চলতি ২০২০ সালের প্রথম তিন মাস জানুয়ারি–মার্চে কোভিড–১৯ বা করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বিশ্ববাণিজ্য ৩ শতাংশ কমেছে। বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক এপ্রিল–জুনে বাণিজ্যে রীতিমতো ধস নামবে। প্রথম প্রান্তিকের চেয়ে দ্বিতীয় প্রান্তিকে বাণিজ্য তো ২৭ শতাংশ কমতে পারে। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের।
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও বিনিয়োগসংক্রান্ত সংস্থা আঙ্কটাডের (ইউনাইটেড নেশন্স কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) এক প্রতিবদেনে এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গত বছরের ডিসেম্বর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম কমছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। এটি ৩৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থার যৌথ প্রতিবেদন। ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকস কমিউনিটি ও সদস্যদেশগুলোর পরিসংখ্যান অফিসের সহযোগিতায় প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে আঙ্কটাড।
আঙ্কটাডের মহাসচিব মুখিসা কিতুইয়ি বলেন, ‘সব দেশই এখন কোভিড–১৯ পরবর্তী পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পুনরুদ্ধার কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপে আছে।
আঙ্কটাডের ফ্রি মার্কেট কমোডিটি প্রাইস ইনডেক্স (এফএমসিপিআই) অনুযায়ী চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম কমেছে। দাম কমার হার এক মাস থেকে আরেক মাসে যেন লাফিয়ে লাফিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর রপ্তানি বাড়ছে। প্রতিবেদন মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর রপ্তানি করা প্রাথমিক পণ্যের দাম জানুয়ারি যেখানে কমেছে ১ দশমিক ২ শতাংশ, সেখানে ফেব্রুয়ারিতে তা কয়েক গুণ বেড়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। আর মার্চে তা ২০ দশমিক ৪ শতাংশে উঠে গেছে।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের কারণেই মূলত পণ্যের দাম কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন মার্চে তেলের দাম ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে।
আঙ্কটাডের ফ্রি মার্কেট কমোডিটি প্রাইস ইনডেক্স (এফএমসিপিআই) চালু হওয়ার পর থেকে এক মাসে পণ্যের দাম আর কখনোই ২০ শতাংশ কমেনি। এর আগে ২০০৮ সালের বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে একবার পণ্যের দাম এক মাসে সর্বোচ্চ ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত কমেছিল। ওই সময়ে পণ্যের দামে অধোগতি বা পতনের ধারা ছয় মাস পর্যন্ত চলেছিল। কিন্তু এবারে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম এবং বিশ্ববাণিজ্যের পরিমাণ কমার প্রবণতা কত দিন চলে, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা রয়েছে।
কোভিড–১৯ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার আগে ২০১৯ সালের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিমাণ ও পণ্যের দাম ক্রমান্বয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল।
আঙ্কটাডের প্রধান পরিসংখ্যান কর্মকর্তা স্টিভ ম্যাকফিলি বলেন, ‘আমরা এখন বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থতি পর্যবেক্ষণ করে চলেছি।’
এদিকে জাতিসংঘ গত বুধবার এক পূর্বাভাসে বলেছে, বিশ্ব অর্থনীতিতে ৩ দশমিক ২ শতাংশ হারে সংকোচন ঘটবে। কারণ গত শতকের ত্রিশের দশকের মহামন্দার পর এবারই কোভিড–১৯ মহামারি বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে স্থবির করে ফেলেছে এবং চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
আঙ্কটাড বলছে, করোনা মহামারির কারণে দক্ষ ব্যক্তিদের তুলনায় কম দক্ষ ও কম মজুরি পাওয়া ব্যক্তিরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ কারণে দেশে দেশে আয়বৈষম্য আরেক দফা বাড়বে।