মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে বিশেষ আলোচনায় ইমরান খান
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Tuesday, 17 December, 2019, 1:09 PM
মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে বিশেষ আলোচনায় ইমরান খান
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান মধ্যপ্রাচ্যের বিবাদ ও মতবিরোধের বিষয়গুলো কূটনৈতিকভাবে সমাধানের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার সৌদি আরব সফরে গিয়ে ক্রাউন্স প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। ২০১৯ সালের মে মাস থেকে চতুর্থবারের মতো সৌদি সফরে গেলেন ইমরান।
সৌদি রাজধানীতে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ইমরান বলেন, ‘পাকিস্তান এই উদ্দেশ্যে সব প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে যাতে সঙ্ঘাত প্রতিরোধ করা হয়, উত্তেজনা প্রশমন করা যায় এবং এই অঞ্চল তথা সারা বিশ্বের শান্তি বজায় ও সুবিধা নিশ্চিত করা যায়।’
দুই পক্ষের নেতারাই পাক-সৌদি সম্পর্ককে একটা নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাকিস্তানের সরকারি বার্তা সংস্থা এপিপি এ তথ্য জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতরের ভাষ্য মতে, প্রধানমন্ত্রী ইমরান পাকিস্তান ও সৌদি আরবের নেতৃত্বের পর্যায়ে বিনিময়ের অংশ হিসেবে সৌদি আরবে দিনব্যাপী সফর করেন। রিয়াদের উদ্দেশে রওনা দেয়ার আগে ইমরান প্রথমে মদিনাতে যান এবং সেখানে মহানবী সা:-এর রওজা জিয়ারত করেন। রিয়াদে কিং খালেদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে তাকে স্বাগত জানান রিয়াদের গভর্নর প্রিন্স ফয়সাল বিন বানদার।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী ইমরান পাকিস্তান-সৌদি সম্পর্কের অনন্য শক্তির বিষয়টি উল্লেখ করেন, যেটা পারস্পরিক আস্থা ও বোঝাপড়ার ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি উল্লেখ করেন যে, উচ্চপর্যায়ের সফর সম্পর্কের একটা চিহ্ন এবং গত ফেব্রুয়ারিতে ক্রাউন প্রিন্সের পাকিস্তান সফর অর্থনৈতিক, বিনিয়োগ, জ্বালানি, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ও জনগণের পর্যায়ের সম্পর্কের নতুন যুগের সূচনা করেছে।
দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার সম্পর্ক নিয়ে দুই নেতাই সন্তোষ জানিয়েছে। উল্লেখ করা হয়েছে যে, সৌদি-পাকিস্তান সুপ্রিম কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল (এসপিএসসিসি) একটা দৃঢ় প্রাতিষ্ঠানিক মেকানিজম দিয়েছে যেটা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতাকে আরো জোরালোভাবে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে। দুই পক্ষ এই প্রক্রিয়াকে আরো এগিয়ে নেয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এসপিএসসিসির দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে আগামী বছরের শুরুর দিকে।
আগামী ১৯-২১ ডিসেম্বর মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে যে সম্মেলন হতে যাচ্ছে, সেখানে অংশ নেয়ার ঠিক আগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইমরান এই সৌদি সফরে গেলেন। সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে তুরস্ক, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়া- এই তিন দেশ মিলে যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করেছিলেন, সেখানে এই সম্মেলনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই সম্মেলনে অংশ নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।
পাকিস্তান ছাড়াও তুরস্ক, কাতার, ওই ইরানের নেতারা এই সম্মেলনে অংশ নেবেন। ৫২টি দেশের প্রায় ৪৫০ জন নেতা, স্কলার, ধর্মীয় নেতা ও চিন্তাবিদ এই সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
কাশ্মির ইস্যুতে নয়া কৌশল মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি একই সাথে চলমান কাশ্মির সঙ্কট নিরসনে ওআইসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাকে সম্পৃক্ত করার কথাও জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। রোববার বিকেলে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র দু’টির নেতারা এসব কথা বলেন।
একদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে সৌদি আরবে অবস্থানকালে তিনি অধিকৃত জম্মু-কাশ্মির ইস্যুতে পাকিস্তানকে সমর্থন ও সহযোগিতা করায় রিয়াদ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান। এ দিন কাশ্মির সঙ্কট নিরসনে ওআইসিসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে ভিন্নপন্থা অবলম্বনের ওপর মতো দেন দুই নেতা। বৈঠকে ইমরান খান জম্মু-কাশ্মিরের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমানকে অবহিত করেন।
এমনকি মুসলিম অধ্যুষিত উপত্যকাটিতে ভারত সরকারের সহিংস পদক্ষেপের কথাও জানানো হয়।
উল্লেখ্য, রাখাইনে রোহিঙ্গা গণহত্যা ইস্যুতে ওআইসির সহায়তায় মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে জাতিসঙ্ঘের আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে (আইসিজে) মামলা করেছে পশ্চিম আফ্রিকার ছোট দেশ গাম্বিয়া। ‘জেনেভা কনভেনশনের’ আওতাধীন গাম্বিয়ার করা মামলায় গত সপ্তাহে শুনানিও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে কাশ্মির ইস্যু আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে (আইসিজে) মামলা করার ঘোষণা দিয়েছিল পাকিস্তান। এবার সেই বিষয়টি নিয়েও নেতাদের মধ্যে আলোচনা হয়।