ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ২১ মে ২০২৬ ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
হাজী সেলিমের দখলে বধির স্কুলের জায়গা
শিগগিরই ভাঙা হবে অবৈধ স্থাপনা
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Sunday, 1 November, 2020, 1:35 PM

শিগগিরই ভাঙা হবে অবৈধ স্থাপনা

শিগগিরই ভাঙা হবে অবৈধ স্থাপনা

বাকশ্রবণ প্রতিবন্ধী স্কুলের নামে রাজধানীর বুড়িগঙ্গার তীরে সোয়ারিঘাট এলাকায় বরাদ্দ হওয়া জমির দখল কর্তৃপক্ষের কাছে শিগগিরই ফের বুঝিয়ে দেয়া হবে। সরকার থেকে বরাদ্দ পাওয়া এক একর জমি ১৫ বছর ধরে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিম অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। যদিও এর আগে আরও তিন দফা দখলমুক্ত করে স্কুল কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিয়েছিল জেলা প্রশাসন। কিন্তু প্রতিবারই হাজী সেলিম তার ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এ জমি দখলে নিয়েছেন। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) শহীদুল ইসলাম শনিবার দুপুরে  জানান, পুনরায় এ জমি বুঝিয়ে দিতে স্কুল সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে দখল হওয়া এ জমিতে গড়ে উঠা ফিলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙতেও দ্রুত উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়ন ও সহযোগিতায় অগ্রাধিকার দিয়ে আসছেন। আমরা এ বিষয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এ জমি উদ্ধার করে দেব। স্কুল কর্তৃপক্ষ জমির সব ডকুমেন্ট আমাদের কাছে দিয়েছে।

শনিবার বিকালে এ বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয় বধির সংস্থার সভাপতি নাসির আহমেদ বলেন, ‘অত্যন্ত জঘন্য এবং অবর্ণনীয় পাপ করেছে দখলকারীরা। হাজী সেলিম একজন সংসদ সদস্য হয়ে এমন কাজ কি করে করেন। ২০০৫ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রাজধানীর লালবাগ এলাকায় সরকারি খাস জমি ৫ লাখ টাকায় ৯৯ বছরের জন্য চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রদান করেন ঢাকা বধির হাই স্কুলের নামে। সেই থেকেই ওখানে বাকশ্রবণ প্রতিবন্ধীদের নামে স্কুলটি করার কথা ছিল। কিন্তু হাজী সেলিম বারবার তা দখলে নিয়ে বিভিন্ন স্থাপনাসহ সিএনজি স্টেশন নির্মাণ করেন। ঢাকা জেলা প্রশাসন কর্তৃক ওই জমি দু’বার দখলমুক্ত করে স্কুল কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিলেও সন্ত্রাসী কায়দায় তা প্রত্যেকবারই দখলে নেন হাজী সেলিম। আমরা এখন একটি সুযোগ পেয়েছি। বৃহস্পতিবার আমাদের সংস্থার সহ-সভাপতি হারু চৌধুরী ঢাকা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করেছেন। ডিসি বলেছেন, তারা আবার এ জায়গা দখলমুক্ত করে বুঝিয়ে দেবেন। রোববার-সোমবারের মধ্যে তা চূড়ান্ত করা হবে।

নাসির আহমেদ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বাকশ্রবণ প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকারের দেয়া এ জমিতে একটি অত্যাধুনিক স্কুল তৈরি করতে আমরা বহু বছর আগেই প্রস্তুত ছিলাম। স্কুলের অনুকূলে সাড়ে ৪ কোটি টাকা বরাদ্দও আছে। কিন্তু এ জমিটি হাজী সেলিমের দখলে থাকায়-আমাদের স্বপ্ন এখনও পূরণ হয়নি। প্রায় ৪ শতাধিক বাকশ্রবণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী জরাজীর্ণ অবস্থায় রাজধানীর বিজয়নগরের বাংলাদেশ জাতীয় বধির সংস্থার কয়েকটি রুমে ক্লাস করছে। আমাদের সংস্থারও কোনো উন্নয়ন করতে পারছি না, যেহেতু বিভিন্ন কক্ষে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছে। লালবাগের ওই জমি পেলে একটি স্কুল তৈরি করা হবে। যেখানে এখানকার সব শিক্ষার্থী পড়াশোনা করবে। ওখানে আবাসিক ভবনও করা হবে।

ঢাকা সরকারি বধির হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আমিনুল ইসলাম  জানান, আমাদের স্কুলের নামে বরাদ্দ হওয়া এ জমি উদ্ধার করতে গিয়ে আমরা বহুবার লাঞ্ছিত হয়েছি। ২০০৫ সালের ৮ আগস্ট জমিটি স্কুল কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেয় ঢাকা জেলা প্রশাসন। জমিটি বুঝিয়ে দেয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই দখল করে নেন হাজী সেলিম। অবৈধ দখলদারদের ভয়ে এ জমির পাশেই যেতে পারত না স্কুল কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি সরকার প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং প্রতিষ্ঠানকে লিখিতভাবে জানানো হয়। এরপর ২০০৬ এবং ২০০৭ সালে আবারও এ জমি দখলদার হাজী সেলিমের কবল থেকে উদ্ধার করে স্কুল কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেয় জেলা প্রশাসন। কিন্তু- যতবারই এ জমি দখল বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে ততবারই হাজী সেলিম তা সন্ত্রাসী কায়দায় অবৈধভাবে দখলে নিয়েছে। ২০০৭-০৮ সালের দিকে ওই জমিতে বিভিন্ন ভবনসহ একটি ফিলিং স্টেশন অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়।

শিক্ষক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, বাকশ্রবণ প্রতিবন্ধীদের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে ঢাকা বধির হাই স্কুলটি জাতীয়করণ করেন। তারপর থেকে আবারও এ জমি উদ্ধরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের কাছে ঘুরতে থাকে স্কুল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু, কিছুতেই দখলদার হাজী সেলিমের কবল থেকে এ জমি উদ্ধার করা যাচ্ছিল না। হাজী সেলিমের হয়ে তার সঙ্গীরা ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে আদালতে একটি মামলা করেছিল- আদালত সেই মামলা খারিজ করে দিয়েছেন। আমাদের অনুকূলে রাষ্ট্রপতি এ জমি বরাদ্দ দিয়েছেন। বরাদ্দের সব কাগজপত্র সঠিক-সত্য আছে বলেই তো ঢাকা জেলা প্রশাসন ওই জায়গাটি তিনবার অবৈধ দখলদার থেকে দখল মুক্ত করে দিয়েছে। আমরা আমাদের জায়গা দখলে নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে স্কুল নির্মাণ করতে চাই। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিক বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন গ্রহণ করছেন। আমরা ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে সোমবার (আজ) যাচ্ছি। আমাদের ডাকা হয়েছে।

এদিকে সংস্থার সদস্য ও পুরান ঢাকার সচেতন একাধিক ব্যক্তি জানান, রাষ্ট্রপতির দেয়া এ জমি দখলে রেখেছে দীর্ঘ ১৫ বছর। সরকারের দেয়া এ জমি কি করে হাজী সেলিম দখলে রেখেছেন সেই জন্য ওই সময়কার স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন, ভূমি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা জরুরি।

বুড়িগঙ্গা তীরে সোয়ারিঘাট এলাকায় বধির স্কুলের জায়গার অবৈধ ফিলিং স্টেশন, বিভিন্ন স্থাপনা, কারখানা উচ্ছেদ/ভেঙে দ্রুত সময়ের মধ্যে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হবে- এমনটা প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে এ অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিতেরও দাবি জানানো হয়।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status