করোনায় আর্থিক সংকটের কারণে ভারতের অনেক শিশু লেখাপড়া ছেলে ঝুঁকছে কাজে, আর মেয়েদের কমবয়সে বিয়ে দিচ্ছেন অভিভাবকরা।
শুধু ভারত নয়; সারাবিশ্বেই বেড়েছে বাল্যবিয়ে বলছে সেভ দ্য চিলড্রেন। করোনার প্রভাব পড়েছে ভারতের শিশুদের স্বাভাবিক জীবনেও। কয়েকমাস ধরে চলা এই ভাইরাসের তাণ্ডবে ব্যাহত হচ্ছে শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম।
কাজ হারিয়ে আর্থিক সংকটে পড়ে শিশুদের পড়াশুনা বন্ধ করে দিয়েছেন অনেক অভিভাবক। কেউ আবার কমবয়সে দিচ্ছেন মেয়ের বিয়ে। ফলে এক কষ্টকর ভবিষ্যতের দিকে যাচ্ছে শিশুরা।
গত মার্চের শেষ ভাগ থেকে জুনের প্রথম দিকে লকডাউন চলে ভারতে। এতে কাজের অভাবে পাল্টে যায় নিম্নআয়ের মানুষের জীবন। যদিও বর্তমানে লকডাউন শিথিল হওয়ায় অনেকে ফিরেছেন কাজে। এর মাঝেই আবার কাজ না পেয়ে দিশেহারা অনেকেই। এসব কিছুর প্রভাব পড়ছে শিশুদের শৈশবে।
রাজধানী দিল্লিতে আগের তুলনায় বেড়েছে কর্মজীবী শিশুর সংখ্যা। বই ছেড়ে শিশুরা নেমেছে পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দেয়ার সংগ্রামে। কেউ করছে হকারি, অনেকে আবার ভিক্ষা করে দিন পার করছে।
রুম টু রিড এর কান্ট্রি ডিরেক্টর সৌরভ বন্দোপাধ্যায় বলেন, 'বিয়ের অনুষ্ঠানে ৫০-৬০ জনের বেশি মানুষকে না থাকার নিয়ম করেছে সরকার। ফলে খরচ কম হবে ভেবে অনেক দরিদ্র অভিভাবক মেয়েকে কম বয়সেই বিয়ে দিচ্ছেন। তারা মনে করেন এই সময়ে বিয়ে দিলে কম লোকজন আসবে এতে আর খরচ নিয়ে বেগ পেতে হবে না।'
গবেষণা বলছে ভারতে গত জুন ও জুলাইয়ে বাল্যবিয়ে বেড়েছে ১৭ শতাংশ। শুধু ভারত নয়, করোনার প্রভাব পড়েছে বিশ্বের প্রায় সব দেশের শিশুদের ওপরই। সম্প্রতি সেভ দ্য চিলড্রেনের গবেষণায় দেখা গেছে, করোনার কারণে গত ২৫ বছরের মধ্যে বিশ্বে ভয়াবহ হারে বেড়েছে বাল্যবিয়ে।