ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ২৭ মে ২০২৬ ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
পীরের বাড়িতে নৌকায় ভেজানো দুধ চিতই, খেলেই পূরণ হয় মনের আশা!
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Tuesday, 22 February, 2022, 8:26 PM

পীরের বাড়িতে নৌকায় ভেজানো দুধ চিতই, খেলেই পূরণ হয় মনের আশা!

পীরের বাড়িতে নৌকায় ভেজানো দুধ চিতই, খেলেই পূরণ হয় মনের আশা!

ফরিদপুরের নগরকান্দায় প্রতি বছর মাঘী পূর্ণিমাতে কথিত এক পীরের বাড়িতে নৌকায় ভেজানো দুধ চিতই! খেলে পূরণ হয় মনের আশা; সেড়ে যায় রোগবালাইও। ২৫ বছর ধরে চলে আসছে এই রীতি।  

বাড়ির উঠানে কাঠের নৌকা। লম্বায় ২৭ ফুট, চওড়ায় ৬। চারপাশে অলৌকিক পরিবেশ। তারপাশেই সারি-সারি চুলায় তৈরি হচ্ছে পিঠা। জ্বলছে খেঁজুরের রস আর দুধ। এরপর সব ঢালা হয় সেই নৌকায়।

নগরকান্দার সদরবেড়া গ্রামের তপন ফকির। এলাকায় একজন পীর হিসেবেই পরিচিত তিনি। তার বাড়িতেই নৌকায় ভিজানো দুধ চিতাইয়ের আয়োজন। কথিত এই পীরের কাছেই প্রশ্ন ছিল- এভাবে পিঠা পরিবেশনে বিশেষত্ব্য কী? আধ্যাত্মিক ক্ষমতা পেলেন কোথায়?

কথিত পীর তপন ফকির বলেন, আল্লাহ করাইতেছে বিধায় করা হচ্ছে। আগে নবী রাসুলদের কাছে আল্লাহর তরফ থেকে নাকি ওহি আসতো আর এখন যে সত্য পীর-মুর্শিদ আছেন তাদের কাছে নাকি আল্লাহর তরফ থেকে এলহাম আসে। সেই এলহামের ওসিলা করে এগুলো করা হচ্ছে।

প্রতি বছর মাঘী পূর্ণিমাতে ব্যতিক্রমী আয়োজনটি করা হয়। চলে মধ্যরাত পর্যন্ত। সেখানে কেউ আসেন পিঠা খেয়ে মনের আশা পূরণে, কারও বা উদ্দেশ্য থাকে রোগবালাই থেকে মুক্তি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ঘটনাটি। নিজ চোখে তা দেখতে অনেকে ভিড় করছেন সেখানে।

জানা গেছে, তপন ফকিরের দুধ চিতাইয়ের মেলা’ নামে পরিচিত এই দুধ চিতই উৎসব শুরু হয়েছে গত বৃহস্পতিবার থেকে। শনিবার রাতে শেষ হয় এ অনুষ্ঠান। সন্ধ্যায় শুরু হয় পিঠা খাওয়ার আয়োজন। সন্ধ্যার পর পাতিলে দুধ আর খেঁজুরের রস মিশিয়ে ঢেলে দেওয়া হয় নৌকায়। এরমধ্যে ডুবিয়ে দেওয়া হয় চিতই পিঠা। বাটিতে তুলে তুলে পরিবেশন করা হয় ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মাঝে।

তপন সাধুর বাড়ির খাদেম মো. আব্বাস খাদেম বলেন, এবার প্রতিদিন মেলায় ৫ মণ দুধ, ১ মণ খেঁজুরের রস আর প্রায় ১০ হাজার পিস চিতই পিঠা ভেজানো হয়। সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় খাওয়া, চলে গভীর রাত পর্যন্ত। প্রতিদিন আয়োজনের প্রায় পুরোটাই শেষ হয়ে যায়।
উৎসব দেখতে স্থানীয়রা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে অগণিত মানুষ ভিড় করেন।

ফরিদপুর জেলা সদর থেকে আগত আহমেদ সৌরভ বলেন, আমি জীবনে কোথাও দেখি বা শুনি নাই এরকম নৌকার মধ্যে ভেজানো পিঠার কথা। তাই দেখতে এসেছি। ব্যতিক্রমী বটে, বেশ ভালো লেগেছে।

গ্রামের বাসিন্দা উৎপল কুমার রায় বলেন, ব্যতিক্রমী আয়োজন হবে জেনে এখানে পিঠা খেতে এসেছি। একদম গরম ভেজানো পিঠা।

এ বিষয়ে তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেখে আসছি, মাঘ মাসের শেষ দিকে তিন দিনব্যাপী এমন ধরনের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় এলাকাবাসী ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষের আগমন ঘটে।



পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status