প্রায় ২০ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র ও সামরিক জোট ন্যাটোর সেনারা যখন আফগানিস্তান থেকে চলে যাচ্ছে তখন কাবুলে অবস্থিত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, এ সপ্তাহে কাবুল থেকে বেলজিয়াম দূতাবাসের সব কূটনীতিকরা চলে গেছেন। অস্ট্রেলিয়া মে মাসে তাদের দূতাবাসে বন্ধ করে দেয়। ফ্রান্সের দূতাবাসও প্রায় খালি। ব্রিটেন এবং অন্যরা ক্রমাগত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে।
ইউরোপীয় একটি দূতাবাসের এক কূটনীতিক বিবিসিকে বলেন, প্রতিটি দেশের রাজধানীতে সরকারগুলো এখন কাবুলের নিরাপত্তা নিয়েই সবচেয়ে বেশি চিন্তিত।
বিবিসির খবর অনুসারে, কাবুলের অনেক দূতাবাস এবং ত্রাণ সংস্থার অফিসগুলো বিস্ফোরক নিরোধী দেয়াল এবং কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরা। িতারা আফগানিস্তানে থাকতে চাচ্ছেন। কিন্তু ধারণার চেয়েও আগেভাগে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার এবং একের পর এক অঞ্চল তালেবানের দখলে চলে যাওয়ার ঘটনায় সেই সংকল্পে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
খবরে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা এবং কোভিড পরিস্থিতির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে ধীরে ধীরে কাবুলে দূতাবাসগুলোতে কর্মীর সংখ্যা কমেছে। কিন্তু এখনকার অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে অনেকেই ব্যাগ গুছিয়ে রেখেছেন যাতে বিপদ বাড়লে দ্রুত চলে যাওয়া যায়।
পশ্চিমা একটি দেশের একজন কূটনীতিক বলেন, আমরা একটি স্পর্শকাতর অবস্থা পার করছি এবং প্রতিদিন পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি।
কাবুলে আরেকজন কূটনীতিক বিবিসিকে বলেন, শুধু পশ্চিমারাই যে চিন্তিত তা নয়। এমনকি চীনের রাষ্ট্রদূতও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে আরও বেশি আলোচনা চাইছেন।
তবে সবার নজর আমেরিকার দিকে। যুক্তরাজ্য বরাবরের মত আমেরিকানদের সিদ্ধান্ত-গতিবিধি খেয়াল করছে। শুধু যুক্তরাজ্য নয়, কাবুলে বহু বিদেশি দূতাবাসই অপেক্ষা করছে আমেরিকানরা কী করে।
আশার কথা হলো সম্প্রতি মার্কিন দূতাবাসে এক বার্তায় জানিয়েছে, কাবুলে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস খোলা এবং খোলাই থাকবে। তবে এটি শেষ পর্যন্ত থাকবে নাকি অন্য দূতাবাসগুলোকে সাহস দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র এমনটি বলেছে সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।