সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মবার্ষিকীতে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা হয়ে গেল জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ। বিশেষ মর্যাদা হারিয়ে জম্মু-কাশ্মীর রাজ্য পরিণত হল দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। এর ফলে ভারতে রাজ্যের সংখ্যা একটি কমে ২৮ ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সংখ্যা দুটি বেড়ে ৯টিতে দাঁড়াল।
এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত সরকার জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদ করে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ ও ৩৫-এ ধারা বাতিলের প্রায় তিন মাস পর ৩১ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে তা কার্যকর হল।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার মধ্যরাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এখন থেকে জম্মু-কাশ্মীর আনুষ্ঠানিকভাবে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখে বিভক্ত হল। অবিভক্ত জম্মু-কাশ্মীরের ওপর আরোপ করা রাষ্ট্রপতির শাসনও বাতিল করা হল। জম্মু-কাশ্মীরের স্থায়ী বাসিন্দা বা বংশগত অধিকারের বিষয় এখন থেকে আর থাকবে না। অঞ্চল দুটিতে কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগসহ বেশ কয়েকটি ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে। জম্মু-কাশ্মীরে বিধানসভা থাকলেও লাদাখে তা থাকবে না।
এখন থেকে জম্মু-কাশ্মীরের পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলার প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ থাকবে কেন্দ্রের হাতে। সেখানকার ভূমি অঞ্চলটির নির্বাচিত সরকারের অধীন থাকবে। লাদাখও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। সেখানকার সব কার্যক্রম পরিচালনা করবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট গভর্নর।
সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব রাধাকৃষ্ণ মাথুর বৃহস্পতিবার লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তাকে শপথবাক্য পাঠ করান জম্মু-কাশ্মীর হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি গীতা মিত্তাল। এদিন জম্মু-কাশ্মীরের প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেবে শপথ নেন আইএএস কর্মকর্তা গিরিশ চন্দ্র মুর্মুর।
প্রয়াত জাতীয়তাবাদী নেতা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ১৪৪তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার গুজরাটের কেভাডিয়ায় ভাষণ দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে মোদি বলেন, এবার উপত্যকায় উন্নয়নের নবযুগ শুরু হবে। সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ একটা অস্থায়ী দেয়াল তুলে দিয়েছিল। আমাদের ভাইবোন (জম্মু-কাশ্মীরের) সেই দেয়ালের ওপারে থাকতেন। এবার জম্মু-কাশ্মীরে রাজনৈতিক স্থিরতা আসবে। নতুন কলেজ, হাসপাতাল, হাইওয়ে, রেললাইন, কর্মসংস্থান- জম্মু-কাশ্মীরকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপ করে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় কেন্দ্র। রাজ্যটিতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন ও ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। সেখানকার রাজনীতিক ও তরুণদের গণহারে গ্রেফতার করা হয়। চলে নির্যাতন, হতাহত হয় বেশ কয়েকজন। বন্ধ করে দেয়া হয় টেলিভিশন, ফোন ও ইন্টারনেট পরিষেবা।
সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, জম্মু-কাশ্মীরে ২০১৭ সালে পিডিপির নেতৃত্বাধীন সরকার থেকে বিজেপি সমর্থন তুলে নেয়ায় পদত্যাগ করেন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। এরপরই উপত্যকায় কেন্দ্রীয় শাসন জারি হয়। প্রথম ৬ মাস ছিল রাজ্যপালের শাসন। এরপর ৬ মাসের জন্য রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হয়। তবে কেন্দ্রীয় সংসদের অনুমোদনে সেই মেয়াদ আরও বাড়ানো হয়।