ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ১৫ মে ২০২৬ ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
কলকাতায় গার্ড অব অনার পেয়েছিলেন আনিসুজ্জামান!
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Friday, 15 May, 2020, 8:58 PM
সর্বশেষ আপডেট: Friday, 15 May, 2020, 9:03 PM

কলকাতায় গার্ড অব অনার পেয়েছিলেন আনিসুজ্জামান!

কলকাতায় গার্ড অব অনার পেয়েছিলেন আনিসুজ্জামান!

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান গতবছর কলকাতার জলদাপাড়া অভয়ারণ্যে বেড়াতে গিয়েছিলেন বন্ধু সমরেশ মজুমদারের সাথে। কলকাতার কালজয়ী কথা সাহিত্যিক সমরেশ তার প্রিয় আনিস দার মৃত্যুর পরে কালের কণ্ঠের সঙ্গে একান্ত আলাপে সেই জঙ্গল ভ্রমণের স্মৃতিচারণা করলেন।

তিনি বলেন, আমার জন্ম চা বাগানে এবং তাই আমাদের আড্ডায় আমি মাঝে মাঝে আনিস দাকে চা বাগানের গল্প শোনাতাম। তিনি বলতেন, একবার চা বাগান যাবেন আমার সাথে। কিন্ত তারপর তার শরীর খারাপ হলো। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য যেতে হলো। সুস্থ হয়ে ফিরলেন কিন্তু চেহারা খারাপ হয়ে গেলো। তবুও গত বছর যখন কলকাতায় এলেন, আমায় বললেন তিনি এবার যাবেন চা-বাগানে আমার সাথে, সাথে স্ত্রীও ছিলেন। আমরা তিনজন গেলাম উত্তরবঙ্গের একটা চা বাগানে। চা বাগানে আমাদের খুব ভালো সময় কাটছিল। হঠাৎ সিদ্ধান্ত হলো আমরা পাশে জলদাপাড়া অভয়ারণ্যে ঘুরতে যাব। চা বাগানের ম্যানেজার আমাদের গাইড হলেন। আর তিনি বললেন কপাল ভালো থাকলে দু-তিনটে হরিণ দেখা যেতে পারে। কারণ গাড়ির আওয়াজে জন্তু জানোয়ার জঙ্গলের ভেতরে পালিয়ে যায়।

সমরেশ মজুমদার বললেন, দুটো গাড়ি করে বেরোলাম। আমরা জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে চললাম। যাবার পথে আনিস দা আমায় বললেন, আমার কপালে কোনোদিন এইসব জিনিস দেখার সৌভাগ্য হয়নি। তবে তোমার জন্য জঙ্গলে আসা তো হলো। এইসব কথা হচ্ছে, এমন সময় কিছু বাইসন দৌড়ে এলো। ড্রাইভার গাড়ির স্টার্ট বন্ধ করে দিলেন। আর আমাদের বললেন আপনারা কোনো কথা বলবেন না কারণ বাইসনরা খুব হিংস্র হয়। আমরা ভয়ে গাড়িতে বসে রইলাম। বাইসনরা আমাদের কিছুক্ষণ দেখলো, তারপর পাশ কাটিয়ে চলে গেল।

তিনি বলেন, আমি আনিস দাকে বললাম, আপনার পণ্ডিত্বের জন্য আমাদের আক্রমণ করল না। আনিস দা বললেন, ইয়ার্কি মেরো না। আমার কিন্তু খুব ভয় করছিল। তারপরে এলো একটা গন্ডার; তারপরে একদল বুনো হাতি। একের পর এক জন্তু আসছে। আনিস দাকে দেখছে আর চলে যাচ্ছে। গাড়ির ভেতরে আমরা ভয়ে কাঁপছিলাম। সেই ম্যানেজার আমাদের বললেন, তার এতদিনের চা বাগানের জীবনে উনি কোনদিন এতো জন্তু-জানোয়ার দেখেননি। আমি বললাম সব জন্তু-জানোয়ার যেন আনিস দাকে দেখতে এসেছিল।

স্মৃতিচারণে সমরেশ মজুমদার বলেন, তারপরে সন্ধ্যা বেলার দিকে আমরা যখন ফিরছি, গাড়ির পাশ দিয়ে দুটো হরিণ দৌড়োতে শুরু করলো। সেই ম্যানেজার আনিস দাকে বললেন, দেখেছেন স্যার আপনি এসেছেন বলে, জঙ্গলের জন্তু-জানোয়ার একে একে এসে আপনাকে গার্ড অব অনার দিয়ে গেল। জলদাপাড়া থেকে ফেরার পরে আনিস দা আমায় বললেন, সমরেশ বিশ্বের অনেক জায়গায় ঘুরেছি কিন্তু তোমার জন্য জঙ্গলে এতো সুন্দর ঘোরা হল। আমার আমার হাত ধরে উনি ধন্যবাদ বলছিলেন। আনিস দা চলে যাবার খবরটা পাওয়ার পরে আমার জলদাপাড়ার ওই একসাথে ঘুরতে যাওয়ার কথা খুব মনে পড়ছিল। তার সঙ্গে ২৫ বছরের বন্ধুত্ব। চলে যাওয়াটা মেনে নিতে পারছি না।
কলকাতায় গার্ড অব অনার পেয়েছিলেন আনিসুজ্জামান!

কলকাতায় গার্ড অব অনার পেয়েছিলেন আনিসুজ্জামান!



পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status