নেত্রকোনার দুর্গাপুরে নিরাপদ সড়কের দাবিতে দুর্গাপুর শ্যামগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেছে শিক্ষার্থীরা। শনিবার রাতে বালুবাহী ট্রাকের চাপায় এসএসসি চার শিক্ষার্থী নিহতের জের ধরেই আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা ।
এরই প্রতিবাদে রোববার সকাল থেকে পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে দফায়-দফায় আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই আন্দোলন রূপ নেয় জনসমুদ্র ।
সকাল থেকেই প্রেসক্লাব মোড় এলাকায় দুর্গাপুর শ্যামগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন সচেতন নাগরিক। পরে টায়ার জ্বালিয়ে সড়কে সব প্রকার যান চলাচল বন্ধ করে দেন তারা। সন্ধ্যার পর থেকে আন্দোলনকারীরা যাত্রীবাহী বাস, ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা চলাচলের সুযোগ দিলেও প্রতিটি গাড়ি চালকদের লাইসেন্স চেক করে আন্দোলনকারীরা ।
এদিকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে অনশন কর্মসূচি পালন করেন শাওন নামে দুর্গাপুরে স্থানীয় এক বাসিন্দা। অনশনরত অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিক্ষোভ মঞ্চে থাকে স্যালাইন দেয়া হয় ।
এছাড়াও দুর্গাপুরের ঝানজাইল, কষ্ণেরচর, বিরিশিরিসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন ।
অনশনরত শাওন জানায়, এই অনশন নিরাপদ সড়কের দাবির অনশন। গতকাল সড়কে যাৱা নিহত হয়েছেন প্রত্যেকে আমাদের ভাই। ভাইয়ের রক্ত বৃথা হতে দেবো না। সড়কে আর যেন কোনো ভাইয়ের রক্ত না দিতে হয় এ লক্ষ্যে আমাদের এ আন্দোলন ।
স্থানীয় এক শিক্ষার্থী জানায়, যতক্ষণ পর্যন্ত ডিসি দুর্গাপুর থেকে লরি গাড়ি বন্ধ ও বেপরোয়া গতির ট্রাক নিয়ন্ত্রণ না আনবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন চলতে থাকবে।
শনিবার রাতে উপজেলায় শান্তিপুরে বালুবাহী লরি ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে পিকআপের পেছনে থাকা শিক্ষার্থীরা সড়কে পড়ে যায় । এই সময় পেছন দিক থেকে আসা বেপরোয়া গতির আরেকটি বালুবাহী ট্রাক শিক্ষার্থীদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলে নিহত হয় দুইজন। পরে আহত অবস্থায় দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে আরো দুইজনের মৃত্যু হয়।