|
সেনবাগে ধানও চাউল সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন
মোঃ ইব্রাহিম, সেনবাগ
|
![]() সেনবাগে ধানও চাউল সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন খাদ্য গুদান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনাম হোসেন ও জসিম উদ্দিন ধান বিক্রি করতে আসা কৃষকদের নিকট থেকে নানা অজুহাতে বস্তা প্রতি ৩০ টাকা ও লেভারের বকশিসের নামে ৫শত টাকা আদায় করে। এছাড়াও কৃষকের ধান পরিমাপে কম দেখানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেনবাগের নজরপুর গ্রামের স্কুল শিক্ষক রফিকুল ইসলাম সরকারি ভাবে নায্যমূল্যে ধান সংগ্রহ অভিযানের প্রথম দিন তার জমিতে উৎপাদিত ইরি-বোরো ধান বিক্রি করতে নিয়ে আসেন সেনবাগ খাদ্য গুদামে। এখানে ধান আনার পর নানা অজুহাতে তার নিকট থেকে বস্তাপ্রতি ৩০ টাকা করে ১২৩০ টাকা ও লেভার বকশিরে নামে ৫শত টাকা আদায় করে। এছাড়াও তিনি অভিযোগ করে বলেন, তিনি নিজ বাড়ি থেকে ধান পরিমাপ করে বস্তা ডুকান। সে বস্তাতে তিনি প্রতি মনে সোয়া এক কেজি করে ধান বেশী ডুকান। কিন্তু তিনি খাদ্য গুদামে ধান পরিমাপ করতে গিয়ে দেখা যায় প্রতি বস্তায় সোয়া ২ কেজী ধান ওজনে কম। এসময় তিনি চ্যালেন্স করে ফের ধান পরিমাপ করলে ওজনে বাড়ি থেকে যে মাপ দিয়ে তিনি বস্তায় ধান ডুকিয়েছেন সে পাওয়া যায়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,সরকার কৃষকদের নায্য মূল নিশ্চিতে প্রতি কেজী ধান ৩৬ টাকা দরে ক্রয় করছে। কিন্তু সেখানে খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে নিয়ে গেলে নানা ভাবে অতিরিক্ত টাকা আদায় ও পরিমাপে ওজন কম দেখিয়ে হয়রানি করছে। এব্যাপারে সেনবাগ উপজেলা খাদ্যগুাম কর্মকর্তা এনাম হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে ভুক্তভোগী অভিযোগের অডিও শুনালে তিনি বস্তা প্রতি ৩০ টাকা ও বকশিসের ৫শত লেভার নিয়েছেন বলে জানান। এ সময় তিনি প্রতিনিধিকে নিউজ না করার জন্য নানা ভাবে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে তিনি অভিযোগ কারী শিক্ষককে দিয়ে মুঠোফোনে সাংবাদিককে এবিষয়ে কোন নিউজ না করার জন্য অনুরোধ করান। ওই খাদ্য কর্মকর্তা তার নিকট থেকে আদায় করা টাকা পেরৎ দিবে বলে প্রতিনিধিকে বলেন। এছাড়াও খাদ্য কর্মকর্তা এনাম, হোসেন ফের প্রতিনিধিকে নিউজ না করা করার অনুরোধ করেন এবং অতিরিক্ত আদায় করা অর্থ পেরৎ নেওয়ার জন্য শিক্ষককে ফোন দিয়েছেন বলে সাংবাদিককে বলেন,আগামীতে এ ধরণের কাজ করবেনা বলে জানান। এবিষয়ে সেনবাগ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আহমেদ হোসেন মজুমদারকে অবহিত করলে তিনি প্রতিনিধিকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। এসময় প্রতিনিধি খাদ্য নিয়ন্ত্রন কর্মকর্তাকে বলেন,আপনার অধিন্তরা বিষয়টি স্বীকার করেছেন এবিষয়ে তার নিকট প্রমান রয়েছে বলে জানালে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমাদের দায়ীত্ব কৃষকের তালিকা করা, আমাদের তালিকা আমরা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। এটি মনিটর করেন নির্বাহী অফিসার । এব্যপারে সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহসিয়া তাবাসসুমকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি বিষয়টি দেখছেন বলে জানান। উল্লেখ্য - এ বছর সরকার কৃষকদের নিকট থেকে ন্যায্য মূল্যে প্রতি কেজী ইরি-বোরো ধান ৩৬টাকা দরে ক্রয় করছেন। এ বছর সেনবাগের কৃষকদের নিকট থেকে ৯শত ২১ মেট্রিক টন ধান ও মেইল মালিকদের নিকট থেকে ৪৯ টাকা দরে ২৯১৩ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাউল ও ৬শত ৩ মেট্রিক টন আতপ চাউল সংগ্রহ করবে সরকার। ধান সংগ্রহ অভিযান ১৩ মে থেকে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত উপজেলার ১নং থেকে ৯নং ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত কৃষকদের কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে ধান সংগ্রহ করা হবে বলে জানানো হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আহমদ হোসেন মজুমদার এর সভাপতিত্ব অনুষ্ঠিত প্রধান অতিথি ছিলেন নির্বাহী অফিসার মুহসিয়া তাবাসসুম, বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল করিম, খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ এনাম হোসেন সহ খাদ্য বিভাগ ও কৃষি বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় কৃষকরা। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
