গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানার হাজী মাজার বস্তি এলাকায় মাদক ও অপরাধসংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে হামলা, মারধর, আটকে রাখা এবং লুটপাটের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন ঢাকা ট্রিবিউনের এক সাংবাদিক। তাঁর সঙ্গে থাকা আরও দুই সহকর্মীকেও প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ঢাকা ট্রিবিউনের রিপোর্টার রবিউল হাসান (২৬)। অভিযোগে অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে রবিউল হাসান উল্লেখ করেন, গত ৩ নভেম্বর ২০২৬ দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে তিনি সহকর্মী আসিফুল ইসলাম রিফাত (২৬) ও আবির আহমেদ সুপ্তকে (২৩) সঙ্গে নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার মাজার বস্তি এলাকায় মাদক ও অপরাধসংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে যান।
অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা পিস্তল মাথায় ঠেকিয়ে গুলি করার চেষ্টা এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিক রবিউল।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে তাঁদের একটি স্থানে নিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রেখে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে চেতনানাশক জাতীয় কোনো পদার্থ পানির সঙ্গে মিশিয়ে তাঁদের খাওয়ানো হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
রবিউলের দাবি, আটকে রাখার সময় তাঁদের সামনে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য রেখে সেগুলোসহ ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে এসব ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে তাঁদের ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়, তাঁদের কাছে থাকা প্রায় ৪০ হাজার টাকা, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, ক্যামেরা সরঞ্জাম, জাতীয় পরিচয়পত্র, কর্মস্থলের পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জোরপূর্বক নিয়ে নেওয়া হয়। ক্যামেরা ও অন্যান্য সরঞ্জাম ভাঙচুরের অভিযোগও করেছেন তিনি।
অভিযোগে বলা হয়, একই দিন বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ভিডিও কল করে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। ভবিষ্যতে ওই এলাকার মাদক ও অপরাধ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য তাঁদের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে রাজি না হলে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক রবিউল।
পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হলে তাঁরা টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
রবিউল হাসান জানান, ঘটনার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করার পর থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে পুলিশি তদন্তের পর ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, তদন্তাধীন রয়েছে বিষয়টি আমরা মামলা নিবো। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় বিষয়টি উদঘাটনে একটু সময় লাগছে।