ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে রাস্তার পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া সেই নবজাতককে বাঁচানো যায়নি। গত শনিবার গভীর রাতে যশোর নেওয়ার পথে শিশুটি মারা যায়। এদিকে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে রাস্তার পাশের ঝোপে মিলেছে আরেক কন্যা নবজাতক। ধারণা করা হচ্ছে, ওই নবজাতককে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল।
এ ব্যাপারে প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : কালীগঞ্জের ষাটবাড়িয়া গ্রামে রাস্তার পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া নবজাতক ছেলেটি অবশেষে মারা গেছে। গত শনিবার গভীর রাতে কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে যশোর নেওয়ার পথে শিশুটি মারা যায়। গত শনিবার সন্ধ্যার দিকে কে বা কারা শিশুটিকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায়। পথচারীরা কান্নাকাটির শব্দ শুনে শিশুটিকে দেখতে পায়। পরে প্রতিবেশী শারমিনা খাতুন নামের এক গৃহবধূকে ডেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের পরামর্শে শিশুটির দায়িত্ব নেয় ওই গ্রামের মুকুল জোয়ার্দার ও রাজিয়া খাতুন দম্পতি। শিশুটির নাম রাখা হয় আল হুসাইন। শিশুটির দায়িত্ব নেওয়া মুকুল জোয়ার্দার বলেন, ‘আমরা শিশুটিকে বাঁচানোর অনেক চেষ্টা করেছি। গভীর রাতে যশোর নিয়ে যাওয়ার পথে শিশুটি মারা যায়।’
দিরাই-শাল্লা (সুনামগঞ্জ) : দিরাইয়ে রাস্তার পাশে বনের ঝোপ থেকে এক নবজাতক কন্যাসন্তানকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত শনিবার রাতে মজলিশপুরের নিতাই দাসের বাড়ির পেছনের ঝোপ থেকে ওই নবজাতককে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে পুলিশ। গতকাল রবিবার উন্নত চিকিৎসার জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর ও থানা পুলিশের মাধ্যমে নবজাতক শিশুটিকে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় স্বামী তারিক মিয়া অন্তঃসত্ত্বা কলি বেগমকে দিরাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। রাত ৯টার দিকে কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। সন্তান প্রসবের পর ডাক্তার-নার্স চলে যান। এর কিছুক্ষণ পর কাউকে না জানিয়েই নবজাতকসহ গর্ভধারিণী মা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পালিয়ে যান। পরে রাতেই হাসপাতাল থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে মজলিশপুর থেকে ওই নবাজাতককে উদ্ধার করে পুলিশ।
দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. সুমন রায় চৌধুরী জানান, নবজাতকটি দেখে চিনে ফেলেন সেবিকা শামীমা বেগম। পরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, রাতে প্রসব হওয়া সন্তান ও তার পরিবারের লোকজন হাসপাতালে নেই।