|
টাঙ্গাইলে শহীদুল হত্যায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() টাঙ্গাইলে শহীদুল হত্যায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে শহীদুল ইসলাম মন্ডলকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে। হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন পরও প্রধান অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, হত্যার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারের খোঁজ নেওয়া হয়নি। এমনকি আসামিদের পক্ষ থেকে হুমকি অব্যাহত থাকলেও পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের চরহামজানি গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত শহীদুল ইসলাম মন্ডল (৬২) ওই গ্রামের কাশেম আলী মন্ডলের ছেলে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জমির ওয়ারিশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শহীদুল ইসলামের সঙ্গে তার আত্মীয় ইউসুফ আলীর বিরোধ চলছিল। শনিবার সন্ধ্যায় নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় শহীদুলের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, শহীদুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে তার ফুফাতো ভাই মৃত আমজাদ আলীর ছেলে ইউসুফ আলী ও তার সহযোগীরা জড়িত। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে বলেও জানায় পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ইউসুফ আলীকে গ্রেপ্তার না করায় ক্ষুব্ধ নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ-প্রশাসনের কেউ নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের কোনো খোঁজ নেননি। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন পরিবারের সদস্যরা। এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, অতীতের নানা ঘটনায় স্থানীয় অনেক মানুষ তার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এমনকি নিজের বাবাকে গলা টিপে হত্যা ও দুই চাচাকে পিটিয়ে আহত করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নিহতের ছেলে ও মেয়ের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের পরও বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা পুলিশকে জানানো হলেও এখনো তারা সহযোগিতা পাচ্ছেন না। পরিবারের অভিযোগ, একজন স্বজনকে হারিয়ে তারা যখন শোকাহত, তখন আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় তাদের আতঙ্কের মধ্যেই থাকতে হচ্ছে। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হালিম জানান, মামলার অভিযুক্ত ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে আরও চার থেকে পাঁচটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একাধিক হত্যা মামলাও রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা কিংবা কোনো ধরনের অসহযোগিতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এসআই হালিম। তিনি বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে কেউ আসামিদের সহযোগিতা করছে—এমন কোনো বিষয় তার জানা নেই এবং তিনি নিজেও এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। এসআই হালিম আরও জানান, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে পুলিশ ইতোমধ্যে ইউসুফ আলীর অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে পুলিশ সেখানে পৌঁছানোর আগেই তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তাকে ওই অবস্থানে পাওয়া যায়নি। কীভাবে অভিযানের তথ্য ফাঁস হলো, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি এই কর্মকর্তা। এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বুধবার বিকেলে উপজেলার পটল বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন স্থানীয়রা। কর্মসূচি থেকে তারা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান এবং তা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার
ফুডপান্ডার আম্বারিন-জুবায়েরসহ শীর্ষ ৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
গুইমারার রামসু বাজারে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ঢেউটিন ও তরুণদের ক্রীড়া সামগ্রী দিল সেনাবাহিনী
ময়মনসিংহের কলেজ রোডে আদালতের আদেশ অমান্য করে বির্ল্ডিং নির্মাণের অভিযোগ
