ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
টাকা দিলেই কল রেকর্ড-লোকেশন: কীভাবে চলতো এই চক্র?
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Sunday, 13 September, 2026, 7:53 PM

টাকা দিলেই কল রেকর্ড-লোকেশন: কীভাবে চলতো এই চক্র?

টাকা দিলেই কল রেকর্ড-লোকেশন: কীভাবে চলতো এই চক্র?

অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রাহক সংগ্রহ করা হতো। এরপর নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হতো নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য, কলের তথ্য থেকে শুরু করে সর্বশেষ লোকেশন পর্যন্ত। এমন একটি সংঘবদ্ধ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। গ্রেফতারকৃতরা হলেন আব্দুস সালাম সরকার, সুব্রত চন্দ্র পাল, ইসমাইল হোসেন সোহাগ, এসএম নাফি ও মো. মেহেদী হাসান।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলায় র‍্যাব-২ সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।

তিনি বলেন, ডার্ক ওয়েবে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির বিষয়টি জানার পর এসব তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করে র‍্যাব। প্রাথমিক পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন লিংক ও ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে কারা এবং কীভাবে নাগরিকদের তথ্য অনলাইনে বিক্রি করছে, তা শনাক্ত করা হয়।

এরপর সংঘবদ্ধ এই তথ্য পাচারকারী চক্রকে গ্রেফতারে সারাদেশে অভিযান শুরু করে র‍্যাব। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চক্রটির পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে র‍্যাব জানায়, আব্দুস সালাম সরকার নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে বিক্রির উদ্দেশ্যে ই-সেবা২৪.টপ নামে একটি এনক্রিপ্টেড ওয়েবসাইট তৈরি করেন। সেখানে অর্ডার দিলে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো।

র‍্যাব-২-এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান বলেন, আব্দুস সালাম সরকার ও তার পরিচিত কিছু ব্যক্তি ই-সেবা২৪.টপ ওয়েব পেজ এবং বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে মোবাইল সিমের সর্বশেষ কলের লোকেশন, রেডিও লোকেশন, আইএমইআই সার্চ তথ্য, কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর), সিমের মালিকানাসংক্রান্ত তথ্য, মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ ও নগদ রেজিস্ট্রেশনসংক্রান্ত তথ্য এবং লেনদেনের বিবরণী বিক্রি করতেন।

এ ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্যসহ নাগরিকদের বিভিন্ন গোপনীয় তথ্য অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হতো।

র‍্যাব জানায়, চলতি বছরের এপ্রিল মাসেই ওয়েবসাইটটি তৈরি করা হয়। সালাম নিজেই ওয়েবসাইটটির অ্যাডমিন। তিনি ২০১৮ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন অফিসে অস্থায়ী ভিত্তিতে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

অন্যদিকে গ্রেফতার সুব্রত, ইসমাইল, নাফি ও মেহেদী ফেসবুক মার্কেটপ্লেস ও বিভিন্ন ফেসবুক পেজে বিজ্ঞাপন দিয়ে এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অর্ডার সংগ্রহ করতেন। এরপর নাগরিকদের গোপনীয় তথ্য বিক্রি করতেন তারা।

অর্থ আদান-প্রদানের জন্য চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন নামে-বেনামে সিম ও মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে আসছিলেন।

নয়মুল হাসান বলেন, এনআইডি, সিডিআর, লোকেশন এবং অন্যান্য সার্ভিসের জন্য তারা বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগাযোগ করতেন। সেখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তা গ্রাহকের কাছে বিক্রি করা হতো।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা কীভাবে এসব তথ্য সংগ্রহ করতেন, জানতে চাইলে র‍্যাব-২-এর অধিনায়ক বলেন, ‘সরকারি সার্ভার থেকে কারা অর্থের বিনিময়ে তথ্য ফাঁস করেছে, তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন নির্বাচন কমিশনে চুক্তিভিত্তিক কাজ করতেন। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি এসব কাজ করে থাকতে পারেন।’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যের যোগসাজশ আছে কিনা; জানতে চাইলে নয়মুল হাসান বলেন, এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কারও যোগসাজশ পাওয়া যায়নি।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status