বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে ইতালিতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে করোনায় দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩১ জনে। বুধবার (১১ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এই তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে দেশটির প্রায় ছয় কোটি বাসিন্দাই রয়েছেন কোয়ারেন্টাইনে। ইতালির ২০টি প্রদেশের সবগুলোতেই কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।
দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার। কিন্তু চীনের চেয়ে এই রোগে মৃত্যুর হার দেশটিতে অনেক বেশি।
ভাইরাসের বিস্তার রোধে দেশটির বাসিন্দাদের কার্যত বন্দি করে রাখা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, খেলাধুলার আয়োজন থেকে শুরু করে সবরকম লোকসমাগম।
শুধু ইতালি নয়, করোনায় রেকর্ড মৃত্যু দেখেছে ইরানও। দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
করোনার প্রভাব ঠেকাতে পারছে না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যের মতো দেশও। যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। মৃত্যু হয়েছে ৩০ জনের, এর মধ্যে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতেই মৃত্যু হয়েছে ২৪ জনের। যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত ৩৭৩ জন আক্রান্তের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের।
এদিকে নতুন নতুন দেশে করোনা ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়াও অব্যাহত আছে। সর্বশেষ এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে তুরস্ক, মরক্কো ও লেবানন। এই তিন দেশেই প্রথমবারের মতো করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর আগে তালিকায় বাংলাদেশের নামও যুক্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে তিনজনের আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, সারা বিশ্বে সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার। তবে এর মধ্যে একটা সুখবরও আছে। বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬৪ হাজার মানুষ এই ভাইরাসকে জয় করতে সক্ষম হয়েছেন।
গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাসের আবির্ভাব ঘটে। প্রতিনিয়ত এই ভাইরাসে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি, কাশির মতো সমস্যা দেখা দেয়। যার সমাধান স্বরুপ এখনো কোনো টিকা বা প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে পারেনি বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়। নিউমোনিয়ার মত লক্ষণ নিয়ে নতুন এ রোগ ছড়াতে দেখে চীনা কর্তৃপক্ষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সতর্ক করে। এরপর ১১ জানুয়ারি প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। ঠিক কীভাবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়েছিল- সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নন বিশেষজ্ঞরা। তবে ধারণা করা হচ্ছে, উহানের একটি সি ফুড মার্কেটে কোনো প্রাণী থেকে এ ভাইরাস প্রথম মানুষের দেহে আসে। তারপর মানুষ থেকে ছড়াতে থাকে মানুষে।
করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু।
নভেল করোনাভাইরাস এর কোনো টিকা বা ভ্যাকসিন এখনো তৈরি হয়নি। ফলে এমন কোনো চিকিৎসা এখনও মানুষের জানা নেই, যা এ রোগ ঠেকাতে পারে। যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলাই আপাতত এই রোগ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়।