ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ৮ জুন ২০২৬ ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
৩৩ হাজার টাকায় মানুষ বিক্রি!
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Wednesday, 15 January, 2020, 12:13 PM

৩৩ হাজার টাকায় মানুষ বিক্রি!

৩৩ হাজার টাকায় মানুষ বিক্রি!

আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশগুলো থেকে উন্নত জীবন ও ভাগ্য বদলের আশায় ইউরোপে পাড়ি জমাচ্ছেন হাজার হাজার শরণার্থী। কিন্তু উন্নত জীবনের বদলে দাসত্বের শৃঙ্খলে বন্দী হচ্ছেন এসব মানুষ। অনেকেই হত্যাকাণ্ড, অপহরণ ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে।

তাদের বিক্রি করে অপহরণকারীরা আয় করছে হাজার হাজার টাকা। আর এসব ভয়াবহ ঘটনাগুলোর বেশির ভাগই সংঘটিত হচ্ছে উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়া, সুদান, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়ায়।

কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা ও যুক্তরাষ্ট্রে উইকলি পোর্টাল নিউজউইকের পৃথক প্রতিবেদনে এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

 

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সুদান, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়রা দালাল ধরে বিভিন্ন পথে লিবিয়ায় এসে জড়ো হয়। সেখান থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থার মতে বর্তমানে লিবিয়াতে প্রায় ৭০ লাখেরও বেশি অভিবাসী অবস্থান করছে। আফ্রিকা থেকে ইউরোপে যাওয়ার পথে বাঁকে বাঁকে ফাঁদ পেতে বসে থাকে মানব পাচারকারী চক্রের দালালরা। তাদের কাছেই একেবারে পানির দরে শরণার্থীদের বেঁচে দেয় দালালরা।

 

সবচেয়ে বড় চক্র হচ্ছে লিবিয়ায়। যেখানে ওঁৎ পেতে রয়েছে অপহরণ চক্রের মতো ভয়াবহ গোষ্ঠী। এই অপহরণ চক্রের কাজ হচ্ছে শরণার্থীদের জিম্মি করা কিংবা অন্য কোনো অপরাধ চক্রের কাছে আটককৃতদের দিগুণ দামে বিক্রি করে দেয়া। ত্রিপোলির ‘বড় হাটে’ সর্বনিন্ম চারশ’ ডলারেও (প্রায় ৩৩ হাজার টাকায়) বিক্রি করা হয় তাদের।

১৮ বছর বয়সী ইরিত্রিয়ান শরণার্থী সামিকে সুদান থেকে একদল অপহরণকারী অপহরণ করে লিবিয়া ১৫০০ ডলারে লিবিয়াতে অন্য এক দলের কাছে বিক্রি করে দেয়।

সেখানে দিনের পর দিন তাকে অমানবিক অত্যাচার সহ্য করতে হয়। তারা প্রতিনিয়ত সামিকে লাঠি দিয়ে আঘাত করত কিংবা গায়ে গরম তেল ঢেলে গা পুড়িয়ে দেওয়া হতো, এমনকি কখনও তাকে বৈদ্যুতিক টর্চার করা হতো টাকার জন্য।

 

সামি জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি আমাকে একটি মাত্র রুটি খেতে দিত তারা, এক গ্লাস পানি খেতে চাইলেও তারা আমাকে মারত। আমাকে অত্যাচার করার সময় আমার মাকে ফোন করে আমার চিৎকার শোনাত।

ওরা আমার একমাত্র বন্ধুকেও আমার চোখের সামনে বৈদ্যুতিক টর্চারের মাধ্যমে মেরে ফেলে। আমিসহ অন্যদের এমন এক বাড়িতে রাখা হয় যেখান থেকে প্রতিদিন কানে ভেসে আসত হাজারও নারী-শিশুদের ধর্ষণের চিৎকার।

প্রতিদিন হাজার হাজার পুরুষ, মহিলা এবং শিশুদের একসঙ্গে ট্রাকে করে নিয়ে আসত এবং তাদের কথা না শুনলে তারা গুলি করে মারত।

সামির মা অপহরণকারীদের মুক্তিপণের টাকা দেয়ার পর তারা তাকে সেখান থেকে আজ-জাহিয়া সমুদ্রে ছেড়ে দিয়ে আসে। সেখান থেকে তাকে কোস্ট গার্ড ত্রিপোলিতে নিয়ে আসে এবং পরবর্তীতে তাকে ইরিত্রিয়ান পাচারকারীদের কাছে ১২২৫ ডলারে বিক্রি করে দেয়। সেখানেও তার উপর চলে পাশবিক অত্যাচার।

টাকা ছাড়া তারা কোনো প্রকার খাবার দিত না এবং অপহরণকারীরা এবার তার কাছে মুক্তিপণ হিসেবে ২২০০ ডলার দাবি করে। সামিকে সেখানে দুই মাস অমানবিক অত্যাচার সহ্য করতে হয় তারপর একদিন সে পালিয়ে এক মসজিদে আশ্রয় নেয় এবং খাদেমের চাকরি করতে থাকে।

জোনাথান তেক্লে (২৪), সামির মতো তাকেও সুদানের বর্ডার থেকে অপহরণ করে খাবতুম স্থানে নিয়ে আসে এবং সেখানে তার কাছে ১৬০০ দলার মুক্তিপণ দাবি করে।

সেখানে সে হোটেল ক্লিনার হিসেবে দিন-রাত কাজ করে তাদের টাকা পরিশোধ করার পর তাকে লিবিয়াতে ছেড়ে দিয়ে আসে। লিবিয়াতে আসার পর জোনাথানকে একদল পোশাক পরিধানকারী দল আটক করে এবং তার কাছে ৫০০০ ডলার মুক্তিপণ দাবি করে।

টাকা না দিতে পারায় তাকে অন্য একদল শরণার্থীদের সঙ্গে একটি বড় কনটেইনারের ভেতর আটকে রাখা হয় মাসের পর মাস। জোনাথান বলেন, ছয় মাস তাদের একটি অন্ধকার কনটেইনারের ভেতর আটকে রাখা হয়।

অনেক মানুষ থাকার কারণে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে খুব কষ্ট হতো। একবেলা খাবার আর পানি দিত আর প্রস্রাব-পায়খানা সেখানেই করতে হতো তাদের।
 

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status