|
বসিয়েছিলেন ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা, ঘুমাতেন কবুতরের ঘরে, তবু শেষরক্ষা হয়নি
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() বসিয়েছিলেন ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা, ঘুমাতেন কবুতরের ঘরে, তবু শেষরক্ষা হয়নি গতকাল সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে ওহিদুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া গ্রামের রব্বেল মোল্লার ছেলে। সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করে তাঁকে আদালতে পাঠানোর কথা জানিয়েছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ওহিদুল মোল্লা ইমো হ্যাকিং চক্রের রাজধানীখ্যাত বিলমাড়িয়া গ্রামের হ্যাকার সম্রাট। তাঁর অধীনে এলাকায় কয়েক শ হ্যাকার চক্র গড়ে উঠেছে। সবাই তাঁকে গুরু হিসেবে মানেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বিঘ্নে হ্যাকিং কার্যক্রম চালাতে এবং গ্রেপ্তার এড়াতে নানা কৌশল অবলম্বন করেন ওহিদুল মোল্লা। প্রধান সড়ক থেকে নিজ বাড়ি পর্যন্ত স্থাপন করেন অন্তত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা। যেন পুলিশ প্রধান সড়ক থেকে নামামাত্র তিনি পালাতে পারেন। প্রাচীরঘেরা পাকা বাড়ির একটি কক্ষে কয়েক শ কবুতর রাখার বাসা বানিয়েছেন। এর মধ্যে একটি খাটে তিনি ঘুমান। বাইরে থেকে দেখে কেউ বুঝতে পারবেন না, সেখানে মানুষের থাকার ব্যবস্থা আছে। আরাম–আয়েশের জন্য সেই ঘরে দামি আসবাব, সিসিটিভি মনিটর ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বসিয়েছেন। এখানে বসে তিনি হ্যাকিং করে অন্যের মুঠোফোনের নিয়ন্ত্রণ নিতেন। ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় বিভিন্ন অপারেটরের ৬৮টি সিম কার্ড। সেগুলোর নম্বর সাদা কাগজে ছক করে লিখে রেখেছেন। কোনটা বিকাশ, কোনটা নগদ, হিসাব রাখতে সাংকেতিক চিহ্ন দেওয়া আছে। যাতায়াতের জন্য দামি মোটরসাইকেল ব্যবহার করতেন। ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় লালপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল মাসুম বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা করেছেন। মামলায় ওহিদুল মোল্লা ছাড়াও তাঁর পাঁচ সহযোগীকে আসামি করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
