|
কেয়া থেকে কাবির, নতুন পরিচয়ে এসএসসিতে জিপিএ ৪.৫৬
ফাহিম ফরহাদ, গাজীপুর
|
![]() কেয়া থেকে কাবির, নতুন পরিচয়ে এসএসসিতে জিপিএ ৪.৫৬ গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের কামরাঙ্গাচালা এলাকায় বসবাসকারী কাবির এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৪.৫৬ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসির ফল প্রকাশের পর কাবিরকে ঘিরে এলাকায় নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়। দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই তাকে দেখতে ও বিষয়টি জানতে বাড়িতে ভিড় করছেন। গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আনাগোনায় অনেকটা ব্যস্ত হয়ে পড়েছে পরিবারটি। পরিবার সূত্রে জানা যায়, কাবির টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বেলতলা এলাকার কাইয়ুম দেওয়ান ও কণিকা ইসলাম দম্পতির সন্তান। বর্তমানে তারা কালিয়াকৈরের মৌচাক ইউনিয়নের কামরাঙ্গাচালা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। অযথা কৌতুহলবসত পরিবারের সদস্যদের বিরক্ত না করারও অনুরোধ জানান পরিবারটি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নথিতে এতদিন কেয়া আক্তার নামেই পরিচিত ছিল কাবির। ওই নামেই ধানসিঁড়ি পাবলিক স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় সে। পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০২৫ সালের শেষ দিকে কাবিরের (কেয়া) শরীরে ধীরে ধীরে বিভিন্ন পরিবর্তন লক্ষ্য করতে শুরু করেন তারা। প্রথমে বিষয়টি পরিবারের মধ্যেই রাখা হয়। পরবর্তীতে কণ্ঠস্বরসহ শারীরিক বিভিন্ন পরিবর্তন স্পষ্ট হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমানে তার নাম রাখা হয়েছে আব্দুর রহমান কাবির দেওয়ান। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কাবিরের স্বপ্নও স্পষ্ট। সে জানায়, পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায় এবং ভবিষ্যতে ভালো চাকরি করে পরিবার ও দেশের জন্য কাজ করতে চায়। কাবির দেওয়ান বলেন, “আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই। এসএসসির ফলাফল ভালো হয়েছে। ভবিষ্যতে ভালো চাকরি করে পরিবার ও দেশের জন্য কাজ করতে চাই।” ধানসিঁড়ি পাবলিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, কাবির এতদিন কেয়া নামেই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছে। কয়েক দিন আগে তার শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়টি তারা জানতে পারেন। বর্তমানে তার নাম কাবির দেওয়ান। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় সে ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা থাকলেও পরিবারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখন কাবিরের ভবিষ্যৎ। পরিবারের সদস্যরা চান, অযথা কৌতূহল কিংবা ভিড়ের কারণে তার পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যেন ব্যাহত না হয়। নতুন পরিচয়ে নতুন স্বপ্ন নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চায় কাবিরও। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
