সূর্যোদয়ের পূর্বেই হাঁকডাকে মুখর হয়ে ওঠে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনায় মাছের বাজার। জেলার সবচেয়ে বড় মাছের বাজার এটি । এখানে সব ধরনের দেশীয় মাছ ক্রয় বিক্রয় হয়। রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার পাইকারি ও খুচরা ক্রেতা ও বিক্রেতাগণ এই বাজার থেকে মাছ ক্রয় ও বিক্রয় করেন।
প্রতিদিন এই বাজারে মৎস্যচাষি ও জেলেরা বিভিন্ন খাল ও বিলের মাছ নিয়ে আসে। তবে চলতি বছর বৃষ্টি কম হওয়ায় পানির অভাবে বাজার জমতে কিছু সময় লেগেছে। বর্তমানে মাছের সরবরাহ বেশ ভালো বলে জানান মাছ বিক্রেতাগণ।
স্থানীয় কয়েকজন মৎস্যচাষী জানান, এলাকায় কয়েক বছর ধরে চলছে এ বাজার।এখানে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় প্রতিদিন শত শত ব্যবসায়ী বিভিন্ন স্থান থেকে মাছ বেচাকেনার জন্য আসেন। বিশেষ করে চাপ এবং পোনা মাছের জন্য এ বাজার খ্যাতি জেলাজুড়ে। প্রতিদিন কয়েক ঘন্টার এই বাজারে কয়েক লক্ষ টাকার মাছ কেনা বেচা হয়ে থাকে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,কাকিনা ভৈরব বাজার থেকে একটু দুরে লালমনিরহাট-বুড়িমারী আঞ্চলিক মহাসড়ক সংলগ্ন ক্রেতা ও বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়ে সড়কে যানজট'র সৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকেই ছোট-বড় গাড়িতে করে কেউ মাছ বিক্রি করতে আবার কেউ ক্রয় করতে বাজার আসছেন। দূরের ব্যবসায়ীরা বিশেষ করে স্থল বন্দর বুড়িমারী এবং পাটগ্রাম থেকে ক্রেতারা আসতে শুরু করেন আগের রাত থেকেই। এই মাছের বাজারের কারণে আশপাশে অনেকেই অনেক রকম ব্যবসা নতুন করে শুরু করেছেন।
কাকিনা ইউনিয়নের জেলে ও মৎস্যচাষী রবি বলেন, এ বাজার থেকে প্রতিদিন সকালে ৫-১০ মণ মাছ বিক্রি করি। এখানকার মাছের বেশ ভালো কদর রয়েছে। মাছ নিয়ে বাজারে বসে থাকতে হয় না। তবে গতবারের চেয়ে মাছের দরটা একটু কম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ক্রেতা ও বিক্রেতা বলেন,বছরের ৬/৭ মাস এই বাজারে মাছ কেনা বেঁচা হয়। কিন্তু এখানে বাজার মনিটরিং না থাকায় এক শ্রেণীর অসাধু ব্যক্তিরা ইচ্ছে মত সবার কাছ থেকে টোল আদায় করেন। এই বাজার থেকে সরকার বছরে কয়েক লক্ষ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত। এমনকি অনেক সময় টোল আদায়কারীর সঙ্গে ক্রেতা ও বিক্রেতার দ্বন্দ লেগে যায়। কিন্তু টোল আদায়কারীরা স্থানীয় হওয়ায় তারা শক্তি প্রয়োগ করে থাকেন। তারা বাজার মনিটরিং করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানান।
কালীগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ সাইয়েদুল মোফাচ্ছালীন বলেন, কাকিনার মাছ বাজারটি উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে মাছ বেচাকেনায় এক নিরব বিল্পব সৃষ্টি করেছে। এই বাজারের কারণে উপজেলার শত শত যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি মাছের উৎপাদনও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি জানান, মৎস্যচাষীদের এ বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেয়া হয়।