ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বৈধ ১৩ মেয়র প্রার্থীর মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনোনীত চারজন। তাদের তিনজনই পেশায় ব্যবসায়ী; আরেকজন আইন পেশায় নিয়োজিত। চার প্রার্থীই উচ্চশিক্ষিত। কোটিপতি এসব প্রার্থীর মধ্যে ব্যক্তিগত গাড়ি নেই উত্তরের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম ও দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনের। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মেয়র প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
আতিকুল ইসলাম
আওয়ামী লীগ প্রার্থী আতিকুল ইসলাম পেশায় ব্যবসায়ী। তিনি বিকম পাস। হলফনামায় তিনি ১৬টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকার কথা বলেছেন। জানিয়েছেন, তার বার্ষিক আয় ১ কোটি ২৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাত থেকে আয় ৩ লাখ ৮০ হাজার। ব্যবসা (পারিতোষিক) থেকে আয় ৬৪ লাখ ১৪ হাজার ৮০১ টাকা। বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া থেকে আয় ৫০ লাখ ৫ হাজার টাকা। ব্যাংক সুদ ৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। মৎস্য খাতের আয় ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর পেশা থেকে ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা, ব্যাংক সুদ ৪২ হাজার ৩৪১ টাকা ও মৎস্য খাত থেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া আতিকের বন্ড, স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ার ৩ কোটি ৭৫ লাখ ২৪ হাজার টাকার, স্ত্রীর নামে ১২ লাখ ২৭ হাজার টাকার। নিজের নামে ২ লাখ ও স্ত্রীর নামে ৩০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। তার অস্থাবর সম্পদ ৪ কোটি ৮৬ লাখ ৬৯ হাজার টাকা ও স্থাবর সম্পদের মূল্যমান ১৩ কোটি ৯৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ টাকা ৮ লাখ ৭৫ হাজার। স্ত্রী শায়লা শাগুফতা ইসলামের কাছে নগদ টাকা রয়েছে ২ কোটি ৭৪ লাখ ৯৮ হাজার। এর মধ্যে ২ কোটি টাকা ব্যবসায়িক পুঁজি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা রয়েছে ১৫৮৩.৪৬ মার্কিন ডলার। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে ৮৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। আর স্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজের নামে ৪ কোটি ১৩ লাখ টাকার কৃষিজমি। ২৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকার অকৃষি জমি রয়েছে, আর স্ত্রীর নামে কৃষিজমি রয়েছে ৩২ লাখ টাকার। নিজের নামে বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকার, আর স্ত্রীর নামে ৫০ লাখ টাকার (বায়নাকৃত)। এ ছাড়া রয়েছে মৎস্য খামার। তার নিজের ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ রয়েছে। আতিকুল ইসলামের নামে বর্তমানে বা অতীতে মামলা হয়নি। তার ব্যক্তিগত কোনো গাড়ি নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তিনি।
ইশরাক হোসেন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন। চারটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, একটির শেয়ারহোল্ডার ও একটির স্বত্বাধিকারী তিনি। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তার নামে একটি বিচারাধীন মামলা রয়েছে। ৪ কোটি ৯৮ লাখ ২০ হাজার ৭২ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে তার। আর স্থাবর সম্পদ ৭৮ লাখ ৫১ হাজার ৫২৪ টাকার। তার বার্ষিক আয় ৯ কোটি ১৫ লাখ ৮ হাজার ৩৮৯ টাকা। এর মধ্যে বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট/দোকান ভাড়া পান ৭৮ হাজার ৩০০ টাকা। ব্যবসা থেকে পান ৪২ লাখ ৪ হাজার টাকা। শেয়ার/সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানতের সুদ ৪ লাখ ২৫ হাজার ৮২৪ টাকা।
চাকরি (পারিতোষিক) ৩৫ লাখ ৪৯ হাজার ৯৯৬ টাকা। অন্যান্য লভ্যাংশ থেকে আয় ৪৬ লাখ ৮০ হাজার ৩৮৯ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ ৩৩ হাজার ১০৯ টাকা। ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমার পরিমাণ ১ কোটি ৩৭ লাখ ১৮ হাজার টাকা। স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ারের পরিমাণ ২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ৪২ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা। নিজের নামে গাড়ি নেই। স্থাবর সম্পদের মধ্যে তার নামে কৃষিজমি রয়েছে ৩৪.৫০ শতাংশ, মূল্য ৩০ লাখ ২৫ হাজার টাকা। অকৃষি জমি ২৯.০৯ শতাংশ, মূল্য ৩২ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। দালান, আবাসিক/বাণিজ্যিক ভবন রয়েছে ১৩ লাখ ৫৯ হাজার টাকার (নির্মাণাধীন)। বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে একটি, মূল্য ২ লাখ ১০ হাজার টাকার (৮০০ বর্গফুট)। মায়ের কাছ থেকে তিনি ঋণ নিয়েছেন।