যখন কোনো ভাইরাস বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তখন শুধু মানবজাতিই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, সংকটে পড়ে গোটা প্রাণীকূল। বিশেষ করে ল্যাব পরীক্ষায় যেসব প্রাণী পরীক্ষায় ব্যবহৃত হয় সেগুলোর চাহিদাও বেড়ে যায়। তখন ওই সব প্রাণী ঝুঁকির মুখে পড়ে।
সম্প্রতি বিশ্ব ব্যাপী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার করার জন্য ল্যাব প্রাণীর চাহিদা বেড়ে গেছে। ফলে ল্যাব প্রাণীর সংকট দেখা দিয়েছে।
ল্যাব পরীক্ষার জন্য সাধারণত ইঁদুর, বানর ও ফেরেট জাতীয় প্রাণী সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। বিশ্বের বেশিরভাগ ল্যাবে এ প্রাণীগুলোর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এমন সংকট দেখা দিয়েছে।
যেহেতু ল্যাব প্রাণীর ডিএনএ মানুষের মতো, এ কারণে বেশিরভাগ প্রতিষেধক তৈরির পর তা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কার্যকর কিনা তা জানার জন্য এ ধরনের প্রাণীগুলোর ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। অনেকবার পরীক্ষা করার প্রয়োজন হওয়ায় ল্যাবগুলো বারবার প্রাণীর অর্ডার দিতে বাধ্য হয়।
বিখ্যাত সাময়িকী ন্যাচার-এর ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলমান করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরির জন্য পরীক্ষাগারগুলিতে বর্তমানে প্রচুর পরিমাণে প্রাণীর প্রয়োজন।
করেনাভাইরাস নিয়ে গবেষণা করা যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজিস্ট ডেভিড ওকনর বলেছেন, ‘ এ পরীক্ষার জন্য কেবলমাত্র একটি প্রাণীর মডেল নয়, একাধিক প্রাণীর প্রয়োজন পড়ে।’
ডেভিড ওকনরের মতো একই কথা বলছেন অন্য দেশের বিজ্ঞানীরাও। এ কারণে তারা পরীক্ষার জন্য কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে জন্ম দেওয়া বিশেষ ধরনের ইঁদুর দাবি করছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাইন উপকূলের জ্যাকসন ল্যাবরেটরী কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে ইঁদুর জন্ম দেওয়ায় পরিচিত হওয়ায় তাদের কাছেই ল্যাব পরীক্ষার জন্য কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে জন্ম দেওয়া ইঁদুর চাওয়া হচ্ছে।
ল্যাবটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এরই মধ্যে গোটা বিশ্ব থেকে তারা ৫০ টির বেশি অনুরোধ পেয়েছেন, যেখানে ৩ হাজারেরও বেশি কৃত্রিম উপায়ে জন্ম দেওয়া ইঁদুর চাওয়া হয়েছে।গবেষকরা বলছেন, সাধারণ ইঁদুরগুলি সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী। এ কারণে ল্যাবের পরীক্ষার জন্য কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে ইঁদুর জন্ম দেওয়ার জন্য আরও বেশি কেন্দ্র তৈরি প্রয়োজন।
এদিকে চীনের গবেষকদের একটি দল এরই মধ্যে করেনাভাইরাস নিয়ে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা শুরু করেছেন। তারা বলছেন, এটা এমন একটি নিখুঁত প্রাণী যা তাদের তৈরি প্রতিষেধকগুলোতে সঠিকভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়। তারা আশা করছেন, এ প্রাণীর ওপর পরীক্ষার মাধ্যমে তারা সঠিক প্রতিষেধক তৈরি করতে পারবেন।
গোটা বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে ১ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। আর মারা গেছেন ৪ হাজারের বেশি মানুষ। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা এ ভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরি করতে পারেননি।