বাজার নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থতায় বাণিজ্যমন্ত্রীর পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। রোববার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় যাদুঘরের সামনে ‘চাল ও পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে’ এক সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়।
তাদের বাকি দাবিগুলো হলো- (২) পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনা, (৩) অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়া, (৪) খোলা বাজারে পেঁয়াজ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বিক্রির আওতা সম্প্রসারণ, (৫) কৃষিপণ্যের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও আমাদানি নির্ভরতা কমানো।
সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর বলেন, ‘২০০৮ সালে সরকার ক্ষমতায় আসতে যে ইশতেহার দিয়েছিল- ১০ টাকায় চাল খাওয়াবে এবং দিন বদলের সনদ দেখিয়েছিল। এমনই দিন বদলের সনদ ছিল যে আজ মানুষকে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে, পেঁয়াজ ছাড়া তরকারি রান্না করতে হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আজকে দেশে গণতন্ত্রের নামে নিয়ন্ত্রিত স্বৈরতন্ত্র চলছে। গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, আর যারা এসবের বিরুদ্ধে কথা বলছে তাদের গুম করা হচ্ছে অথবা প্যাকেট করে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।’
‘আপনারা যারা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি বলেন, তারাই দেশে সর্বোচ্চ নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছেন। আর এসবের বিরুদ্ধে কথা বললেই হামলা-মামলার শিকার হতে হয়।’
সরকারকে হুঁশিয়ার করে নুর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীসহ সব জনপ্রতিনিধিরা এ দেশের মানুষের চাকর, জনগণ ভোট দিয়ে তাদের নির্বাচিত করতে পারেন আবার টেনেহিঁচড়ে গদি থেকে নামাতেও পারে। অথচ ক্ষমতায় গিয়ে তারা নিজেদের রাজা মনে করেন। এসবের বিরুদ্ধে কথা বললেই তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী ও রাষ্ট্রীয় পেটোয়া বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হতে হয়।’
দেশের বিচারব্যবস্থা নিয়ে নুর বলেন, ‘এ দেশের বিচারব্যবস্থা ক্ষমতাসীনদের পকেটে বন্দী। বিচারব্যবস্থা, প্রশাসনব্যবস্থা সবই ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মাধ্যমে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, “আজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবীরা কথা বলে ভোটারবিহীন নির্বাচনকে বৈধতা দেয়ার জন্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১শত শিক্ষক এ নির্বাচন নিয়ে এ ধরনের বিবৃতি দিয়েছিল যে, ‘নির্বাচনের মাধ্যমে এ দেশের গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। মানুষের ভোটাধিকারকে কেড়ে নেয়া হয়েছে’।”
নুর বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মাধ্যমে একটি অকার্যকর সরকার গঠন করা হয়েছে এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কবর দেয়া হয়েছে। আজকে দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র না থাকায় দেশ দুর্বৃত্তায়নের চক্রে ঘুরপাক খাচ্ছে। যার আক্রান্ত হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো।’
সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, ‘পদ্মাসেতুর কথা বলে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে বাংলাদেশের মানুষকে। কিন্তু মানুষ নিত্য প্রয়োজনে যা খায় তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে নাই সরকার।’
সমাবেশের আগে বিক্ষোভ মিছিল হয়। মিছিলে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। সেগুলোর কয়েকটি হলো- ‘উন্নয়নের বাংলাদেশ, পেঁয়াজ কিনতেই টাকা শেষ,’ দুর্গতির সরকার আর নাই দরকার,’ এই মুহূর্তে দরকার জনগণের সরকার,’ পেঁয়াজ কেজি তিনশো কৃষক তুমি কিছো?’ ‘ভারত নির্ভর আমদানি নীতি মানি না মানব না,’ গণবিরোধী সিন্ডিকেট ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’।
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে সংগঠনটির নেতাকর্মী, সাধারণ শিক্ষার্থীসহ প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।