নির্জনে’, ‘যেখানেই সীমান্ত তোমার সেখানেই বসন্ত আমার’, ‘মৌসুমি কারে ভালোবাসো তুমি’, ‘আজ এই বৃষ্টির কান্না দেখে মনে পড়ল তোমায়’, ‘এই রুপালি গিটার ফেলে’, ‘তুমি রোজ বিকেলে আমার বাগানে ফুল নিতে আসতে’, ‘আমায় ডেকো না ফেরানো যাবে না’।
গানের মতোই তাকে আর ফেরানো গেল না। কোনো ডাকেই আর কখনোই তাকে ‘ফেরানো যাবে না’। সবাইকে কাঁদিয়ে মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন অসংখ্য কালজয়ী গানের নন্দিত গীতিকবি কাওসার আহমেদ চৌধুরী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।
এর আগে গত ১১ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি হয়েছিলেন বাংলাদেশের খ্যাতিমান এই গীতিকবি। চলতি বছরের শুরুতেই নানা জটিলতায় অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। সেদিনই জানা যায় তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। কাওসার আহমেদ চৌধুরী কিডনি রোগসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।
কাওসার আহমেদ চৌধুরী একাধারে কবি, লেখক, গীতিকার, চিত্রশিল্পী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৪৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের (বর্তমান বাংলাদেশ) সিলেট জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন।
মাত্র ১১ বছর বয়সেই কবিতা আর জ্যোতিশাস্ত্রের প্রতি অনুরাগ তৈরি হয় কাওসার আহমেদ চৌধুরীর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে ভর্তির পর স্বপ্ন দেখেন চিত্রশিল্পী হওয়ার। কিন্তু সেই স্বপ্ন বেশিদিন স্থির হয়নি। এরপর নির্মাণের প্রতি ঝোঁক থাকলেও হয়ে ওঠেনি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি গান লেখা শুরু করেন।
পরবর্তীতে গান লেখা ও জ্যোতিষশাস্ত্রকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। এর পাশাপাশি তিনি বেশ কিছু টিভি নাটক রচনা এবং পরিচালনা করেছেন। এদেশের সঙ্গীত প্রেমীদের কাছে কাওসার আহমেদ চৌধুরী হয়ে উঠেছিলেন এক অনবদ্য গীতিকার। যার গানের কথামালার কারণে ভক্তরা দীর্ঘ সময় মনে রাখবে তাকে।
কাওসার আহমেদ চৌধুরী এলআরবি, মাইলস, সামিনা চৌধুরী, লাকী আখন্দ, নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরীর মতো অনেক বিখ্যাত গায়ক ও ব্যান্ডের জন্য বেশ কয়েকটি বিখ্যাত গানের কথা লিখেছেন। যা তিনি না থাকলেও আজীবন থেকে যাবে।
লিখেছেন ‘ভাগ্য জানার উপায়’ নামের বই। এ ছাড়া ‘ঘুম কিনে খাই’ নামে তার একটি কাব্যগ্রন্থ রয়েছে। একাধিক তথ্যচিত্রও তিনি নির্মাণ করেন।