ডাক্তারের কাছে রোগী নয়, রোগীর কাছে ডাক্তার’ স্লোগানে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীমের উদ্যোগে তৃতীয়বারের মতো করোনাকালীন (কোভিড-১৯) সময়ে শরীয়তপুরের নড়িয়া ও সখিপুর থানার প্রতিটি ইউনিয়নের মানুষকে চিকিৎসকরা রোগীদের বাড়িতে গিয়ে ফ্রি ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা দেবে।
রোববার দুপুরে নড়িয়া উপজেলার চামটা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে ফ্রি ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা ক্যাম্পের ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম।
সখিপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, করোনায় থমকে আছে স্বাভাবিক জীবন। লকডাউন চলমান থাকায় সাধারণ রোগের চিকিৎসা নিতেও লোকজন হাসপাতালে যেতে পারছে না। সেসব মানুষের কথা ভেবেই পানিসম্পদ উপমন্ত্রীর উদ্যোগে তৃতীয়বারের মতো ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা শুরু করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা সেবায় দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বরগুলো (০১৭১৮৩৪৫৭৮৮, ০১৯১৭৭৭৭২৬৪ ও ০১৭০৩৯৭৭২৪৪) দিয়ে গ্রামে গ্রামে প্রচার করা হচ্ছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে ঘরে বসে ওই মোবাইল ফোনে কল দিলে পাওয়া যাবে স্বাস্থ্য সেবা ও পরামর্শ। রোগীরা ওই নম্বরে কল করে সমস্যার কথা জানালে চিকিৎসকরা সেখানে পৌঁছে যাবেন। প্রতিটি ইউনিয়নেই পর্যায়ক্রমে এই চিকিৎসক টিম কাজ করবে।
ফ্রি ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা সেবা দেয়া ডা, শওকত আলী ও ডা. শাহনাজ পারভীন বলেন, একটি বিশেষায়িত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়িকে একটি হাসপাতাল হিসেবে সাজানো হয়েছে। সেখানে রয়েছে চিকিৎসার সব ধরনের সরঞ্জাম। নড়িয়া উপজেলা ও সখিপুর থানার ইউনিয়নগুলো ঘুরে ঘুরে সব ধরনের চিকিৎসা সেবা দেবে। শুধু চিকিৎসা সেবা নয়, যারা চিকিৎসা নেবেন তাদের বিনামূল্যে ওষুধও দেয়া হবে। ওষুধ না থাকলে দেয়া হবে ওষুধ কেনার টাকা।
ভার্চুয়ালি উদ্বোধনকালে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম বলেন, করোনাভাইরাসে সারা বিশ্বে এখন সংকটময় অবস্থা। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে। তাই রোগীরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভয় পাচ্ছেন। আতঙ্ক নিয়ে কোনো রোগীকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসতে হবে না । চিকিৎসকরা রোগীদের বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা দেবে। নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সখিপুর থানা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সার্বিক তত্বাবধানে চলবে এ চিকিৎসা সেবা।
তিনি বলেন, রোগীদের কথা চিন্তা করে ভ্রাম্যমাণ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে করে আর কেউ করোনা দুর্যোগের মধ্যে চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত না হয়। ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা দেবে। সেই সঙ্গে দেয়া হবে ফ্রি ওষুধ। করোনা দুর্যোগকালীন চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাবে মেডিকেল ক্যাম্প। যতদিন দুর্যোগ না কাটবে ততদিন এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, আমরা সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট বুঝি। তাই দুঃসময়ে সাধারণ মানুষের যাতে কষ্ট না হয় সেজন্য এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের খাদ্য সহায়তাসহ বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। করোনা মোকাবিলায় আওয়ামী লীগ ও সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঘরবন্দি কর্মহীন অসহায় মানুষগুলো সব সুযোগ-সুবিধা পাবে।