ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ২৫ জুন ২০২৬ ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
চাঁদা পেতে শিল্পপতির স্ত্রী-ছেলেকে তুলে নিয়েছিলেন এসপি হারুন!
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Tuesday, 5 November, 2019, 9:08 AM

চাঁদা পেতে শিল্পপতির স্ত্রী-ছেলেকে তুলে নিয়েছিলেন এসপি হারুন!

চাঁদা পেতে শিল্পপতির স্ত্রী-ছেলেকে তুলে নিয়েছিলেন এসপি হারুন!

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদকে গত রবিবার সন্ধ্যায় ঢাকার সদরদপ্তরে পুলিশ সুপার টিআর হিসেবে বদলি করা হয়। এদিকে অভিযোগ উঠেছে, দাবি করা ৮ কোটি টাকা চাঁদা না দেওয়ায় ঢাকার গুলশানের বাসা থেকে গভীর রাতে আম্বার গ্রুপের কর্ণধার শওকত আজিজ রাসেলের স্ত্রী ও পুত্রকে নারায়ণগঞ্জে তুলে আনেন এসপি হারুন। শুধু তা-ই নয়, ঢাকা ক্লাব থেকে তার ব্যক্তিগত গাড়িটি জব্দ করে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজান এসপি হারুন। তবে গুলশান ও শাহবাগ থানা পুলিশ এ বিষয়ে কিছুই জানে না।

এরআগে শওকত আজিজ গণমাধ্যমকে জানান, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে এসপি হারুন তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। এ কারণেই তার স্ত্রী ফারাহ রাসেল ও ছেলে আনাফ আজিজকে গুলশানের বাসা থেকে উঠিয়ে নিয়ে যান। গত ৫ মে হারুনের বিরুদ্ধে আইজিপির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন শওকত আজিজ রাসেল।

রাসেল জানান, ‘গত শুক্রবার রাতে তার শুলশানের বাসভবনে গভীর রাতে এসপি হারুন হানা দেন। তার সঙ্গে ছিলেন ডিবির পোশাক পরা, সাদা পোশাকধারী ও পুলিশের পোশাক পরা ৬০ থেকে ৭০ জন সহযোগী। এ সময় তার বাসা তছনছ করা হয়।’ বাসভবনে এসপি হারুনের প্রবেশ ও তার স্ত্রী-পুত্রকে তুলে আনার ভিডিও প্রকাশ পেলে এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এসপি হারুন ঐ বাসায় ঢুকে সঙ্গীদের ওপরে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন। তিন দফায় প্রায় ২০ জন সহযোগী তার বাসায় প্রবেশ করেন। এর কিছুক্ষণ পর তার সহযোগীরা রাসেলের স্ত্রী ও পুত্রকে বের করে নিয়ে আসেন।

পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শওকত আজিজ রাসেলের বাসভবনে এসপির হারুনের এই বাহিনী নিয়ে প্রবেশের কথা জানে না গুলশান থানা পুলিশ কিংবা ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি। শওকত আজিজ রাসেলের স্ত্রী ফারাহ রাসেল প্রয়াত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ইমতিয়াজ আহমেদ চৌধুরীর মেয়ে। ছেলে আনাফ আজিজ যুক্তরাজ্য থেকে পড়াশোনা শেষ করে সদ্য দেশে এসেছেন।

অভিযোগ রয়েছে— এসপি হারুন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হলেও রাজধানীর বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে অর্থ আদায় করতেন। প্রতি মাসে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি ঢাকায় এসে নিয়মিত গুলশানের লেকশোর হোটেলে বসেন। সেখানে বসেই চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করেন এবং চাঁদার টাকা নিয়ে নারায়ণগঞ্জে চলে যান। এসপি হারুন নিয়মিতই নাম্বার প্লেটহীন গাড়িতে করে ঢাকায় চলাফেরা করতেন। ১ নভেম্বর রাজধানীর শাহবাগ, মগবাজার ও গুলশান, বনানীতে স্থাপিত পুলিশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

অভিযোগপত্রে শওকত আজিজ রাসেল উল্লেখ করেন, ‘এসপি হারুন আমাকে গুলশান ক্লাবের লামডা হলে ও গুলশানের কাবাব ফ্যাক্টরি রেস্তোরাঁয় ডেকে নিয়ে দুইবার চাঁদা দাবি করেন। ঐ টাকা ডলারে আমেরিকায় এসপি হারুনের নির্ধারিত ঠিকানায় পাঠাতে বলেন। টাকা না দিলে আমার ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান আম্বার ডেনিম ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আমার কোম্পানির ৪৫ জন কর্মীকে গভীর রাতে গাজীপুর থানায় ধরে নিয়ে যান। তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জেলে পাঠান এসপি হারুন।’

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মাহবুবুর রহমান সে সময় বলেছিলেন, ‘অপরাধ প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ কিন্তু এসপি হারুনের বিরুদ্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’

এছাড়াও এসপি হারুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে—তিনি ক্ষমতাসীন দলের লোকজনের বিরুদ্ধে স্থানীয় পত্রিকায় ভয়ভীতি দেখিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করতেন।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status