|
পাবজি খেলতেও দিতে হবে কর
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() পাবজি খেলতেও দিতে হবে কর আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। মূলত ডিজিটাল অর্থনীতিকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোয় আনা, বিদেশি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অর্থপাচার রোধ এবং নতুন রাজস্ব উৎস তৈরি করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এনবিআর সূত্র জানায়, গেমিং প্ল্যাটফর্মে ইন-অ্যাপ পারচেজ, সাবস্ক্রিপশন ফি, ভার্চুয়াল কারেন্সি, স্কিন ও প্রিমিয়াম ফিচার কেনাকাটার ওপর কর বসানোর চিন্তা করা হচ্ছে। বর্তমানে এসব লেনদেনের বড় অংশই করের আওতার বাইরে থাকছে। একজন এনবিআর কর্মকর্তা জানান, অনলাইন গেমিং খাতে অন্তত ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা গেলে বছরে ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় সম্ভব হতে পারে। পাশাপাশি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ব্যাংক কার্ড ও অ্যাপ স্টোরের মাধ্যমে হওয়া পেমেন্টে স্বয়ংক্রিয় ভ্যাট কর্তনের ব্যবস্থাও চালুর আলোচনা চলছে। সরকারের লক্ষ্য আগামী অর্থবছরে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ। সেই লক্ষ্য পূরণে দ্রুত বর্ধনশীল ডিজিটাল অর্থনীতিকে নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন নীতিনির্ধারকরা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ৭০ শতাংশের বেশি পরিবার অন্তত একটি স্মার্টফোন ব্যবহার করে। পরিবার পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের হারও ৫০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। ফলে অনলাইন গেমিং বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্ট্যাটিস্টার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের অনলাইন গেমিং বাজারের আকার ইতোমধ্যে দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তবে এই বিপুল লেনদেনের বড় অংশই এখনো কর ব্যবস্থার বাইরে রয়েছে। বাংলাদেশ ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইলেকট্রনিক স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. মুনিরুল ইসলাম বলেন, অনলাইন গেমিং খাতকে করের আওতায় আনা ইতিবাচক উদ্যোগ। এতে দেশের অর্থনীতি উপকৃত হবে। তবে প্রযুক্তিবিদদের একাংশ এ নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। বেসিসের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, ডিজিটাল সমাজ গঠনের কথা বলা হলেও কনটেন্টভিত্তিক সেবায় অতিরিক্ত কর আরোপ উল্টো প্রভাব ফেলতে পারে। এতে ব্যবহারকারীরা ভিপিএন বা বিকল্প পদ্ধতিতে গেম ব্যবহার করতে পারেন। তিনি বলেন, সরকারের উচিত প্যাসিভ রেভিনিউয়ের দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া। রাতারাতি অনলাইন গেমিং থেকে বড় অঙ্কের কর আদায় সহজ হবে না। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনও আইনি কাঠামো স্পষ্ট করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, কোন গেম দক্ষতাভিত্তিক আর কোনটি জুয়া বা বেটিংয়ের আওতায় পড়ে, সেটি আগে পরিষ্কারভাবে নির্ধারণ করতে হবে। আইনি সংজ্ঞা স্পষ্ট না হলে কর আরোপ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতে পারে। এদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে অনলাইন গেমিং ও ডিজিটাল সেবায় কর আরোপ করেছে। ভারত অনলাইন গেমিংয়ে ২৮ শতাংশ জিএসটি চালু করেছে। পাকিস্তান ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্স ও ভ্যাট আরোপ করেছে। ইন্দোনেশিয়াও বিদেশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের জন্য বাধ্যতামূলক নিবন্ধন চালু করেছে। এনবিআর কর্মকর্তারা একটি গণমাধ্যমকে জানান, বাংলাদেশেও গেমিং প্ল্যাটফর্মগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার চিন্তা চলছে। বিদেশি গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর বাংলাদেশে অফিস না থাকায় কর আদায়ের কার্যকর পদ্ধতি নিয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। প্রয়োজনে মেটা ও গুগলের মতো স্থানীয় এজেন্টের মাধ্যমে কর আদায়ের ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
কলেজছাত্র কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে হাতকাটা হুসাইন’ ও তার সহযোগীদের ফাঁসির দাবি
বাগমারায় ভুয়া চিকিৎসককে ৬ মাসের কারাদণ্ড, ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা
ফুলবাড়ীতে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ এর উদ্বোধন
ভান্ডারিয়ায় প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে তাৎক্ষণিক সহায়তা
কলেজছাত্র কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে হাতকাটা হুসাইন’ ও তার সহযোগীদের ফাঁসির দাবি
ডিসি জাহিদের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসায় ব্যবসায়ী, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী
মাদারীপুরে খামারিদের মাথায় দুধ ঢেলে হেনস্থা, কনটেন্ট ক্রিয়েটর গ্রেপ্তার
পাইকগাছায় মায়ের হত্যাকারী চাচার মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন
