ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ১ জুলাই ২০২৬ ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
উটের পিঠে মোবাইল ক্লিনিক
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Saturday, 27 November, 2021, 11:45 AM

উটের পিঠে মোবাইল ক্লিনিক

উটের পিঠে মোবাইল ক্লিনিক

মরুভূমির মতো ধু-ধু পথ। জনপদ দূরের কথা, পানীয় জলের আশাও সুদূর পরাহত। দূরের অস্তাচলে দু-একটা মরু-বৃক্ষ। লোকালয়ের ছিটেফোঁটা বলতে ওই অতটুকুই। এর ভেতর দিয়েই ধুলা উড়িয়ে ছুটে চলেছে উটগুলো।

খরাপীড়িত কেনিয়ার এই দৃশ্যও যেন তীর্থের কাক-কালেভদ্রে মেলে। ওই ১৩ মরু-জাহাজের পিঠে ওষুধের বোঁচকা নিয়ে যাচ্ছেন উজ্জ্বল হলুদ টি-শার্ট পরা সাত পুরুষ এবং তিনজন নার্স। বোঁচকাগুলোতে রয়েছে ওষুধ, ব্যান্ডেজ আর পরিবার পরিকল্পনা-পণ্য। যেন পশুদের খুরের ওপর একটি আস্ত মোবাইল ক্লিনিক। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর সেখানকার পুরুষ, মহিলা এবং শিশুরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে পড়ে। অস্থায়ী তাঁবু গেঁড়ে শুরু হয় স্বাস্থ্যসেবা। পূর্ব আফ্রিকার দেশটিতে এমনিতেই স্বাস্থ্য খাত দুর্বল। অর্থনৈতিক অবকাঠামোগত দুর্বলতার পাশাপাশি যোগ হয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি জনসংখ্যার দেশটি ঘিরে রয়েছে বিস্তীর্ণ সমতল মরুপ্রান্তর আর উপত্যকা। ২ লাখ ২৪ হাজার ৮১ বর্গমাইলের দেশটির যোগাযোগ-অবকাঠামো অত্যন্ত দুর্বল। যে কারণে রাজধানী নাইরোবির সঙ্গে অন্য প্রদেশগুলোর বিচ্ছিন্নতা তখনই ধরা পড়ে, যখন দেখা যায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবার অভাবে মারা পড়ছেন সাধারণ মানুষ। শুধু তাই নয়, যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার দরুন বিভিন্ন জনহিতকর সংস্থা আয়োজিত সাধারণ কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবার আওতায়ও আসতে পারছেন না প্রত্যন্ত অঞ্চলের এসব মানুষ। আর এ কারণেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে উটের পিঠে চড়া মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা ক্লিনিকগুলো।

বাল্যবিয়ে থেকে শুরু করে প্রসূতি সমস্যা-সব কিছুতেই নির্ভরতার প্রতীক এই উট ক্লিনিকগুলো। প্রজননসেবা গ্রহণে পিছিয়ে পড়া কেনিয়ান দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা কিছুটা হলেও নিশ্চিত করেছে উটদের সম্মিলিত খুর। বিপদে বন্ধুর মতো, দুর্যোগপূর্ণ সময়ে বিমাসেবার ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে এ মরুপ্রাণীগুলো।

কেনিয়ার লোকিজি অঞ্চলের প্রত্যন্ত গ্রাম ইওয়াসো। নানিউকি শহর থেকে প্রায় ৫০ মাইল দূরে নানিউকি নদীর মধ্যবর্তী কণ্টকময় এ পরিবেশেই বাস করেন পেরিসিয়া। প্রাকৃতিক সম্পদ কমে যাওয়ায় এই এলাকার মানুষ পানি আনতে গিয়ে কখনো প্রতিযোগিতা করে কিংবা লুকোচুরি খেলে হাতিদের সঙ্গে। সেখানে স্বাস্থ্যসেবা তো সুদূর পরাহত। পিতৃতান্ত্রিক মনোভাবের দরুন প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।

এই শ্রেণির মানুষগুলোর জন্যই কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবার আয়োজন করেছে কমিউনিটি হেলথ আফ্রিকা ট্রাস্ট (চ্যাট)। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এরাই উটকে পরিবহণ হিসাবে ব্যবহার করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অবহেলিত মানুষগুলোর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করে। গত তিন বছরে চ্যাট কেনিয়ার ১৪টি কাউন্টির এক লাখেরও বেশি মানুষরে কাছে পরিবার পরিকল্পনার ওপর ফোকাস করে টিবি, এইচআইভি এবং কোভিড প্রতিরোধ পরিষেবা পৌঁছে দিয়েছে।

তাদের প্রচেষ্টায়ই প্রায় ৩৭ হাজার নারী দীর্ঘমেয়াদি পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন। কিন্তু পর্যাপ্ত খাদ্য, জ্বালানি কাঠ, পানি এবং জীবিকা অর্জনের অভাবে থাকা মানুষগুলো জীবন পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোকে এড়িয়ে যেতে বাধ্য হয়। ‘প্রজনন স্বাস্থ্য পরিষেবা দিয়ে আমি কী করব, যদি আমার পেটে ভাত না থাকে?’ বলেন ইওয়াসোর তিন সন্তানের মা পেরিসিয়া।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status