ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০ ভাদ্র ১৪৩৩
বহুজাতিক ও করপোরেট কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে ‘আসতেই হবে’: বিএসইসি চেয়ারম্যান
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Friday, 4 September, 2026, 8:17 PM

বহুজাতিক ও করপোরেট কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে ‘আসতেই হবে’: বিএসইসি চেয়ারম্যান

বহুজাতিক ও করপোরেট কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে ‘আসতেই হবে’: বিএসইসি চেয়ারম্যান

বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা করা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতেই হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি বলেন, এসব কোম্পানিকে প্রথমে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পুঁজিবাজারে আসতে উৎসাহিত করা হবে। তবে তারা না এলে জনস্বার্থে আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগও রয়েছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) নারায়ণগঞ্জের সুবর্ণগ্রামে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরামের (সিএমজেএফ) সদস্যদের জন্য আয়োজিত 'ক্যাপিটাল মার্কেট প্রোডাক্ট অ্যান্ড রুলস' শীর্ষক দুই দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বিএসইসি আয়োজিত এই কর্মশালাটি ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, 'বাংলাদেশে অনেক বড় বড় দেশীয় ও বহুজাতিক কোম্পানি রয়েছে। এসব ভালো কোম্পানিকে দ্রুত পুঁজিবাজারে আনা না গেলে বাজারের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে কয়েকটি বড় ও ফ্ল্যাগশিপ কোম্পানিকে বাজারে আনার চেষ্টা করবে বিএসইসি।'

বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, 'আপনারা স্বতঃপ্রণোদিতভাবে আসেন। তবে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে না এলে সেটার অস্ত্রও আমাদের হাতে আছে।' তিনি জানান, সিকিউরিটিজ আইনের ক্ষমতা প্রয়োগ করে জনস্বার্থে নির্দিষ্ট কোনো কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার সুযোগ কমিশনের রয়েছে। এ লক্ষ্যে 'পাবলিক ইন্টারেস্ট কোম্পানি (পিআইসি)'-এর সংজ্ঞা আইনের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

বড় কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আসার আহ্বান জানিয়ে মাসুদ খান বলেন, তালিকাভুক্ত হলে একটি কোম্পানি করপোরেট ইমেজ পায় এবং তার সঠিক বাজারমূল্য নির্ধারিত হয়। এই বাজারমূল্য কাজে লাগিয়ে কোম্পানি অন্য প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ বা একীভূত করতে পারে। এছাড়া কোনো অংশীদার ব্যবসা থেকে বের হতে চাইলে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে সহজে বের হওয়ার সুযোগ পান।

পারিবারিক ব্যবসার উত্তরাধিকার নিয়ে তিনি বলেন, অনেক বেসরকারি কোম্পানিতে প্রজন্ম পরিবর্তনের সঙ্গে মালিকদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয় এবং ব্যবসা খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যায়। তালিকাভুক্ত হলে যেসব অংশীদার ব্যবসায় থাকতে চান না, তাদের জন্য শেয়ার বিক্রি করে বের হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

বড় কোম্পানিকে বাজারে আনতে 'সরাসরি তালিকাভুক্তি' ও 'হাইব্রিড পদ্ধতি' চালুর উদ্যোগের কথা জানান চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, প্রচলিত আইপিও প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগে, তাই ভালো কোম্পানির জন্য সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া হাইব্রিড ব্যবস্থায় কোম্পানি একই সঙ্গে নতুন মূলধন সংগ্রহ এবং বিদ্যমান শেয়ার সরাসরি তালিকাভুক্ত করতে পারবে।

আইপিও প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও দ্রুত করতে 'এক্সটেন্ডেড অডিট' চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু কাগজে-কলমে আর্থিক বিবরণী দেখলে হবে না; কোম্পানির জমি, যন্ত্রপাতি, মজুতপণ্য ও পাওনা-দেনার তথ্য বাস্তবে সঠিক কি না, তাও যাচাই করা হবে। এ জন্য আইপিও আবেদনকারী কোম্পানির সম্পদ ও আর্থিক তথ্যের বাস্তবতা যাচাই করে অডিটরদের প্রত্যয়ন করার ব্যবস্থা করা হবে। এতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) আইপিও যাচাই–প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হবে।

বাংলাদেশের পুঁজিবাজার এখনো মূলত খুচরা বিনিয়োগকারী-নির্ভর উল্লেখ করে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, বাজারকে টেকসই করতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এ জন্য প্রভিডেন্ট ফান্ড ও অন্যান্য তহবিলের অর্থ শেয়ারবাজারের পাশাপাশি করপোরেট বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, উন্নত দেশের পুঁজিবাজারে পেনশন ফান্ড ও বিমা কোম্পানি বড় বিনিয়োগকারী। বাংলাদেশেও এসব প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীকে বাজারে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।

দায়িত্ব নেওয়ার পর ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে মাসুদ খান বলেন, এর ফলে আন্তর্জাতিক সূচক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এমএসসিআই বাংলাদেশের বাজার নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থা প্রত্যাহারের পথে গেছে। নভেম্বর ২০২৬ থেকে বাংলাদেশের সূচকের নিয়মিত পর্যালোচনা ও করপোরেট ইভেন্ট বাস্তবায়ন আবার শুরু হবে। 

এ ছাড়া ডিএসইকে আরও ক্ষমতায়ন, বাজার তদারকি ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সার্ভেইলেন্স ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।

করপোরেট বন্ড বাজারের উন্নয়নেও কাজ চলছে জানিয়ে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, মূল বোর্ডে তালিকাভুক্তির ফি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মূল বোর্ডে আসবে এবং দেশের বন্ড বাজারও ধীরে ধীরে বড় হবে বলে আশা করেন তিনি।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status