ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২৬ ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেউ কাটে শরীর, কেউ বা ঠোঁট!
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Thursday, 5 March, 2020, 4:01 PM

ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেউ কাটে শরীর, কেউ বা ঠোঁট!

ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেউ কাটে শরীর, কেউ বা ঠোঁট!

বিশ্বে স্বাধীন রাষ্ট্রের সংখ্যা প্রায় ২০০। অসংখ্য ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় বিশ্বাস, রীতি-নীতি, আইন-কানুন এবং ইতিহাস-ঐতিহ্যের মিশেলে বিশ্ব-মানব সমাজের প্রবাহ। আফ্রিকার উপজাতি থেকে শুরু করে আরবের যাযাবর বেদুঈনদেরও রয়েছে ভিন্ন সংস্কৃতি।

আবার সভ্য ইউরোপ থেকে শুরু করে উত্তর আমেরিকা কিংবা স্পন্দনশীল কেন্দ্রীয় ও দক্ষিণ আফ্রিকা সব জায়গাতেই রয়েছে অদ্ভুত আচার-অনুষ্ঠান বা সংস্কৃতি। যেগুলো অবিশ্বাস্যও বটে! আপাত দৃষ্টিতে সেসব উদ্ভট, বেমানান হলেও যুগ যুগ ধরে তা পালিত হচ্ছে-

ইন্দোনেশিয়ার সুলাসি অঞ্চলের তোরাজা জাতির লোকজন মৃত মানুষের সঙ্গে বসবাস করে। যা বিশ্বের সবচেয়ে অদ্ভূত রীতির মধ্যে অন্যতম। সাধারণত, মানুষ মরে গেলে কবর দেয়া হয়। তবে তোরাজারা তা করে না। তারা মৃত মানুষের যথাযথ সৎকারের আগে কয়েক মাস মৃত শরীরের সঙ্গে বসবাস করে। তারা বিশ্বাস করে এই রীতি পালন করলে মৃত ব্যক্তি পরকালে শান্তি পাবে।

থাইল্যান্ডের লোপবুরি অঞ্চলের মানুষেরা বানর ভোজনের আয়োজন করে। প্রতি বছরই এই আয়োজনটি অত্যন্ত জাকজমকতার মধ্য দিয়ে পালিত হয়। নানা ধরনের ফল, শাক-সবজি এবং অন্যান্য খাবার দিয়ে মানকি বুফে সাজানো হয়। বড় বড় টেবিল ভর্তি করে রাখা হয় এসব খাবার। দুই হাজার বানর তিন দিন ধরে এসব হাজার হাজার কেজি খাবার খায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন এই অবাক করা দৃশ্য দেখতে থাইল্যান্ডে জড়ো হয়।

আফ্রিকানদের প্রাচীন ঐতিহ্যের মধ্যে অন্যতম হলো শরীর জুড়ে ট্যাটু করা। কিছু উপজাতিরা তো বাদ দেয় না দুই দিনের শিশুকেও! জন্মানোর পরপরই শিশুর শরীরে নকশা আঁকিয়ে দেয়া হয়। সুদান এবং ইথোপিয়ার নারীরা জীবনে বহুবার শরীরে উল্কি আঁকিয়ে থাকেন। ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরে এমন দাগ কেটে নকশা করা মোটেও সহজ কাজ নয়। তারপরও তারা আগ্রহ নিয়ে এই কাজটি করে থাকে।

ছোট পা সৌন্দর্যের প্রতীক! এজন্য চীনের নারীরা সেই ছোটবেলা থেকেই পা মুড়িয়ে রাখে। ছোটবেলায় মেয়েদের পায়ে শক্ত ব্যান্ডেজ দিয়ে আঙুলগুলো মুড়িয়ে বাঁধতে বাধ্য করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় পা তিন ইঞ্চির মধ্যেই থাকে। অনেক সময় এই কষ্টদায়ক রীতি প্রক্রিয়া অনুসরণ কররার ফলে মেয়েদের পায়ের হাড় ভেঙ্গে যায়। এভাবে অনেকের পায়ে পচন সৃষ্টি হত। অবশ্য বর্তমানে এই অমানবিক সংস্কৃতির প্রচলন বন্ধ হয়েছে।

একটি ঝুড়ি ভর্তি বিষধর সাপ। আর সেই ঝুড়িটি মাথায় নিয়ে নাচছে একজন। দৃশ্যটি কল্পনা করাও বেশ ভয়ংকর বিষয়। ভারতের মহারাষ্ট্রের কিছু মন্দিরে এমনই সাপ খেলার রীতি রয়েছে। সেখানকার জনগণ এমনই এক ভয়ংকর সংস্কৃতিই চর্চা করে। মঙ্গলকর নাগ পঞ্চমীর সময় সর্পদেবীকে ঠিক এভাবেই পূজা করা হয়। এসময় লোকজন মাথায় সাপ নিয়ে একত্রে মন্দিরের দিকে অগ্রসর হয়। এরপর মন্দিরে পৌঁছে সর্পদেবীকে স্মরণ করা হয়। সেইসঙ্গে জোরে জোরে প্রার্থনাও করে দেবীভক্তরা। নাগ পঞ্চমী উৎসব পালনে সবচেয়ে বিষধর কিছু সাপ ব্যবহৃত হয়।

আফ্রিকা এবং এশিয়ার কয়েকটি উপজাতির নারীরা গলাবন্ধনী পরে থাকে। এদেরকে জিরাফ মানবও বলা হয়। পিতলের রিং দ্বারা তৈরি শক্ত এই অলংকার গলায় পরলেই গলা বেশ লম্বা দেখায়। মায়ানমারেরে কায়ান জনগোষ্ঠীর পাদুং নারী দুই বছর বয়স থেকেই পিতলের এই গলাবন্ধনী পরে থাকে। তাদের ধারণা, গলা লম্বা হলেই সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। আফ্রিকার সাউথ আন্ডেবেল সমাজের নারীরাও গলাবন্ধনী পরে নিজেদের সম্পদ এবং সামাজিক মর্যাদা প্রদর্শনের জন্য।

খুবই ভয়ংকর এক রীতি এটি। ইথিওপিয়ার মুরসি নারীরা ঠোঁটে মাটির তৈরি প্লেট লাগায় যা দেখতে বেশ ঊদ্ভট লাগে। যে কারণে তাদের ঠোঁটও অনেকটা বড় হয়। মুরসি জাতি ছাড়াও চাই এবং ত্রিমা জনগণ এই রীতি অনুসরণ করেন। মুরসি নারীদের বয়স ১৫ বা ১৬ বছর হলেই তাদের নিচের ঠোঁট কেটে প্লেট বসান হয়। গবেষকদের মতে, শারীরিক এই বিকৃতির মাধ্যমে মেয়েরা নিজেদের ক্ষমতা এবং আত্মসম্মান প্রদর্শন করে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status