কক্সবাজারের পেকুয়ায় মরজিনা আক্তার নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী দিদারুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার উজানটিয়া ইউপির নতুন ঘোনা এলাকার শ্বশুর বাড়ি থেকে গৃহবধূর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। স্বামী দিদারুল ইসলাম ওই এলাকার মামুনুল হকের ছেলে।
নিহত গৃহবধূ মরজিনা আক্তার পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউপির রব্বত আলী পাড়ার আশরাফ আলীর মেয়ে। তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়েছিল। তাদের সংসারে আব্দুল্লাহ মো. লাবিব নামের ১৬ মাস বয়সী এক শিশুসন্তান রয়েছে।
নিহতের বাবা আশরাফ আলী বলেন, মরজিনা গত তিনদিন স্বামীসহ আমার বাড়িতে ছিলো। এ সময় তার কোনো ধরনের অসুস্থতা লক্ষ্য করিনি। বৃহস্পতিবার বিকেলে শ্বশুর বাড়িতে ফিরে যায় সে। শুক্রবার সকালে আমাকে তার গুরুতর অসুস্থতার খবর দেয়া হয়। কিন্তু শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে তাকে মৃত দেখতে পাই। মেয়ের নিথর দেহের গলায় আঘাতের চিহ্ন ও নাকে ফেনা দেখতে পেয়েছি। এ সময় মরদেহের পাশে তার শিশুসন্তানকে কাঁদতে দেখা যায়।
নিহত মরজিনার মা শফিকা বেগম বলেন, বিয়ের কয়েক মাস পর থেকে যৌতুকের জন্য মেয়েকে শারীরিক নির্যাতন চালাতো তার স্বামী ও শাশুড়ি। মেয়ের সুখের জন্য কয়েকদফা টাকাও দিয়েছি। কয়েক মাস আগে যৌতুকের দাবিতে মরজিনাকে আমাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা বৈঠকের পর গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে শ্বশুর বাড়ি নিয়ে যায়।
দিদারুল ইসলামের বাবা মামুনুল হক বলেন, মরজিনাকে যৌতুকের জন্য কোনো সময় নির্যাতন করা হয়নি। পুত্রবধূ অনেক ভাল মেয়ে ছিলো। বৃহস্পতিবার রাতে বুক ব্যথায় ছটফট করতে করতে তার মৃত্যু হয়।
পেকুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কানন সরকার বলেন, নিহত গৃহবধূর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার স্বামী পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।