|
অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করে দিলো বাংলাদেশ
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করে দিলো বাংলাদেশ ডারউইনের মারারা ওভাল স্টেডিয়ামে ট্রাভিস হেড, স্টিভেন স্মিথ, মার্নাস ল্যাবুশেন কিংবা অ্যালেক্স ক্যারেদের দিয়ে সাজানো বিখ্যাত ব্যাটিং লাইনআপকে রীতিমত বিধ্বস্ত করে ছেড়েছে বাংলাদেশ। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামা অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করে দিয়েছে টাইগার পেসাররা। পেসার হাসান মাহমুদ একাই নিলেন ৬ উইকেট। ২টি করে উইকেট নিলেন অপর দুই পেসার তাসকিন আহমেদ এবং এবাদত হোসেন। মারারা ওভালে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার সামনে বাংলাদেশ যেন এখন বিশাল এক প্রতিপক্ষ। অবিশ্বাস্যভাবে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা। প্রথম টেস্টের প্রথম দিনেই তৃতীয় সেশনের খানিক পরই অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করে দেয় বাংলাদেশের বোলাররা। যদি তানজিদ হাসান তামিম স্টিভেন স্মিথের ক্যাচটা না ছাড়তেন, তাহলে হয়তো আরও অনেক আগেই অস্ট্রেলিয়াকে অলআউটও করতে পারতো বাংলাদেশ। তবুও স্বাগতিক অসিদের ২০০ রানের আগেই অলআউট করার কৃতিত্ব দেখাতে পেরেছে বাংলাদেশের বোলাররা। সর্বোচ্চ ৭১ রান করেন স্টিভেন স্মিথ। মারারা স্টেডিয়ামের ড্রপ ইন পিচে কেমন করবে বাংলাদেশ? টাইগার পেসাররা অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটিং লাইনআপকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে কি না, তা নিয়ে ছিল নানা সন্দেহ-সংশয়। তারওপর প্রশ্ন ছিল, তিন নম্বর পেসার হিসেবে কাকে খেলানো হবে? খালেদ আহমেদ নাকি এবাদত হোসেনকে। সব জ্বল্পনা-কল্পনা পেরিয়ে শুরু হয় ডারউইন টেস্ট। টস জেতেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক প্যাট কামিন্স এবং টস জিতেই নিলেন প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত। পরিকল্পনা ছিল, বাংলাদেশের সামনে বিশাল একটি ইনিংস দাঁড় করিয়ে শুরুতেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া। কিন্তু প্যাট কামিন্সের পরিকল্পনায় জল ঢেলে দেন বাংলাদেশের পেসাররা। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার কিছুটা ধীরস্থিরভাবে শুরু করেছিলেন। তবে ১২তম ওভারে গিয়ে ৪৫ রানের মাথায় উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন হাসান মাহমুদ। ২৩ রান করা জ্যাক ওয়েদারল্যান্ডকে উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন হাসান মাহমুদ। এরপর ৫২ রানের মাথায় ট্রাভিস হেডকে সরাসরি বোল্ড করে সাজঘরের রাস্তা দেখিয়ে দেন হাসান। ওয়ান ডাউনে নামা মার্নাস লাবুশেস প্রথম থেকেই ধুঁকছিলেন। শেষে ২০ বলে খেলে মাত্র ১ রান করে এবাদত হোসেনের বলে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। চতুর্থ উইকেটে জুটি বাধার চেষ্টা করছিলেন স্টিভেন স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিন। কিন্তু তারা স্কোরবোর্ডে যোগ করেন মাত্র ১৩ রান। দলীয় ৭৪ রানের মাথায় তাসকিন আহমেদের বলে মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য হন ক্যামেরন গ্রিন। ১৩ বলে ১৩ রান করেন তিনি। ২২তম ওভারের শেষ বলে অস্ট্রেলিয়ার চতুর্থ উইকেট পড়ার পরই লাঞ্চ বিরতির ঘোষণা দেন আম্পায়াররা। অর্থ্যাৎ অস্ট্রেলিয়ার মত দলের এবং তাদেরই মাঠে প্রথম সেশনে ৪ উইকেট নিয়ে স্পষ্টত এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। এই দারুণ অনুভূতি নিয়েই লাঞ্চ বিরতিতে যায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তবে লাঞ্চ বিরতি থেকে ফেরার পর ম্যাচটা নিজেদের দিকে টেনে নিতে শুরু করেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারে জুটি। তাদের ব্যাটে গড়ে ওঠে ৫৫ রানের জুটি। ধীরে ধীরে তারা ম্যাচকে বের করে নিতে থাকে বাংলাদেশের বোলারদের হাত থেকে। অবশেষে দলীয় ১২৯ রানের মাথায় আঘাত হানেন এবাদত হোসেন। ৪৩ বলে ১৯ রান করা ক্যারেকে সরাসরি বোল্ড করেন তিনি। এবাদত স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারের ভয়ঙ্কর জুটিটা ভাঙার পর অস্ট্রেলিয়ানদের স্বস্তিতে থাকতে দেননি তাসকিন আহমেদ। সাত নম্বরে ব্যাট করতে নামা বিউ ওয়েবস্টারকে সরাসরি বোল্ড করে দেন বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ পেসার। যার ফলে ১৫২ রানেই সাজঘরে ফিরে যান অস্ট্রেলিয়ার ৬ষ্ঠ ব্যাটার। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
