|
চা নিয়ে ১০টি চমকপ্রদ তথ্য যা হয়তো আপনার জানা নেই
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() চা নিয়ে ১০টি চমকপ্রদ তথ্য যা হয়তো আপনার জানা নেই ১. ২০০ খ্রিস্ট-পূর্বাব্দে চা পান শুরু চিনেই মধ্য চিনের ইয়াং লিং সমাধিস্তম্ভে প্রাচীনকালে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াতে যেসব নৈবেদ্য দেওয়া হত তার মধ্যে পাতা দিয়ে তৈরি শুকনো কেক দেখা যেতো। এইসব পাতার মধ্যে থাকা ক্যাফেইন এবং থিয়ানিন প্রমাণ করে যে, সেগুলো প্রকৃতপক্ষে ছিল চা পাতা যা মৃতদেহের সঙ্গে দেওয়া হত তাদের পরলৌকিক ক্রিয়ার অঙ্গ হিসেবে। ২. সব চা আসে এক প্রজাতির উদ্ভিদ থেকে যত ধরনের চা আছে সবই তৈরি হয় ক্যামেলিয়া সিনেসিস থেকে। এই চির-হরিৎ গুল্ম বা ছোট গাছ থেকে পাতা এবং পাতার কুঁড়ি সংগ্রহ করে তা চা উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন ধরনের চায়ের মধ্যকার পার্থক্যগুলো উদ্ভিদের চাষের ধরণ, পরিস্থিতি এবং উৎপাদন প্রক্রিয়াতে ভিন্নতা রয়েছে। ৩. ধর্মীয় অনুষঙ্গ জাপানে, চা আসে চিন থেকে ফিরে আসা জাপানি ধর্মগুরু এবং দূতদের হাত ধরে। সেটা ষষ্ঠ শতকের দিকে এবং দ্রুত তা ধর্মীয় শ্রেণীর মানুষদের পছন্দের পানীয় হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। আর গরম জলের সংস্পর্শে এসে হালকা সবুজ রং ধারণকারী গ্রিন টি, কয়েক শতাব্দী ধরে সংস্কৃতিবান এবং উচ্চবিত্ত সমাজের মানুষদের কাছে প্রাধান্য পেয়ে আসছে। ৪. রাশান ক্যারাভান চা রুশদের কাছে বেশিরভাগ চা পৌঁছাতো চিন থেকে রাশিয়ার পথে ক্যারাভান রুটে। উটের কাফেলা মাসের পর মাস ধরে ভ্রমণ করে মহাদেশ জুড়ে চা বহন করে চলত। তাদের রাতের ক্যাম্প-ফায়ারের ধোঁয়া চায়ের ওপর পড়তো এবং যতক্ষণে তারা মস্কো কিংবা সেন্ট পিটার্সবার্গ পৌঁছাতো পাতাগুলোতে ধোঁয়াটে স্বাদ তৈরি হতো আর সেখান থেকে তৈরি হওয়া সেই চায়ের স্বাদ যা আজকের দিনে রাশান ক্যারাভান চা হিসেবে পরিচিত। ৫. চিনের বাজারে ভাঙন সপ্তদশ শতকে চীন এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মধ্যে কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কে ভাঙ্গন ধরলে ব্রিটিশদের চায়ের জন্য অন্য দেশের দিকে মনোযোগ দিতে হয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, যা বিশ্ববাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করতো তারা একজন স্কটিশ উদ্ভিদ বিজ্ঞানী রবার্ট ফরচুনকে নিয়োগ করলো যিনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিদেশি বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ এবং সেগুলো অভিজাতদের কাছে বিক্রির জন্য পরিচিত ছিলেন। তাঁর উপর দায়িত্ব পড়ল গোপনে চিনে যাওয়ার জন্য এবং সেখান থেকে ভারতে চা গাছ পাচারের জন্য - উদ্দেশ্য সেখানে বিকল্প একটি চা শিল্প গড়ে তোলা। আশ্চর্যজনকভাবে, তিনি ২০,০০০ চা গাছ ও চারাগাছ চিন থেকে দার্জিলিং-এ রপ্তানি করেন। ৬. দুধ চা? বাংলাদেশ ও ভারতে প্রচুর পরিমাণে জন্মানো চায়ের উদ্ভিদটি ছিল ক্যামেলিয়া সিনেনসিস অসমিকা নামে একটি উপ-প্রজাতির উদ্ভিদ। গ্রিন টি'র চেয়ে আসাম টি বেশি স্বাদযুক্ত কালো রং-এর ছিল। সাধারণভাবে প্রাথমিক ইংলিশ ব্রেকফাস্টের অন্তর্ভুক্ত আসাম চা-এর রং কড়া থাকায় তা লোকজনকে দুধ সহকারে পান করতে প্ররোচিত করেছিল। বর্তমানে ব্রিটেনে সাধারণ ইংলিশ ব্রেকফাস্ট বা প্রাত:রাশের সঙ্গে চা দুধ দিয়েই পান করা হয়। কিন্তু ইউরোপ মহাদেশের অন্যান্য স্থানে চায়ের সাথে দুধ খুব কমই পরিবেশন করা হয়। ৭. অথবা টোস্টের সাথে চা? যখন ১৬৫৭ সালে লন্ডনে টমাস গ্যারাওয়ে নামে এক লোক প্রথম খুচরো-ভাবে চা বিক্রি শুরু করেন, তখন অনেকেই বুঝতে পারেননি কীভাবে চা খাবেন। পাঁউরুটির উপর মাখন মাখিয়ে তার উপর ভেজানো চা পাতা ছড়িয়ে অনেকেই খেতেন। এরপর তাঁদের শেখানো হয় ওই পাতা থেকে আলাদা করে লিকার চা বানিয়ে টোস্টের সঙ্গে তা খেতে। কিছুদিনের মধ্যেই টোস্টের সঙ্গে চা জনপ্রিয় হয়। ৮. কফিকে ছাড়িয়ে চায়ের জয়জয়কার ঐতিহ্যগতভাবে তুরস্ক বিশ্বের বৃহৎ চা বাজারগুলোর মধ্যে অন্যতম। কৃষ্ণ সাগরের উপকূলের উর্বর ভূমি থেকে অধিকাংশ টার্কিশ ব্ল্যাক টি আসে। তুর্কী কফিও বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত, তবে তুরস্কে সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয় হল চা। ৯. চায়ের সঙ্গে জড়িয়ে বিপ্লব ১৭৭৩ সালে , আমেরিকার বোস্টন শহরের বাসিন্দারা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছিল। চায়ের উপর আরোপ করা অতিরিক্ত করের জন্যই এই প্রতিবাদ। এরপর রাতের অন্ধকারে ব্রিটিশ জাহাজে অভিযান চালিয়ে প্রচুর চা পাতা ফেলে দেওয়া হয়েছিল। ১০. চুক চুক শব্দে চা পান অনেকেই শব্দ করে চা খেতে পছন্দ করেন। এতে বিরক্ত হন অনেকেই। কিন্তু চা বিশেষজ্ঞরা বলছেন চায়ের স্বাদ এবং ঘ্রাণ মন খুলে নিতে চাইলে এই ভাবেই চা খাওয়া উচিত। তবেই আপনার মনের রন্ধ্রে ঢুকবে চায়ের প্রতি ভালোবাসা।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
