এমপি হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী জাহিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনের পৃথক দুটি মামলায় রিমান্ড শুনানি পিছিয়ে ৮ নভেম্বর দিন ধার্য করেছে আদালত।
সোমবার ঢাকার পৃথক দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রিমান্ড শুনানির জন্য এ দিন ঠিক করেন।
তাদের রিমান্ড বিষয়ে শুনানির দিন আজ ধার্য ছিল। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ একটি প্রতিবেদন পাঠিয়ে বলেছে, আসামিরা অন্য মামলায় রিমান্ডে আছেন। তাই আদালতে পাঠানো সম্ভব হলো না। ওই আবেদন বিবেচনায় নিয়ে বিচারক রিমান্ড শুনানির জন্য পুনরায় এদিন নির্ধারণ করেন।
এর আগে, বৃহস্পতিবার দুই আসামির বিরুদ্ধে পৃথক দুই মামলায় ৭ দিন করে মোট ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. দেলোয়ার হোসেন। এরপর পৃথক দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
গত ২৫ অক্টোবর রাতে ল্যাবএইডের সামনে নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট মো. ওয়াসিফ আহমেদ খানকে মারধরের ঘটনায় পরদিন ধানমন্ডি থানায় ইরফান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এরই মধ্যে মামলার আসামি হাজী সেলিমের প্রটোকল কর্মকর্তা এবি সিদ্দিক দীপুকে গত ২৭ অক্টোবর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করলে তাকে তিনদিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত।
২৬ অক্টোবর পুরান ঢাকার দেবি দাস লেনে হাজী সেলিমের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ইরফান ও জাহিদুলকে গ্রেফতার করে র্যাব। অভিযানে ইরফানের কাছ থেকে একটি অবৈধ পিস্তল ও একটি এয়ারগান উদ্ধারের ঘটনায় অস্ত্র আইনে এবং কয়েক বোতল মদ পাওয়ায় মাদক আইনে চকবাজার থানায় মামলা করা হয়।
অভিযানে ইরফানের সহযোগী জাহিদের কাছ থেকে একটি অবৈধ পিস্তল উদ্ধারের অভিযোগে অস্ত্র আইনে ও ৪০৬ ইয়াবা উদ্ধারের অভিযোগে মাদক আইনে মামলা করা হয়। অভিযানে সেলিমকে মদ্যপান ও ওয়াকিটকি ব্যবহারের অপরাধে দেড় বছর ও জাহিদুলকে ওয়াকিটকির জন্য ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয় র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সেলিমপুত্র ইরফান ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজায় কারাগারে যাওয়ায় এরই মধ্যে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।