২৩ বছর সাজা ভোগের পর বাবার লাশের জন্য অপেক্ষা একমাত্র মেয়ের
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Saturday, 24 July, 2021, 8:45 PM
২৩ বছর সাজা ভোগের পর বাবার লাশের জন্য অপেক্ষা একমাত্র মেয়ের
কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে জামির হোসেন নামের এক কয়েদির মৃত্যু হয়েছে। তিনি প্রথমে কারাগারে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে শুক্রবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
জানা গেছে, সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি জামির হোসেন নীলফামারী জেলার মৃত আকবর আলীর ছেলে। মৃত জামির হোসেনের একমাত্র ওয়ারিশ তার কন্যা সদর উপজেলার মোল্লাতেঘরিয়া ক্যানালপাড়ার বাসিন্দা চাঁদনী খাতুন মরদেহ গ্রহণ করার জন্য জেল গেটে অপেক্ষা করছিলেন। তিনি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মোল্লাতেঘরিয়া ক্যানালপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। ১৯৯৮ সাল থেকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে জেলবন্দি হয়ে সাজা ভোগ করছিলেন তিনি।
এদিকে মৃত কয়েদি জামির হোসেনের মেয়ে চাঁদনী খাতুন বলেন, ‘মা রুমা খাতুনের সঙ্গে পারিবারিক কলহের জের ধরে মারধর করতে গিয়ে মা মারা যান। সেই মামলায় আব্বা জেল খাটছিলো। আর কয়েকদিন পরই জেল থেকে বের হওয়ার কথা ছিলো। এখন জেলখানার গেটে অপেক্ষা করছি বাবার মরাদেহ পাওয়ার জন্য।’
প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়াকে চিহ্নিত করছেন বলে জানান ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আশরাফুল আলম।
কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক মো. তায়েফ উদ্দিন মিয়া জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি জামির হোসেন বুকের ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। সংবাদ পেয়ে জেল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, জামির হোসেন ১৯৯৭ সালের একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হন। আর মাত্র কয়েকদিন পরই সাজা খেটে তার বের হওয়ার কথা ছিলো।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আশরাফুল আলম জানান, শুক্রবার রাতে কুষ্টিয়া জেলা কারাগার থেকে জামির হোসেন নামে যে রোগীকে ভর্তি করা হয়েছিলো তিনি কার্ডিয়াক অ্যাটাক জনিত কারণে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। রাত ১২টার দিকে তাকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।