|
করোনা ঠেকাতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার অভাব স্পষ্ট; আক্রান্তের হার বেড়েছে বহুগুন
নতুুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() করোনা ঠেকাতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার অভাব স্পষ্ট; আক্রান্তের হার বেড়েছে বহুগুন রবিবার রাতে(০৪ এপ্রিল) স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে আয়োজিত 'করোনাভাইরাস: জটিল ভাইরাস প্রতিহত করতে বিভ্রান্তিকর বাস্তবায়ন পদ্ধতি' শীর্ষক এক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব মতামত দেন। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নয়ন ফোরাম নিয়মিতভাবে সাপ্তাহিক এই ওয়েবিনার আয়োজন করে আসছে। এতে অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন, বিএসএমএমইউ এর ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমান এবং আয়ারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি কলেজ ডাবলিন এর ট্রান্সলাশনাল রিসার্চ ম্যানেজার ডা. আরমান রহমান। ওয়েবিনার সঞ্চালনা করেন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নয়ন ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার। আলোচনার শুরুতে ডা. মুশতাক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নয়ন ফোরামকে এরকম একটি জনগুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে আমরা আবারো খুব জটিল সময়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছি। ইতিমধ্যেই সুনামীর ঢেউ উঠে গেছে। জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ এবং গোটা ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের হার সবচেয়ে কম ছিল। ওই সময় টিকাও চলে আসে। সবমিলিয়ে সাধারণ মানুষ এমনকি দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও স্বাস্থ্যবিধির ব্যাপারে উদাসীন হয়ে পড়েন। নির্বাচনী জনসভা, বিয়েশাদির মতো সামাজিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সব শুরু হয়ে গেলো। করোনার সংক্রমণ খোলা জায়গার চেয়ে বদ্ধস্থানে বেশি হয়। সুতরাং, তখন থেকেই সংক্রমণের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসাথে মৃত্যুর হারও বেড়েছে। তাছাড়া ব্রিটেন, ব্রাজিলের ভ্যারিয়েন্টও দেশে এসেছে। ডা. আরমান বলেন, ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, ওবেসিটি- সবমিলিয়ে আগে শোনা গেছে বৃদ্ধদের মৃত্যুঝুঁকি বেশি। কিন্তু এখন অনেক অল্পবয়সী তরুণও করোনায় মারা যাচ্ছে। বাস্তবতা হল কোন রোগী আইসিইউতে যাবেন, আর কে যাবেন না এটা এখনো কেউ জানেন না। তাই করোনা নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো আগে থেকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা তৈরি করা। মানুষকে সচেতন করাটাই মূল কাজ। আয়ারল্যান্ডে সেজন্য পাঁচ মাস ধরে লকডাউন চলছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের যথেষ্ট ক্ষতি হলেও এটা করা হচ্ছে শুধু মানুষকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাবার জন্য। বাংলাদেশেও যদি মানুষকে এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেয়া যে'ত তাহলে মানুষের মধ্যে লকডাউন নিয়ে কোন নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হ'ত না। ডা. মুশতাক ডা. আরমানের সাথে সহমত পোষণ করে বলেন, দেশের মানুষের মধ্যে লকডাউন শব্দটার প্রতি একটা ভীতি তৈরি হয়ে গেছে যেটা কাম্য নয়। যাই হোক, এই শব্দটা ব্যবহার না করে বিকল্প কিছু ব্যবহার করা যেতে পারে৷ তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যারা দিনে আনে দিন খায় তাদের কতদিন ঘরে আঁটকে রাখা যাবে? স্বল্প সময়ের জন্য পরিপূর্ণ লকডাউন করা যেতে পারে। আর ওই সময়ের মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে, যেসব স্থানে জনসমাগম বেশি হয় সেখানে যেনো স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়। পুলিশ দিয়ে লকডাউন কার্যকর করায় কোন ফল আসবে না। জনসম্পৃক্ততার কোন বিকল্প নেই। অধ্যাপক সায়েদুর বলেন, বাংলাদেশে এখন সংক্রামণের যে হার তা পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই উর্ধ্বমুখী প্রবণতা থামাতে ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে দুই থেকে তিন সপ্তাহের জন্য কারফিউ জারি করা প্রয়োজন। শিল্পকারখানা খোলা রেখে, তাদের জন্য পরিবহণ ব্যবস্থা চালু রেখে লকডাউন করে কোন লাভ হবে না। তাছাড়া শুধু একটি ভ্যাকসিনের উপর নির্ভর করে থাকায় বর্তমানে ভ্যাকসিন প্রাপ্তি নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে তাতেও জনগণ চরম মাত্রায় হতাশ হয়ে পড়েছে। কিন্তু ডা. মুশতাকের মত- কারফিউর মতো ব্যবস্থা করা হলে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য যে সামাজিক নিরাপত্তা আর সহায়তা প্রয়োজন তার জন্য সরকার বা দায়িত্বশীল অন্যান্য গোষ্ঠী প্রস্তুত নয়। চীন, ভিয়েতনামের মত দেশ মানুষকে ঘরে রাখতে শুধু কঠোর ব্যবস্থা-ই নেয়নি, জনগণের জীবন-জীবিকার দায়িত্বও নিয়েছে। ডা. আরমান অবশ্য অধ্যাপক সায়েদুরের সাথে সুর মিলিয়ে বলেন, করোনা এমন এক রোগ যেটাকে আংশিক শক্ত লকডাউন আবার আংশিক নমনীয় হয়ে নিঃশেষ করা যাবে না। করোনা সম্পর্কে বাংলাদেশে এমনকি অনেক শিক্ষিত মানুষের মধ্যেও ভুল ধারণা রয়েছে। তাদেরকে এতোদিনেও সঠিক ধারণা দেয়া সম্ভব হয়নি। ভ্যাকসিন প্রদানের ক্ষেত্রেও ধনী-দরিদ্র, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, পুরুষ-নারী, শহর-গ্রাম এভাবে বৈষম্য হয়েছে উল্লেখ করে অধ্যাপক সায়েদুর বলেন, প্রাথমিকভাবে ভ্যাকসিন সংগ্রহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দারুণ সফল হলেও ভ্যাকসিনেশন কর্মসূচীতে ভীষণভাবে ব্যর্থ। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
আলফাডাঙ্গায় ২৮ জুন ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন: সফল করতে প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন
স্মার্টফোন বিস্ফোরণে আতঙ্ক, টঙ্গীতে ভিভো ফোনে অল্পের জন্য রক্ষা পেল পরিবার
সেনাবাহিনীর উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
সাতক্ষীরায় রাফাতের মৃত্যুর ঘটনার সঠিক তদন্ত পূর্বক দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে মানববন্ধন
